Dhaka ১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বকশীগঞ্জে ডিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা-মদ ও অনলাইন জুয়ার সরঞ্জামসহ আটক ৯ সঠিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত পরিচর্যায় চাঁদপুরকে নান্দনিক শহরে গড়ে তোলা সম্ভব: মোশাররফ হোসাইন সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র—এমপি ফজলুল হক মিলন নরসিংদী পলাশের চরসিন্দুর মুদি ব্যবসায়ী মনি হত্যা: এক বছর পর গ্রেপ্তার ২, ধরাছোঁয়ার বাইরে রিপন চক্রবর্তী রাসূল (সা.)’র প্রতি মুহাব্বাতই ঈমানের মূল! দোয়ারাবাজারে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে আলোচনা সভা ঝিনাইদহে ডিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল জব্দ, অস্ত্র আইনে মামলা দিনাজপুর বীরগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভোলাহাটের রিদয় নামে ১ যুবকের মৃত্যু সুনামগঞ্জে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, আটক ১
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

জমি দখলের অভিযোগ, কথা বলতে গিয়ে হুমকি—‘ক্ষমতার জোর কোথায়?’

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ Time View

সাভার প্রতিনিধি


ঢাকার সাভারে বায়না দলিলের মাধ্যমে জমি কেনার পর সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লোকজনের বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী এস. এম. আব্দুল মান্নান। তাঁর অভিযোগ, গেদ্দা মৌজায় কেনা ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমির বড় একটি অংশ বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দখলে রয়েছে। নিজের জমির সীমানা নির্ধারণ ও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এমনকি জমির কাছে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, একজন সাধারণ মানুষ নিজের বৈধভাবে কেনা জমির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চাইবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা লোকজনের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কথিত ক্ষমতার জোর আসলে কোথায়?

আব্দুল মান্নান সাভার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগে বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক/ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশোক বাবু এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার/মালিকের প্রতিনিধি কিশোর বাবুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

জমি মাপতে গিয়ে বাধার অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলার গেদ্দা মৌজায় বি.আর.এস. দাগ নম্বর ৫৫৬-এর ৩২ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমি গত ২ আগস্ট বায়না দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মালিকের ওয়ারিশদের কাছ থেকে কেনেন আব্দুল মান্নান।

জমি কেনার পর গত ১৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্রেতাদের ও স্থানীয় একজন সার্ভেয়ারকে সঙ্গে নিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করতে যান তিনি। মাপজোখের একপর্যায়ে তাঁর দাবি, কেনা জমির বড় একটি অংশ বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দখলে রয়েছে বলে দেখতে পান।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার/মালিকের প্রতিনিধি কিশোর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন আব্দুল মান্নান। তখন তাঁকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের মালিক/ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশোক বাবু দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে বসে বিষয়টি সমাধান করে জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে চলছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা

কিশোর বাবুকে ফোন, ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ফোন রিসিভ করার দাবি

এ বিষয়ে আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি কিশোর বাবুর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দিলে তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি আমাকে জানান, কিশোর বাবু ফোনটি রেখে নিচে চলে গেছেন। এরপর তিনি জানতে চান, কী প্রয়োজন। আমি তাঁকে বলি, আপনাদের কারখানার ভেতরে আমার জমি রয়েছে। এ বিষয়ে কিশোর বাবুর সঙ্গে কথা বলার জন্যই তাঁকে ফোন দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “তখন ওই ব্যক্তি আমাকে জানান, এই জায়গা কিশোর বাবুর নয়, জায়গাটির মালিক অশোক বাবু। পরে আমি অশোক বাবুর ফোন নম্বর চাইলে তিনি বলেন, তাঁদের কাছে কোনো নম্বর নেই এবং তাঁরা দেশের বাইরে রয়েছেন। একপর্যায়ে আমার সঙ্গে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্নভাবে আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।”

‘প্রাণ নিয়ে বাঁচতে চাইলে চলে যান’

আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বিক্রেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আবারও ওই জমিতে যান। এ সময় জমি মাপজোখ করে দেওয়ার পরিবর্তে কিশোর বাবু তাঁকে জানান, মালিক অশোক বাবু কোনো জমি বের করে দেবেন না এবং এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো বৈঠকও করবেন না।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাঁকে দ্রুত জমি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। আব্দুল মান্নানের দাবি, তাঁকে বলা হয়—“কিসের জমি? প্রাণ নিয়ে বাঁচতে চাইলে এখান থেকে চলে যান। তা না হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী দিয়ে মেরে হাত-পা ভেঙে জীবন্ত কবর দিয়ে দেব।”

এ ছাড়া ভবিষ্যতে তিনি যেন ওই জমির কাছে না যান, সে বিষয়েও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ প্রকাশের পর ফের হুমকির অভিযোগ

ঘটনার পর স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আব্দুল মান্নানের দাবি, গত ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি জানতে পেরে কিশোর বাবু তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করেন। সংবাদ কেন প্রকাশ করা হয়েছে—এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি ওই ফোনে তাঁকে ফের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

আরও পড়ুনঃ  বুড়িচং পৌরসভাকে আধুনিক ও জনবান্ধব করা হবে: মেয়র প্রার্থী কামাল হোসেন

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে তাঁকে বলা হয়—“জায়গার কাছে গেলে মেরে ফেলব।”

এরপর থেকেই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান আব্দুল মান্নান। তাঁর আশঙ্কা, জমিতে গেলে যেকোনো সময় তাঁর ওপর হামলা হতে পারে।

‘সাধারণ মানুষের জমি নিয়ে কথা বলার অধিকারও কি নেই?’

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন ব্যক্তি বায়না দলিলের মাধ্যমে জমি কেনার দাবি করে সেই জমির সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে যদি তাঁকে বাধা, ভয়ভীতি কিংবা প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

অভিযোগকারীর দাবি, তিনি কোনো সংঘাতে যেতে চান না; বরং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে জমির প্রকৃত সীমানা ও মালিকানা নির্ধারণ করতে চান। তাঁর প্রশ্ন, “আমি যদি আমার কেনা জমির বিষয়ে কথা বলতে চাই, তাহলে আমাকে কেন হুমকির মুখে পড়তে হবে? ক্ষমতা থাকলে সেটি কি সাধারণ একজন মানুষের জমি ও নিরাপত্তার ওপর প্রয়োগ করার জন্য?”

থানায় জিডি, তদন্তের আশ্বাস

এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আব্দুল মান্নান। তিনি জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি, নিজের জমি রক্ষা এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “জিডি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোর বাবুর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত অশোক বাবুর বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, জমির প্রকৃত মালিকানা এবং দখলের বিষয়টি তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  কাউখালীতে পুলিশের পৃথক অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বকশীগঞ্জে ডিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা-মদ ও অনলাইন জুয়ার সরঞ্জামসহ আটক ৯

জমি দখলের অভিযোগ, কথা বলতে গিয়ে হুমকি—‘ক্ষমতার জোর কোথায়?’

সময়: ১০:০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভার প্রতিনিধি


ঢাকার সাভারে বায়না দলিলের মাধ্যমে জমি কেনার পর সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লোকজনের বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী এস. এম. আব্দুল মান্নান। তাঁর অভিযোগ, গেদ্দা মৌজায় কেনা ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমির বড় একটি অংশ বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দখলে রয়েছে। নিজের জমির সীমানা নির্ধারণ ও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এমনকি জমির কাছে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, একজন সাধারণ মানুষ নিজের বৈধভাবে কেনা জমির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চাইবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা লোকজনের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কথিত ক্ষমতার জোর আসলে কোথায়?

আব্দুল মান্নান সাভার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগে বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক/ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশোক বাবু এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার/মালিকের প্রতিনিধি কিশোর বাবুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

জমি মাপতে গিয়ে বাধার অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলার গেদ্দা মৌজায় বি.আর.এস. দাগ নম্বর ৫৫৬-এর ৩২ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমি গত ২ আগস্ট বায়না দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মালিকের ওয়ারিশদের কাছ থেকে কেনেন আব্দুল মান্নান।

জমি কেনার পর গত ১৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্রেতাদের ও স্থানীয় একজন সার্ভেয়ারকে সঙ্গে নিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করতে যান তিনি। মাপজোখের একপর্যায়ে তাঁর দাবি, কেনা জমির বড় একটি অংশ বাংলাদেশ জিপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দখলে রয়েছে বলে দেখতে পান।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার/মালিকের প্রতিনিধি কিশোর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন আব্দুল মান্নান। তখন তাঁকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের মালিক/ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশোক বাবু দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে বসে বিষয়টি সমাধান করে জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।

আরও পড়ুনঃ  দিনাজপুর বীরগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

কিশোর বাবুকে ফোন, ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ফোন রিসিভ করার দাবি

এ বিষয়ে আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি কিশোর বাবুর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দিলে তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি আমাকে জানান, কিশোর বাবু ফোনটি রেখে নিচে চলে গেছেন। এরপর তিনি জানতে চান, কী প্রয়োজন। আমি তাঁকে বলি, আপনাদের কারখানার ভেতরে আমার জমি রয়েছে। এ বিষয়ে কিশোর বাবুর সঙ্গে কথা বলার জন্যই তাঁকে ফোন দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “তখন ওই ব্যক্তি আমাকে জানান, এই জায়গা কিশোর বাবুর নয়, জায়গাটির মালিক অশোক বাবু। পরে আমি অশোক বাবুর ফোন নম্বর চাইলে তিনি বলেন, তাঁদের কাছে কোনো নম্বর নেই এবং তাঁরা দেশের বাইরে রয়েছেন। একপর্যায়ে আমার সঙ্গে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্নভাবে আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।”

‘প্রাণ নিয়ে বাঁচতে চাইলে চলে যান’

আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বিক্রেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আবারও ওই জমিতে যান। এ সময় জমি মাপজোখ করে দেওয়ার পরিবর্তে কিশোর বাবু তাঁকে জানান, মালিক অশোক বাবু কোনো জমি বের করে দেবেন না এবং এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো বৈঠকও করবেন না।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাঁকে দ্রুত জমি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। আব্দুল মান্নানের দাবি, তাঁকে বলা হয়—“কিসের জমি? প্রাণ নিয়ে বাঁচতে চাইলে এখান থেকে চলে যান। তা না হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী দিয়ে মেরে হাত-পা ভেঙে জীবন্ত কবর দিয়ে দেব।”

এ ছাড়া ভবিষ্যতে তিনি যেন ওই জমির কাছে না যান, সে বিষয়েও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ প্রকাশের পর ফের হুমকির অভিযোগ

ঘটনার পর স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আব্দুল মান্নানের দাবি, গত ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি জানতে পেরে কিশোর বাবু তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করেন। সংবাদ কেন প্রকাশ করা হয়েছে—এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি ওই ফোনে তাঁকে ফের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

আরও পড়ুনঃ  সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে চলছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে তাঁকে বলা হয়—“জায়গার কাছে গেলে মেরে ফেলব।”

এরপর থেকেই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান আব্দুল মান্নান। তাঁর আশঙ্কা, জমিতে গেলে যেকোনো সময় তাঁর ওপর হামলা হতে পারে।

‘সাধারণ মানুষের জমি নিয়ে কথা বলার অধিকারও কি নেই?’

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন ব্যক্তি বায়না দলিলের মাধ্যমে জমি কেনার দাবি করে সেই জমির সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে যদি তাঁকে বাধা, ভয়ভীতি কিংবা প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

অভিযোগকারীর দাবি, তিনি কোনো সংঘাতে যেতে চান না; বরং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে জমির প্রকৃত সীমানা ও মালিকানা নির্ধারণ করতে চান। তাঁর প্রশ্ন, “আমি যদি আমার কেনা জমির বিষয়ে কথা বলতে চাই, তাহলে আমাকে কেন হুমকির মুখে পড়তে হবে? ক্ষমতা থাকলে সেটি কি সাধারণ একজন মানুষের জমি ও নিরাপত্তার ওপর প্রয়োগ করার জন্য?”

থানায় জিডি, তদন্তের আশ্বাস

এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন আব্দুল মান্নান। তিনি জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি, নিজের জমি রক্ষা এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম বলেন, “জিডি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোর বাবুর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত অশোক বাবুর বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, জমির প্রকৃত মালিকানা এবং দখলের বিষয়টি তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু