রাজিব সরকার,কচুয়া প্রতিনিধি
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ২নং পাথৈর ইউনিয়নে একটি মাছের প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. সেলিম সরকারের মালিকানাধীন একটি মাছের প্রজেক্ট স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক লিজ নিয়ে পরিচালনা করছিলেন। লিজগ্রহীতাদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা জাকারিয়া, মাওলানা আল-আমিন, মাওলানা আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রজেক্টটির দেখভাল করে আসছিলেন।
সম্প্রতি তারা পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩৫ কেজি পাঙ্গাসের পোনা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পুকুরে অবমুক্ত করেন। মাছ ছাড়ার ১৫ থেকে ১৬ দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে মাওলানা জাকারিয়া খবর পান যে পুকুরের মাছগুলো মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। খবর পেয়ে তিনি মাওলানা আল-আমিন, গাজী ইমরান ও মাওলানা আব্দুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তারা পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ মৃত মাছ উদ্ধার করেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দুর্বৃত্তরা শত্রুতাবশত পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলো মেরে ফেলেছে। তবে মাছ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় শুয়ারুল সওদাগর বাড়ির মোকসেদ সওদাগরের ছেলে মোস্তফা সওদাগর এবং মেয়ে শাহানা সওদাগরকে সন্দেহ করে তাদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় ‘মাছ মারা’ আইনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
মাওলানা জাকারিয়া বলেন, “আমরা পরীক্ষামূলকভাবে মাছ চাষ শুরু করেছিলাম। আমাদের কারও সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা শত্রুতা নেই। তবে জায়গার মালিক মো. সেলিম সরকারের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে আমরা সন্দেহ করছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করতে কচুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কী কারণে মাছগুলো মারা গেছে সে বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তারা।
কচুয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, মাছ মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ করা হলেও বিষয়টি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Reporter Name 

























