আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে বিনা পরোয়ানায় বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি, পরিবারের সদস্যের কাছে অর্থ দাবি, থানার ভেতরে মারধর এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
বাড়িতে তল্লাশি ও অর্থ দাবির অভিযোগ
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ঝিকরগাছা থানার এএসআই মো. আশরাফুল আলম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকার মো. মোজাফ্ফর সরদারের বাড়িতে যান। এ সময় কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বাড়িতে মো. রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তিকে না পেয়ে তাঁর ভাই আসাদুজ্জামানের মোবাইল নম্বর নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা। পরে পরদিন সকালের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ না দিলে তাঁকে অন্য মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
থানায় ডেকে নিয়ে মারধর ও টাকা-মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ফোন পেয়ে আসাদুজ্জামান থানায় উপস্থিত হন। সেখানে ডিউটি অফিসারের কক্ষের সামনে থেকে এএসআই আশরাফুল আলম তাঁকে হাজতখানার সামনে ডেকে নিয়ে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আসাদুজ্জামান অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে হাজতখানা-সংলগ্ন একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর পকেটে থাকা নগদ টাকা, মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় প্রতিবাদ করায় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং আরও অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সময়ের দৃশ্য থানার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁদের মতে, ফুটেজ যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অভিযুক্ত এএসআইয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত এএসআই মো. আশরাফুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তাধীন অভিযোগ
এ বিষয়ে নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (সিনিয়র এএসপি) মো. আরিফ হোসেন বলেন, “উল্লেখিত বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে থানার সিসিটিভি ফুটেজের একটি বিষয় রয়েছে। সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে। বর্তমানে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা আইনগত প্রতিকার চেয়ে সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আসাদুজ্জামান ও তাঁর পরিবার। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
Reporter Name 























