
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
সান্তাহারে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা মামলায় আতঙ্ক জনমনে ।
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেনকে (৫৯) পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় রাজু, শুভ, নীরবসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হলেও, মামলার মাত্র ৩৫ ঘণ্টার মধ্যেই আদালত থেকে ৯ আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়াকে ঘিরে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
গুরুতর আহত ইকবাল হোসেন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পেটে ১৪টি সেলাই দেওয়ায় শারীরিকভাবে অতিমাত্রায় দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আসামিদের দ্রুত জামিনে মুক্তি পাওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
এদিকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামলার প্রধান আসামির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একাধিক পোস্ট নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এক পোস্টে তিনি লিখেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের তৈরি করা মিথ্যা মামলার ৩৫ ঘণ্টার মধ্যে ৯ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকি রইল ৪ জন, Wait..”
পরবর্তীতে আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন,
“প্রতিশোধের প্রশ্নই উঠে না। আমি আমার উপরওয়ালার ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী। সঠিক সময় হলে খেলা ঘুরিয়ে দিবেন।”
আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন,
“ইনশাআল্লাহ চায়ের আড্ডায় অনেক কথা হবে।”
তার এমন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এসব বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “ঘা না শুকাতেই জামিনে মুক্তি, কী ক্ষমতা রে বাবা!”
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২ মে) দুপুরে উপজেলার সান্তাহার রেলগেট এলাকার পুরাতন সুইচ কেবিনের সামনে রেলওয়ের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেনের সঙ্গে একই শহরের হলুদঘর ও ইয়ার্ড কলোনি এলাকার এসএম সামার রাজু, শুভ, নীরবসহ বেশ কয়েকজন যুবকের বাকবিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে পেটে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। এসময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় রবিবার রাতে রেলওয়ে থানায় ভুক্তভোগীর ছোট ভাই আজিজুল হক রাজা বাদী হয়ে রাজু, শুভ, নীরবসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, আসামিদের মধ্যে ৯ জন জামিন পেয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
Reporter Name 





















