Dhaka ০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কালীগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপিকে এমপি মিলনের দিকনির্দেশনা নরসিংদীর গর্ব হাতবিহীন “দুঃখু মিয়া ” অদম্য মনোবলে জ্বালিয়েছেন শিক্ষার আলো” শিক্ষক, শিক্ষিকা করে মাদক ব্যবসা শ্রীপুরে জমি দখলের চেষ্টা, ঈদগাহ মাঠের সাইনবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগ সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে সরকার: এমপি ফজলুল হক মিলন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বান্দরবান সেনা জোনের আর্থিক অনুদান প্রদান: সম্প্রীতি, মানবিকতা ও জনকল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মহপরিচালক বরাবর পলাশবাড়ী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার দূর্ণীতির অভিযোগকারীকে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর অভিযোগ আদমদীঘিতে দুর্গাপূজা মণ্ডপে আর্থিক সহায়তা ও সিসিটিভি ক্যামেরা দিলেন এমপি মহিত ঝিনাইদহে সাইবার সেলের অভিযানে ১০৪ মোবাইল ও ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার যে উস্তাদ শিখিয়েছেন কোরআন, সেই উস্তাদকেই ওমরাহর উপহার দিলেন ছাত্ররা”
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বকশীগঞ্জে পাট চাষে লাভের আশা দেখছেন কৃষকরা

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯৯ Time View

 

মোঃ মোনাহার মিয়া বকশীগঞ্জ , জামালপুর


জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। উপজেলার নিলক্ষিয়া, মেরুরচর, বাট্টাজোড়, বগারচর ও ধানুয়াকামালপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং কৃষকদের পরিচর্যায় এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহের কাজ চলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এখনও ৬০৫ হেক্টর জমির পাট কাটার কাজ বাকি রয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগের ধারণা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কৃষকরা পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে খাল-বিল ও জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা গেলেও বাজারদর নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।

নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, এ বছর পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইও তেমন ছিল না। তবে সার, শ্রমিক ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্তমানে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচ উঠে এলেও দাম আরও কিছুটা বাড়লে কৃষকরা বেশি লাভবান হতেন।

বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, পাট চাষে পরিশ্রম অনেক বেশি। তারপরও ভালো ফলনের কারণে আমরা আশাবাদী। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম যদি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পায়, তাহলে কৃষকরা ন্যায্য লাভ পাবেন এবং আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, বকশীগঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ এলাকায় পাট কাটা ও আঁশ সংগ্রহের কাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট জমির পাটও সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বাজারে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।

বর্তমানে বকশীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় দাম আরও কিছুটা বাড়লে তারা অধিক লাভবান হবেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকলে বকশীগঞ্জে পাট চাষের পরিধি আরও বাড়বে। এতে কৃষকের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে সোনালি আঁশ।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কালীগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপিকে এমপি মিলনের দিকনির্দেশনা

বকশীগঞ্জে পাট চাষে লাভের আশা দেখছেন কৃষকরা

সময়: ১০:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

 

মোঃ মোনাহার মিয়া বকশীগঞ্জ , জামালপুর


জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। উপজেলার নিলক্ষিয়া, মেরুরচর, বাট্টাজোড়, বগারচর ও ধানুয়াকামালপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং কৃষকদের পরিচর্যায় এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহের কাজ চলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এখনও ৬০৫ হেক্টর জমির পাট কাটার কাজ বাকি রয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগের ধারণা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কৃষকরা পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে খাল-বিল ও জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা গেলেও বাজারদর নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।

নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, এ বছর পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইও তেমন ছিল না। তবে সার, শ্রমিক ও অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বর্তমানে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচ উঠে এলেও দাম আরও কিছুটা বাড়লে কৃষকরা বেশি লাভবান হতেন।

বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, পাট চাষে পরিশ্রম অনেক বেশি। তারপরও ভালো ফলনের কারণে আমরা আশাবাদী। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম যদি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পায়, তাহলে কৃষকরা ন্যায্য লাভ পাবেন এবং আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, বকশীগঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ এলাকায় পাট কাটা ও আঁশ সংগ্রহের কাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট জমির পাটও সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। বাজারে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী মৌসুমে পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।

বর্তমানে বকশীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় দাম আরও কিছুটা বাড়লে তারা অধিক লাভবান হবেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকলে বকশীগঞ্জে পাট চাষের পরিধি আরও বাড়বে। এতে কৃষকের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে সোনালি আঁশ।