Dhaka ০৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
প্রবাসীর সহায়তায় মাধবপুরে অসহায় মানিক পেলেন নতুন ঘর যশোরের শার্শায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্যামনগরে ২০০ জন নারী-পুরুষকে লবণ সহনশীল বীজ, জৈব সার, জিও ব্যাগ ও পানির ঝাঁঝরি বিতরণ পরিতোষ কুমার বৈদ্য সাভারে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে কলম, পানি ও খাবার বিতরণ, ছাত্রদল নেতা সোহাগ শাহ্ রজায়ী (রহঃ) ওরস: ওষখাইনে নামছে ভক্তসমুদ্র নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে দ্ধন্ধে ঘুষিতে ১ জনের মৃত্যু টেকনাফে সরকারি ঘর বিক্রির অভিযোগ: খারাংখালীতে চাঞ্চল্য কুষ্টিয়ায় বিজিবি’র পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য জব্দ হালির হাওরে অসহায় কৃষাণীর ধান কেটে দিল আনসার-ভিডিপি সদস্যরা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে তীর রক্ষা বাঁধ

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ Time View

মোঃ রাহিজুল ইসলাম , ভূরুঙ্গামারী ( কুড়িগ্রাম ) প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ হতে অবৈধভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি শক্তিশালী চক্র। উপজেলার চর-ভরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদে অবৈধভাবে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে নদের তীর রক্ষা বাঁধ।

স্থানীয়রা জানান, কোন ধরণের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীর আলম, মাইদুল ইসলাম ও
আসাদুল ইসলাম নামের ৩ ব‍্যক্তি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দুধকুমার নদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।
এতে নদের তীর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দূত প্রশাসনিক ব‍্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় নদের তীর রক্ষা বাঁধ ধসে এলাকার ঘর বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, উপজেলার ইসলমপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদের তীরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১২ কোটি টাকা ব‍্যয়ে শূন‍্য দশমিক পাঁচ শত মিটার একটি তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। সেই তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে বাঁধের কাছেই ৩টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তুলে বিক্রি করছে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের হামিদ মোল্লার দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও মাইদুল ইসলাম।
এবং তিলাই ইউনিয়নের খোঁচ বাড়ি এলাকার আব্বাস ঘাটিয়াল এর ছেলে আসাদুল ইসলাম। ৮ থেকে ১০ টি ভটভটি সারা দিন এই বালু পরিবহন করে এবং প্রতি ভটভটি ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে।

এতে আগামী বর্ষায় নদী তীর রক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০, এর ৪ এর (খ) ধারায় বলা হয়েছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। অথচ নদের তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। কিন্তু বালু উত্তোলন বন্ধে পাউবো, সওজ ও স্থানীয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

আরও পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের ৩ ট্রান্সমিটার চুরি, ঝুঁকিতে ১৫০ বিঘা ধান

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল, মিজানুর রহমান, মাইদুল ও সামাদ জানান, দুধকুমার নদের পশ্চিম তীরে পাউবো নদের ভাঙন প্রতিরোধে তীর রক্ষা বাঁধ তৈরি করতেছে। অথচ তীর সংলগ্ন এসব ব্লকের পাশেই অবৈধ তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বালু ব্যবসায়ী মাইদুল, জাহাঙ্গীর ও আসাদুল। এতে পাউবোর ব্লকগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নদীর তীর রক্ষা বাধ। শুধু নদীর তীর রক্ষা বাধ নয় ঝুঁকিতে পড়েছে তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতভিটা, ফসলি জমি। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই তিনজন ড্রেজার মালিক একটি প্রভাশালী মহলের মদদে বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। কিন্তু তীর রক্ষা বাধের এত কাছ থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়রা ঝামেলা এড়াতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই। আমরা বালু তুলে মানুষের বাড়ির ভিটে উঁচু করার কাজে ব‍্যবহার করছি চর- ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, বালু উত্তলোনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি। যে কোন অবৈধ কাজ বন্ধে আমি অবশ্যই প্রশাসনের সহায়তা নিবো।

এবিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম পাওবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বদলীজনিত কারণে উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, এবিষয়ে থানা পুলিশের কিছু করার নেই। ভ্রাম‍্যমান আদালত পরিচালনা বা বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে ইউএনও বা এসিল‍্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশনার প্রয়োজন হয়।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

প্রবাসীর সহায়তায় মাধবপুরে অসহায় মানিক পেলেন নতুন ঘর

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে তীর রক্ষা বাঁধ

সময়: ১০:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ রাহিজুল ইসলাম , ভূরুঙ্গামারী ( কুড়িগ্রাম ) প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ হতে অবৈধভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি শক্তিশালী চক্র। উপজেলার চর-ভরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদে অবৈধভাবে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে নদের তীর রক্ষা বাঁধ।

স্থানীয়রা জানান, কোন ধরণের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীর আলম, মাইদুল ইসলাম ও
আসাদুল ইসলাম নামের ৩ ব‍্যক্তি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দুধকুমার নদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।
এতে নদের তীর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দূত প্রশাসনিক ব‍্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় নদের তীর রক্ষা বাঁধ ধসে এলাকার ঘর বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, উপজেলার ইসলমপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদের তীরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১২ কোটি টাকা ব‍্যয়ে শূন‍্য দশমিক পাঁচ শত মিটার একটি তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। সেই তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে বাঁধের কাছেই ৩টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু তুলে বিক্রি করছে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের হামিদ মোল্লার দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও মাইদুল ইসলাম।
এবং তিলাই ইউনিয়নের খোঁচ বাড়ি এলাকার আব্বাস ঘাটিয়াল এর ছেলে আসাদুল ইসলাম। ৮ থেকে ১০ টি ভটভটি সারা দিন এই বালু পরিবহন করে এবং প্রতি ভটভটি ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে।

এতে আগামী বর্ষায় নদী তীর রক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০, এর ৪ এর (খ) ধারায় বলা হয়েছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। অথচ নদের তীর রক্ষা বাঁধকে হুমকিতে ফেলে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। কিন্তু বালু উত্তোলন বন্ধে পাউবো, সওজ ও স্থানীয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জ শহরের আলোচিত প্রায় অর্ধ কোটি টাকা স্বর্ণ ও ডলার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন আটক-৫

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল, মিজানুর রহমান, মাইদুল ও সামাদ জানান, দুধকুমার নদের পশ্চিম তীরে পাউবো নদের ভাঙন প্রতিরোধে তীর রক্ষা বাঁধ তৈরি করতেছে। অথচ তীর সংলগ্ন এসব ব্লকের পাশেই অবৈধ তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বালু ব্যবসায়ী মাইদুল, জাহাঙ্গীর ও আসাদুল। এতে পাউবোর ব্লকগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নদীর তীর রক্ষা বাধ। শুধু নদীর তীর রক্ষা বাধ নয় ঝুঁকিতে পড়েছে তীরবর্তী বাসিন্দাদের বসতভিটা, ফসলি জমি। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই তিনজন ড্রেজার মালিক একটি প্রভাশালী মহলের মদদে বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন। কিন্তু তীর রক্ষা বাধের এত কাছ থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়রা ঝামেলা এড়াতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড্রেজার মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই। আমরা বালু তুলে মানুষের বাড়ির ভিটে উঁচু করার কাজে ব‍্যবহার করছি চর- ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, বালু উত্তলোনের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি। যে কোন অবৈধ কাজ বন্ধে আমি অবশ্যই প্রশাসনের সহায়তা নিবো।

এবিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম পাওবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বদলীজনিত কারণে উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, এবিষয়ে থানা পুলিশের কিছু করার নেই। ভ্রাম‍্যমান আদালত পরিচালনা বা বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে ইউএনও বা এসিল‍্যান্ড মহোদয়ের নির্দেশনার প্রয়োজন হয়।