আগের দিন দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের পর সুদহার নিয়ে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান বিশ্লেষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা।
এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২২ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠেছে। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। শক্তিশালী ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ সুদ স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করছিল।
এদিকে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার ০ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৭ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ফেডের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, সুদহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামের ধাক্কা সামলাতে সুদহার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে কয়েকজন কর্মকর্তা চাহিদা-নির্ভর মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় সুদহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৫ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছে বাজার।
সাধারণত সুদহার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে ফেডের ভবিষ্যৎ সুদহার নীতি স্বর্ণের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এফএক্সটিএমের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক লুকমান ওতুনুগা বলেন, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ায় স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। তবে শক্তিশালী ডলার ও ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ সুদ স্বর্ণের দামে আরও চাপ তৈরি করতে পারে।
তার মতে, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী ঝুঁকি রয়েছে। ৪ হাজার ১০০ ডলারের নিচে দাম টেকসইভাবে নেমে গেলে তা ৪ হাজার ডলারের দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে ৪ হাজার ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান ধরে রাখতে পারলে স্বর্ণের দাম আবার ৪ হাজার ২০০ ডলারের দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগও বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল গত সপ্তাহে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ওই জলপথে ট্যাংকারে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পর জাহাজ চলাচল কমেছে বলে শিপিং-সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৮৪৭৬ ডলারে নেমেছে। তবে প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৮৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৩৩ দশমিক ৬৫ ডলারে উঠেছে।
Reporter Name 























