Dhaka ০১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বহু সংগ্রাম পেরিয়ে আলোর পথে—ডাঃ আলপনা মোসাদ্দেক এক অনন্য প্রেরণার নাম অনিয়ম ও ভূল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের ৩ জন প্রত্যাহার রাণীশংকৈলে ৯ বছর ধরে বন্ধ সিজার সেবা: গাইনি চিকিৎসকের অভাবে ঝুঁকিতে প্রসূতি সেবা চট্টগ্রাম বিভাগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন কক্সবাজারের ইসমাইল তেল মজুতকারীরাই সন্ত্রাসী : হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া আজিজনগর ‘ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত সঙ্গীত কলেজে শিক্ষক বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জাদুকাটায় নৌপথে ভয়াবহ চাঁদাবাজি কেশবপুরে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনী কল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প দোয়ারাবাজারে মসজিদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এলাকাবাসী’র মানববন্ধন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ঘুষ নয় নির্ধারিত ফি”র দাবি করেছে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ এর আহ্বায়ক — অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:০০:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৫ Time View

 হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:


মানুষের জীবনে কিছু কাগজপত্র শুধু কাগজ নয়; এগুলো তার পরিচয়, অধিকার এবং নাগরিক মর্যাদার অংশ। জন্ম সনদ তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একজন মানুষের জন্ম, পরিচয়, নাগরিকত্ব, শিক্ষা, পাসপোর্ট, চাকরি, সম্পত্তি, উত্তরাধিকারসহ জীবনের বহু প্রয়োজনীয় কাজের সঙ্গে জন্ম সনদের সম্পর্ক রয়েছে। তাই জন্ম সনদ পাওয়া বা ডিজিটাল করা নাগরিকের মৌলিক প্রশাসনিক অধিকার।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, অনেক সময় এই সাধারণ অধিকার পেতে গিয়েও মানুষকে অনিয়ম, হয়রানি, মিথ্যা কথা, দালালি এবং ঘুষের মুখোমুখি হতে হয়। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক এডভোকেট এএনএম ঈসা নিজের জন্ম সনদ ডিজিটাল করার জন্য ১৫০০ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে বাপসনিউজকে জানিয়েছেন।যদি এই টাকা সরকার নির্ধারিত বৈধ ফি হয়, তাহলে তা পরিষ্কারভাবে জানানো হোক। আর যদি এটি ঘুষ হয়, তাহলে এটি শুধু বেআইনি নয়, মানব জাতির বিবেক, ঈমান এবং নৈতিকতার বিরুদ্ধেও একটি বড় পরীক্ষা।

তিনি বলেছেন , পাপ বাড়াতে চাই না। আমি ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে চাই না। কারণ ঘুষ দেওয়া যেমন পাপ, ঘুষ নেওয়াও পাপ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, টাকা না দিলে যদি কাজ না হয়, তাহলে একজন সাধারণ মানুষ কী করবে? সে কি নিজের অধিকার পাওয়ার জন্য ঘুষ দেবে, নাকি কাজ বন্ধ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? এই অবস্থাই মানুষকে অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়।

তাই আমি বলছি, প্রয়োজন হলে সরকারিভাবে জন্ম সনদের ফি ১৫০০ টাকা করা হোক। তাহলে মানুষ অন্তত জানবে যে সে বৈধ ফি দিচ্ছে, ঘুষ দিচ্ছে না। আর যদি সরকারি নির্ধারিত ফি কম হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে বাধ্য করা হোক যেন সেই নির্ধারিত ফিতেই কাজ সম্পন্ন করে। মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। নাগরিককে ঘুষের পথে ঠেলে দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুনঃ  পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে তিনদিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আমার বক্তব্য খুব পরিষ্কার:
ঘুষের নামে টাকা নয়, সরকারি রসিদের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি চাই।
অন্যায় নয়, বৈধ ব্যবস্থা চাই।
দুজোখের আগুন নয়, বৈধ পথ চাই।
আমি “তোআ-আতো” নীতি বা তরিকার একজন বিশ্বাসী। “তো” মানে তোমার, “আ” মানে আমার। অর্থাৎ:
তোমারটা তোমার, আমারটা আমার।
তুমি আমার পাওনা নেবে না, আমিও তোমার পাওনা নেব না।
তুমি আমার অধিকার নষ্ট করবে না, আমিও তোমার অধিকার নষ্ট করব না।
এই নীতির মূল শিক্ষা হলো, মানুষের নেয‍্য পাওনা,সম্পদ, অধিকার ও আমানতের প্রতি সম্মান দেখানো। একজন নাগরিক জন্ম সনদ পাবে, এটি তার অধিকার। কোনো কর্মকর্তা যদি সেই অধিকার আটকে রেখে, টাকা দাবি করেন, তাহলে তিনি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম করছেন না; তিনি মানুষের পাওনা নষ্ট করছেন। আর মানুষের হক নষ্ট করা ধর্মীয়য দৃষ্টিতে অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়।
শুধু এবাদত ও আর্শিবাদ করলেই যথেষ্ট নয়, যদি মানুষের পাওনা নষ্ট করা হয়। মানুষের পাওনা এমন বিষয়, যা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষমা না করলে সেই দায় থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। সুতরাং পাওনা আদায় করতে না পারলে আপনি কোনদিনই বেহেস্তে যেতে পারবেন না l তাই অন্যের পাওনা নেওয়া, ঘুষ নেওয়া, ঘুষ দিতে বাধ্য করা, অধিকার আটকে রাখা—এসব শুধু সামাজিক অপরাধ নয়; এগুলো হিসাবের বিষয়।
আমার আব্বা হজে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, তাঁর ৩০,০০০ টাকা ঋণ আছে। তিনি ঋণমুক্ত হয়ে হজে যেতে চেয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। আজ আমি কৃতজ্ঞ যে আমার আব্বার মনেও মানুষের হক আদায় করার এমন নৈতিকতা ছিল। আজ আল্লাহ পাক আমাকে হক, হালাল এবং ন্যায়ের কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। আমি দোয়া করি, আল্লাহ যেন এই কথাগুলোকে ইবাদতের অংশ হিসেবে কবুল করেন।
এই কারণেই আমি তওবা কমিশনের কথাও বলি। তওবা কমিশনের উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং মানুষকে সতর্ক করা, ভুল থেকে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া এবং সমাজের নেতা, প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মনে করিয়ে দেওয়া—ক্ষমতা মানুষের হক নষ্ট করার জন্য নয়, মানুষের সেবা করার জন্য।
জন্ম সনদের মতো সাধারণ একটি কাজে যদি মানুষ ঘুষ দিতে বাধ্য হয়, তাহলে সমাজে নৈতিকতা কীভাবে থাকবে? একজন মানুষ যখন নিজের বৈধ অধিকার পেতে ঘুষ দেয়, তখন সে ভিতরে ভিতরে কষ্ট পায়। সে জানে, এটা ঠিক নয়। কিন্তু ব্যবস্থা তাকে অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়। এই অন্যায় বন্ধ করতে হলে সরকারকে স্পষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমার প্রস্তাব হলো:
সরকারি ফি যত, তা অফিসে বড় করে লিখে টানিয়ে দিতে হবে।
প্রতিটি পেমেন্টের রসিদ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
দালাল ও অতিরিক্ত টাকা দাবিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনলাইনে পেমেন্ট ও আবেদন ব্যবস্থা সহজ করতে হবে।
যে কর্মকর্তা নির্ধারিত ফি ছাড়া কাজ করবেন না, তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আর যদি বাস্তবে খরচ বেশি হয়, তাহলে ফি সরকারিভাবে বাড়ানো হোক, যাতে মানুষ ঘুষ না দিয়ে বৈধভাবে টাকা দিতে পারে।
আমরা ঘুষ চাই না। আমরা অন্যায় চাই না। আমরা এমন ব্যবস্থা চাই, যেখানে নাগরিক তার অধিকার পাবে, কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালন করবে, আর কেউ কাউকে পাপের পথে ঠেলে দেবে না।
“তোআ-আতো” নীতির আলোকে আমার আহ্বান:
তোমারটা তোমার, আমারটা আমার।
মানুষের হক নষ্ট করো না।
ঘুষ নয়, বৈধ ফি নাও।
শেষ পর্বে জন্ম সনদের ফি ১৫০০ টাকা করতে হলে সরকারিভাবে করা হোক। আর যদি তা নির্ধারিত ফি না হয়, তাহলে ১৫০০ টাকা দাবি বন্ধ করা হোক। কারণ মানুষকে ঘুষ দিতে বাধ্য করা মানে তাকে পাপের পথে ঠেলে দেওয়া।

আরও পড়ুনঃ  ডুমুরিয়ায় ধানের দামের চেয়ে শ্রমিকের মজুরির মূল্যে বেশি

 

 ///আইবিএননিউজ//////

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বহু সংগ্রাম পেরিয়ে আলোর পথে—ডাঃ আলপনা মোসাদ্দেক এক অনন্য প্রেরণার নাম

ঘুষ নয় নির্ধারিত ফি”র দাবি করেছে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ এর আহ্বায়ক — অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা

সময়: ১১:০০:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

 হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:


মানুষের জীবনে কিছু কাগজপত্র শুধু কাগজ নয়; এগুলো তার পরিচয়, অধিকার এবং নাগরিক মর্যাদার অংশ। জন্ম সনদ তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একজন মানুষের জন্ম, পরিচয়, নাগরিকত্ব, শিক্ষা, পাসপোর্ট, চাকরি, সম্পত্তি, উত্তরাধিকারসহ জীবনের বহু প্রয়োজনীয় কাজের সঙ্গে জন্ম সনদের সম্পর্ক রয়েছে। তাই জন্ম সনদ পাওয়া বা ডিজিটাল করা নাগরিকের মৌলিক প্রশাসনিক অধিকার।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, অনেক সময় এই সাধারণ অধিকার পেতে গিয়েও মানুষকে অনিয়ম, হয়রানি, মিথ্যা কথা, দালালি এবং ঘুষের মুখোমুখি হতে হয়। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক এডভোকেট এএনএম ঈসা নিজের জন্ম সনদ ডিজিটাল করার জন্য ১৫০০ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে বাপসনিউজকে জানিয়েছেন।যদি এই টাকা সরকার নির্ধারিত বৈধ ফি হয়, তাহলে তা পরিষ্কারভাবে জানানো হোক। আর যদি এটি ঘুষ হয়, তাহলে এটি শুধু বেআইনি নয়, মানব জাতির বিবেক, ঈমান এবং নৈতিকতার বিরুদ্ধেও একটি বড় পরীক্ষা।

তিনি বলেছেন , পাপ বাড়াতে চাই না। আমি ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে চাই না। কারণ ঘুষ দেওয়া যেমন পাপ, ঘুষ নেওয়াও পাপ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, টাকা না দিলে যদি কাজ না হয়, তাহলে একজন সাধারণ মানুষ কী করবে? সে কি নিজের অধিকার পাওয়ার জন্য ঘুষ দেবে, নাকি কাজ বন্ধ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? এই অবস্থাই মানুষকে অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়।

তাই আমি বলছি, প্রয়োজন হলে সরকারিভাবে জন্ম সনদের ফি ১৫০০ টাকা করা হোক। তাহলে মানুষ অন্তত জানবে যে সে বৈধ ফি দিচ্ছে, ঘুষ দিচ্ছে না। আর যদি সরকারি নির্ধারিত ফি কম হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে বাধ্য করা হোক যেন সেই নির্ধারিত ফিতেই কাজ সম্পন্ন করে। মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। নাগরিককে ঘুষের পথে ঠেলে দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুনঃ  ক্যারিয়ার বাংলাদেশ-এর পরিচালক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আমার বক্তব্য খুব পরিষ্কার:
ঘুষের নামে টাকা নয়, সরকারি রসিদের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি চাই।
অন্যায় নয়, বৈধ ব্যবস্থা চাই।
দুজোখের আগুন নয়, বৈধ পথ চাই।
আমি “তোআ-আতো” নীতি বা তরিকার একজন বিশ্বাসী। “তো” মানে তোমার, “আ” মানে আমার। অর্থাৎ:
তোমারটা তোমার, আমারটা আমার।
তুমি আমার পাওনা নেবে না, আমিও তোমার পাওনা নেব না।
তুমি আমার অধিকার নষ্ট করবে না, আমিও তোমার অধিকার নষ্ট করব না।
এই নীতির মূল শিক্ষা হলো, মানুষের নেয‍্য পাওনা,সম্পদ, অধিকার ও আমানতের প্রতি সম্মান দেখানো। একজন নাগরিক জন্ম সনদ পাবে, এটি তার অধিকার। কোনো কর্মকর্তা যদি সেই অধিকার আটকে রেখে, টাকা দাবি করেন, তাহলে তিনি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম করছেন না; তিনি মানুষের পাওনা নষ্ট করছেন। আর মানুষের হক নষ্ট করা ধর্মীয়য দৃষ্টিতে অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়।
শুধু এবাদত ও আর্শিবাদ করলেই যথেষ্ট নয়, যদি মানুষের পাওনা নষ্ট করা হয়। মানুষের পাওনা এমন বিষয়, যা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষমা না করলে সেই দায় থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। সুতরাং পাওনা আদায় করতে না পারলে আপনি কোনদিনই বেহেস্তে যেতে পারবেন না l তাই অন্যের পাওনা নেওয়া, ঘুষ নেওয়া, ঘুষ দিতে বাধ্য করা, অধিকার আটকে রাখা—এসব শুধু সামাজিক অপরাধ নয়; এগুলো হিসাবের বিষয়।
আমার আব্বা হজে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, তাঁর ৩০,০০০ টাকা ঋণ আছে। তিনি ঋণমুক্ত হয়ে হজে যেতে চেয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। আজ আমি কৃতজ্ঞ যে আমার আব্বার মনেও মানুষের হক আদায় করার এমন নৈতিকতা ছিল। আজ আল্লাহ পাক আমাকে হক, হালাল এবং ন্যায়ের কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। আমি দোয়া করি, আল্লাহ যেন এই কথাগুলোকে ইবাদতের অংশ হিসেবে কবুল করেন।
এই কারণেই আমি তওবা কমিশনের কথাও বলি। তওবা কমিশনের উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং মানুষকে সতর্ক করা, ভুল থেকে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া এবং সমাজের নেতা, প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মনে করিয়ে দেওয়া—ক্ষমতা মানুষের হক নষ্ট করার জন্য নয়, মানুষের সেবা করার জন্য।
জন্ম সনদের মতো সাধারণ একটি কাজে যদি মানুষ ঘুষ দিতে বাধ্য হয়, তাহলে সমাজে নৈতিকতা কীভাবে থাকবে? একজন মানুষ যখন নিজের বৈধ অধিকার পেতে ঘুষ দেয়, তখন সে ভিতরে ভিতরে কষ্ট পায়। সে জানে, এটা ঠিক নয়। কিন্তু ব্যবস্থা তাকে অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়। এই অন্যায় বন্ধ করতে হলে সরকারকে স্পষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমার প্রস্তাব হলো:
সরকারি ফি যত, তা অফিসে বড় করে লিখে টানিয়ে দিতে হবে।
প্রতিটি পেমেন্টের রসিদ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
দালাল ও অতিরিক্ত টাকা দাবিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনলাইনে পেমেন্ট ও আবেদন ব্যবস্থা সহজ করতে হবে।
যে কর্মকর্তা নির্ধারিত ফি ছাড়া কাজ করবেন না, তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আর যদি বাস্তবে খরচ বেশি হয়, তাহলে ফি সরকারিভাবে বাড়ানো হোক, যাতে মানুষ ঘুষ না দিয়ে বৈধভাবে টাকা দিতে পারে।
আমরা ঘুষ চাই না। আমরা অন্যায় চাই না। আমরা এমন ব্যবস্থা চাই, যেখানে নাগরিক তার অধিকার পাবে, কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালন করবে, আর কেউ কাউকে পাপের পথে ঠেলে দেবে না।
“তোআ-আতো” নীতির আলোকে আমার আহ্বান:
তোমারটা তোমার, আমারটা আমার।
মানুষের হক নষ্ট করো না।
ঘুষ নয়, বৈধ ফি নাও।
শেষ পর্বে জন্ম সনদের ফি ১৫০০ টাকা করতে হলে সরকারিভাবে করা হোক। আর যদি তা নির্ধারিত ফি না হয়, তাহলে ১৫০০ টাকা দাবি বন্ধ করা হোক। কারণ মানুষকে ঘুষ দিতে বাধ্য করা মানে তাকে পাপের পথে ঠেলে দেওয়া।

আরও পড়ুনঃ  পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে তিনদিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

 

 ///আইবিএননিউজ//////