
মিলন বৈদ্য শুভ, চট্টগ্রাম:
প্রবাসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার রেমিট্যান্স যোদ্ধা ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে চট্টগ্রামের উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একসঙ্গে চার সন্তানের মৃত্যু সংবাদে স্তব্ধ হয়ে গেছে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার বন্ধেরাজার পাড়া লালানগর ৫ নম্বর ওয়ার্ড। পুরো এলাকায় এখন বইছে শোকের মাতম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত চার ভাই দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সেই চলতো পুরো পরিবার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে নিভে গেল চারটি তরতাজা প্রাণ।
এলাকাবাসী জানান, মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে নীরবতা। অনেক পরিবারের চুলাও জ্বলেনি। স্বজনদের কান্না আর শোকাহত মানুষের ভিড়ে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। ইতোমধ্যে চার ভাইয়ের দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গ্রামের বাড়িতে কবর খননের কাজ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী বুধবার ভোর নাগাদ চার ভাইয়ের কফিনবন্দি মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছাবে। তাদের শেষ বিদায় জানাতে অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলাতেই সন্তানদের বাবা মারা যান। এরপর অসীম কষ্ট আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বৃদ্ধা মা সন্তানদের মানুষ করেন। বড় হয়ে চার ছেলে প্রবাসে গিয়ে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু এক নিমিষেই সেই মায়ের চার অবলম্বন হারিয়ে যাওয়ায় পুরো পরিবারে নেমে এসেছে অসহনীয় শোক।
এদিকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে “বেঙ্গল পরিবার”। এক শোকবার্তায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “একই পরিবারের চার রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ তাআলা যেন মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন।”
বেঙ্গল পরিবারের সদস্যরা নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
Reporter Name 



























