
সাকিব আহসান, প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও):
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ওয়ার্ডগুলোর ফ্যান ও আলো বন্ধ হয়ে যায়, ফলে গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশে রোগীদের অবস্থান করতে হয়। শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। জরুরি বিভাগেও এ সময় সেবা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগী (ছদ্মনাম) জানান, “বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডে প্রচণ্ড গরমে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। অসুস্থ অবস্থায় এটি আরও কষ্টদায়ক।”
জরুরি বিভাগে আসা এক রোগীর স্বজন (ছদ্মনাম) বলেন, “হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে কিছু সময় অন্ধকারে থাকতে হয়। হাসপাতালে এমন পরিস্থিতি অস্বস্তিকর।”
নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরেক রোগী জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে রোগীদের কষ্ট বাড়ে এবং স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিবেশ ব্যাহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। তাই এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিকল্প ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের জরুরি সেবা, পরীক্ষাগার কার্যক্রম ও রোগী পর্যবেক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ একটি মৌলিক অবকাঠামো। তাই যে কোনো হাসপাতালে জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালু রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মানও উন্নত হবে।
Reporter Name 




























