Dhaka ১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ভূরুঙ্গামারীতে জমির বিরোধে গোডাউন ভেঙে ২০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে চরভদ্রাসন উপজেলার দুর্গম চর ঝাউকান্দার উন্নয়নে একগুচ্ছ দাবি, নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগের আশ্বাস এমপি বাবুলের শিবপুরে ১৪৮ বোতল কাশির সিরাপসহ আটক ১, ডাকাতি মামলার আসামিও গ্রেপ্তার দোহাজারীকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে ফুটবল ফাইনাল অনুষ্ঠিত, ৪-২ গোলে লাল দলের জয় ভাঙ্গুড়া-চাটমোহর-ফরিদপুরের সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি রুমার মতবিনিময় নবীনগরে মিরপুর স্বপ্নযাত্রা ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা, অংশ নিল ৪৮২ শিক্ষার্থী বুড়িচংয়ে ৪৩ পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময় সভা সুনামগঞ্জে রাকেশ রঞ্জন চৌধুরীর স্মরণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ভূরুঙ্গামারীতে জমির বিরোধে গোডাউন ভেঙে ২০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে

 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের গোডাউন ভেঙে প্রায় ২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে আপন ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোডাউনের জায়গা টিন দিয়ে ঘিরে দখলে নেওয়ারও অভিযোগ ভুক্তভোগীর। তবে গোডাউন ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করলেও মালামাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছোট ভাই।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার বাগভান্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান হাফিজ ও অভিযুক্ত সহিদুল ইসলাম লিটন আপন ভাই। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাঁদের বাবা মৃত মোহাম্মদ রোস্তম আলী এবং তারা পাঁচ ভাই ও চার বোন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০১৪ সালে জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধপূর্ণ জায়গার সড়কসংলগ্ন অংশে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেন লিটন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের চাপে পারিবারিক সিদ্ধান্তে দেয়ালটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফায় পারিবারিক সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালে নিজ নামে জমি কিনে নামজারি ও খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে ভোগদখল করে আসছেন। পরে একই দাগ-খতিয়ানে তাঁর ছোট ভাই লিটনও জমি কিনে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে ঐ জমিতে নির্মিত গোডাউনে ঠিকাদারি কাজের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী মধ্যে ৭, ৮ ও ৯ ফুটের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বান ঢেউটিন, ৪ বাই ৮ ফুট আকারের প্রায় দেড় হাজার কেজি প্লেইন শিট, বিভিন্ন মাপের এমএস শাটার, ভাইব্রেটর মেশিন, পাম্প, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী আনুমানিক প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিলো।

হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে গোডাউন ভাঙ্গার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে সংরক্ষিত মালামালও খুঁজে পাননি। তাঁর দাবি, রাতের আঁধারে এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। স্থানীয়রা তাদের মারামারি ছাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুনঃ  কক্সবাজারে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল নারী পর্যটকের

তিনি বলেন, ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এ অবস্থায় আপন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ এবং ঘটনার পর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর স্ত্রীও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে হাফিজুর রহমানের ভোগদখলে ছিল বলে তাঁরা দেখে আসছে, শুক্রবার সকালে ১৫ থেকে ২০ জন লোক ও মিস্ত্রি নিয়ে এসে গোডাউনটি ভেঙে দেন। তবে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দেখে নাই।

অভিযোগের বিষয়ে সহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, তাঁর বড় ভাই হাফিজুর দুই বিঘা জমি কিনে এবং তিনি পরে এক বিঘা জমি কিনেন। প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁদের বাবা ওই জমিতে গোডাউন নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে শ্রমিকেরা খাওয়া-দাওয়া করতেন। বাবার জীবদ্দশায় জমি মেপে ভাগ করে নেওয়ার কথা থাকলেও ভাই আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি হওয়ায় জমি ভাগ করে দেয়নি।

পরবর্তীতে ভাই হাফিজুর নিজ ইচ্ছায় জমি মেপে বের করে দেয় তবে গোডাউনটি সরিয়ে নেয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। সাত-আট মাস আগেও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়। এরপরও গোডাউন না সরানোয় তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সেটি ভেঙ্গে মালামাল তার পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন। তবে তিনি কোন মালামাল নেননি বলে দাবি করেন।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেননি বলে জানা গেছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ভূরুঙ্গামারীতে জমির বিরোধে গোডাউন ভেঙে ২০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে

ভূরুঙ্গামারীতে জমির বিরোধে গোডাউন ভেঙে ২০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে

সময়: ০৯:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের গোডাউন ভেঙে প্রায় ২০ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে আপন ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোডাউনের জায়গা টিন দিয়ে ঘিরে দখলে নেওয়ারও অভিযোগ ভুক্তভোগীর। তবে গোডাউন ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করলেও মালামাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছোট ভাই।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার বাগভান্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান হাফিজ ও অভিযুক্ত সহিদুল ইসলাম লিটন আপন ভাই। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাঁদের বাবা মৃত মোহাম্মদ রোস্তম আলী এবং তারা পাঁচ ভাই ও চার বোন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ২০১৪ সালে জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধপূর্ণ জায়গার সড়কসংলগ্ন অংশে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেন লিটন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের চাপে পারিবারিক সিদ্ধান্তে দেয়ালটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফায় পারিবারিক সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালে নিজ নামে জমি কিনে নামজারি ও খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে ভোগদখল করে আসছেন। পরে একই দাগ-খতিয়ানে তাঁর ছোট ভাই লিটনও জমি কিনে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে ঐ জমিতে নির্মিত গোডাউনে ঠিকাদারি কাজের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী মধ্যে ৭, ৮ ও ৯ ফুটের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বান ঢেউটিন, ৪ বাই ৮ ফুট আকারের প্রায় দেড় হাজার কেজি প্লেইন শিট, বিভিন্ন মাপের এমএস শাটার, ভাইব্রেটর মেশিন, পাম্প, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী আনুমানিক প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিলো।

হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে গোডাউন ভাঙ্গার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে সংরক্ষিত মালামালও খুঁজে পাননি। তাঁর দাবি, রাতের আঁধারে এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। স্থানীয়রা তাদের মারামারি ছাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুনঃ  নবীনগরের বিদ্যাকুট উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

তিনি বলেন, ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এ অবস্থায় আপন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ এবং ঘটনার পর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর স্ত্রীও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে হাফিজুর রহমানের ভোগদখলে ছিল বলে তাঁরা দেখে আসছে, শুক্রবার সকালে ১৫ থেকে ২০ জন লোক ও মিস্ত্রি নিয়ে এসে গোডাউনটি ভেঙে দেন। তবে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দেখে নাই।

অভিযোগের বিষয়ে সহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, তাঁর বড় ভাই হাফিজুর দুই বিঘা জমি কিনে এবং তিনি পরে এক বিঘা জমি কিনেন। প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁদের বাবা ওই জমিতে গোডাউন নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে শ্রমিকেরা খাওয়া-দাওয়া করতেন। বাবার জীবদ্দশায় জমি মেপে ভাগ করে নেওয়ার কথা থাকলেও ভাই আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি হওয়ায় জমি ভাগ করে দেয়নি।

পরবর্তীতে ভাই হাফিজুর নিজ ইচ্ছায় জমি মেপে বের করে দেয় তবে গোডাউনটি সরিয়ে নেয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। সাত-আট মাস আগেও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়। এরপরও গোডাউন না সরানোয় তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সেটি ভেঙ্গে মালামাল তার পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন। তবে তিনি কোন মালামাল নেননি বলে দাবি করেন।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেননি বলে জানা গেছে।