Dhaka ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
‘রাস্তা না থাকলে চলব কেমনে?’—হাহাকার গুমানমর্দনবাসীর, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও কালিগঞ্জের ধলবাড়িয়ায় বায়তুন নূর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজের উদ্বোধন মানবতা, ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক সেবার প্রত্যয়ে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যালাইভ’ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের শুভ উদ্বোধন গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবিতে বুড়িচংয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন দিনাজপুর বীরগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড জামালপুরে উপজেলা দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত পুষ্পধারা হাউজিংয়ের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, দুদকে অভিযোগ “সাদা কাপড়ে দাগ লাগলে বেশি দেখা যায়”— রংপুরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন কালীগঞ্জে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সজিব গ্রেফতার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“ভ্যাকসিন হিরো” — অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • ৫ Time View

 

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে “ভ্যাকসিন হিরো” পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক জোট Gavi, the Vaccine Alliance বাংলাদেশে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থায়ন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়।

শেখ হাসিনার সরকারের শেষ সময়েও (২০২২–২০২৪) দেশে শিশুদের পূর্ণ টিকাদানের হার প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হামের টিকাদান কর্মসূচির জন্য গ্যাভি থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য আরও ১৭.৮ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিত করা হয়েছিল।

তবে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। প্রচলিতভাবে UNICEF-এর মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের পরিবর্তে সরাসরি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তার দাবি, ২০২৫ সালে দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচির অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বাতিল করায় স্বাস্থ্য খাতের ৩৪টি উন্নয়ন কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়ে। এতে টিকা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ক্রয় প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার কারণে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টিকাদানের হার আশঙ্কাজনকভাবে ৫৯.৬ শতাংশে নেমে আসে এবং পাঁচ থেকে পনেরো মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকাদান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

World Health Organization এবং ইউনিসেফের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৫ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ কোনো টিকাই পায়নি এবং ২১ শতাংশ আংশিক টিকা পেয়েছে।

অধ্যাপক মীজানুর রহমান আরও বলেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকার আওতায় আনা হতো। সর্বশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এবং শেষ হয় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। পরবর্তী ক্যাম্পেইন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  কেন্দুয়ায় সরকারি রাস্তায় ধান শুকানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১০

তার অভিযোগ, এই সময়ে শিশুস্বাস্থ্য সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম—যেমন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো বিষয়ে প্রচারণা, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন এবং কৃমিনাশক বিতরণ—ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। ফলে অপুষ্টি বেড়ে যায় এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে পড়ে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল নতুন টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর আগেই সারা দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এর আগে হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। ২০০০ সালে হামের প্রথম ডোজ টিকার কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, যা পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

অধ্যাপক মীজানুর রহমানের দাবি, ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার ঘাটতির কারণে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ মারাত্মকভাবে কমে যায়। তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সরকারি হিসেবে হামে ৩৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

‘রাস্তা না থাকলে চলব কেমনে?’—হাহাকার গুমানমর্দনবাসীর, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

“ভ্যাকসিন হিরো” — অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সময়: ১০:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

 

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে “ভ্যাকসিন হিরো” পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক জোট Gavi, the Vaccine Alliance বাংলাদেশে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থায়ন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়।

শেখ হাসিনার সরকারের শেষ সময়েও (২০২২–২০২৪) দেশে শিশুদের পূর্ণ টিকাদানের হার প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হামের টিকাদান কর্মসূচির জন্য গ্যাভি থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য আরও ১৭.৮ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিত করা হয়েছিল।

তবে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। প্রচলিতভাবে UNICEF-এর মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের পরিবর্তে সরাসরি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তার দাবি, ২০২৫ সালে দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচির অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বাতিল করায় স্বাস্থ্য খাতের ৩৪টি উন্নয়ন কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়ে। এতে টিকা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ক্রয় প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার কারণে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টিকাদানের হার আশঙ্কাজনকভাবে ৫৯.৬ শতাংশে নেমে আসে এবং পাঁচ থেকে পনেরো মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকাদান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

World Health Organization এবং ইউনিসেফের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৫ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ কোনো টিকাই পায়নি এবং ২১ শতাংশ আংশিক টিকা পেয়েছে।

অধ্যাপক মীজানুর রহমান আরও বলেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকার আওতায় আনা হতো। সর্বশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এবং শেষ হয় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। পরবর্তী ক্যাম্পেইন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  আলপনা মোসাদ্দেক; সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস ও মানবিকতার এক অনুপ্রেরণার নাম

তার অভিযোগ, এই সময়ে শিশুস্বাস্থ্য সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম—যেমন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো বিষয়ে প্রচারণা, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন এবং কৃমিনাশক বিতরণ—ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। ফলে অপুষ্টি বেড়ে যায় এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে পড়ে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল নতুন টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর আগেই সারা দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এর আগে হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। ২০০০ সালে হামের প্রথম ডোজ টিকার কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, যা পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

অধ্যাপক মীজানুর রহমানের দাবি, ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার ঘাটতির কারণে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ মারাত্মকভাবে কমে যায়। তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সরকারি হিসেবে হামে ৩৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেন।