সর্বোচ্চ ১৪৬টি অভিযোগ ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহতে; দ্বিতীয় কলোরাডো বোল্ডার
হাকিকুল ইসলাম খোকন, এমডি নাসির, বাপসনিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০২৪ সালে মোট ৮ হাজার ২২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ রিপোর্ট করা হয়েছে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক অপরাধ-তথ্য বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা মূলত রিপোর্ট হওয়া অভিযোগের হিসাব; এগুলো আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের অভিযোগ রিপোর্ট হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহতে। সল্ট লেক সিটিভিত্তিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৬টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, যেখানে ৯৬টি অভিযোগ রিপোর্ট করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহর তথ্য অনুযায়ী, ১৪৬টি রিপোর্টের মধ্যে ১২২টি আবাসিক হল বা ডরমিটরিতে, ১৮টি ক্যাম্পাসের অন্যান্য ভবনে এবং ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুমোদিত ছাত্রসংগঠনের নিয়ন্ত্রিত অফ-ক্যাম্পাস সম্পত্তিতে ঘটেছে বলে রিপোর্ট করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ১৪৬টি রিপোর্টের মধ্যে ১১০টি অভিযোগ একটি বহু মাসব্যাপী সম্পর্কের মধ্যে সংঘটিত সহিংসতার বিষয়ে একজন সারভাইভারের দেওয়া রিপোর্ট থেকে এসেছে। ক্যাম্পাস-অপরাধ প্রতিবেদনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পৃথক অভিযোগ বা ঘটনা আলাদাভাবে গণনা করা হয়।
ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহতে ২০২৪ সালে রিপোর্ট করা অভিযোগের সংখ্যা ২০২৩ সালের ১৭৫টির তুলনায় কম। তবে ২০২২ সালে রিপোর্ট করা ৩০টি অভিযোগের তুলনায় ২০২৪ সালের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
নিউইয়র্ক পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আরও কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধর্ষণের অভিযোগ রিপোর্ট হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে ৯৬টি, ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ৬৭টি, পেন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ৫৭টি, ইউসিএলএতে ৫২টি, ইউসি সান্তা ক্রুজে ৪৬টি, ইউসি সান্তা বারবারায় ৪৩টি, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটিতে ৪৩টি, ইউনিভার্সিটি অব কানসাসে ৩৯টি এবং ইউনিভার্সিটি অব কেনটাকিতে ৩৭টি অভিযোগ রিপোর্ট করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের বড় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও যৌন সহিংসতার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান ফেডারেল ধর্ষণ-পরিসংখ্যানের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না। কারণ নিউইয়র্কের রিপোর্টিং ব্যবস্থায় ধর্ষণের পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, ডেটিং ভায়োলেন্স, পারিবারিক সহিংসতা ও স্টকিংসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনা যৌন সহিংসতার সম্মিলিত হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
নিউইয়র্ক পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ২৬২টি যৌন সহিংসতার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে রিপোর্ট হওয়া ধর্ষণের ঘটনা ছিল ২১টি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনা আবাসিক হলে ঘটেছে।
একই বছরে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ২২৯টি, SUNY Albany-তে ২১৭টি, SUNY Binghamton-এ ১৯৮টি এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ১৬৬টি যৌন সহিংসতার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়। এসব সংখ্যা শুধু ধর্ষণের ঘটনা নয়; নিউইয়র্কের বিস্তৃত সংজ্ঞার আওতায় থাকা যৌন ও সম্পর্কভিত্তিক সহিংসতার বিভিন্ন অভিযোগও এতে অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের পরিসংখ্যান ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলোকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কোনো অভিযোগ রিপোর্ট হওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়।
একই সঙ্গে যৌন সহিংসতার অনেক ঘটনাই কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা হয় না। ফলে রিপোর্ট করা অভিযোগের সংখ্যা প্রকৃত ঘটনার পূর্ণ চিত্রও তুলে ধরে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেরি আইন অনুযায়ী, ফেডারেল আর্থিক সহায়তায় অংশ নেওয়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ক্যাম্পাস ও নির্দিষ্ট সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে হয়। এসব তথ্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ, ক্যাম্পাস নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রিপোর্ট হওয়া ঘটনাও থাকতে পারে।
Reporter Name 


























