
কালিগঞ্জ ব্যুরো:
কালিগঞ্জে সার ও ধান বাজারে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক,উপজেলায় ৭৫ কোটি টাকার আর্থিক ধস। সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় সরোজমিনে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের মাঠে যেয়ে দেখা যায় উপজেলায় চলতি মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বরং সার সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং ধানের কম দামে বিক্রির কারণে প্রান্তিক কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়েছে কৃষকদের। উপজেলার মোট আবাদি জমির হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ২৭ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, সরকার নির্ধারিত ধানের দাম কেজি প্রতি ৩৬ টাকা হলেও কৃষকরা বাধ্য হয়ে ২৫-২৬ টাকায় ধান বিক্রি করছেন। এতে আরও প্রায় ৪৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর প্রায় ৭,২৫৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যা বিঘায় প্রায় ৫৪ হাজারের বেশি। প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ৮৮০ কেজি ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্যের কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। দৈনিক দৃষ্টিপাত কে মথুরেশপুর ইউনিয়নের কৃষক ফরিদ তরফদার বলেন, “বস্তাপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হয়েছে। রসিদ চাইলে ডিলাররা নানা অজুহাত দেন।”ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, “আমরা মাঠে পরিশ্রম করি, কিন্তু দাম ঠিক করে অন্যরা।”কুশুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “সার কিনতে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে, আবার ধান বিক্রির সময়ও কম দাম পাচ্ছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে এই অনিয়মগুলো সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি কম থাকায় তারা সরকারি মূল্য, রোগবালাই প্রতিকারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন,সারের অতিরিক্ত দাম নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দীন বলেন, “বাজারে কোনো সংকট নেই। কৃষকরা অতিরঞ্জিতভাবে বিষয়টি তুলে ধরছেন।”এদিকে জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, “সরকারি দামে সার বিক্রি ও ধান ক্রয়ের নির্দেশনা রয়েছে। কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি খাতের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কালিগঞ্জ ব্যুরো শেখ শরিফুল ইসলাম 




























