মোঃ সুলতান মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ দিনের ছুটি, বকেয়া ওভারটাইমের টাকা পরিশোধ, মে মাসের পূর্ণ বেতন এবং কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বহেরারচালা (কেওয়া পশ্চিমখণ্ড) এলাকার কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকরা জানান, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ দিনের ছুটি, বকেয়া ওভারটাইমের টাকা পরিশোধ এবং কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। বুধবার শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো হলেও ডিউটি শেষে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।
বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসে বন্ধের নোটিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন দেখতে পান। এতে তারা উত্তেজিত হয়ে কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশ দিয়ে তাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের জন্য ২০ দিনের অগ্রিম বেতন এবং ১০ দিনের ছুটি পূর্বেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সুইং সেকশনের কিছু শ্রমিক ১৯ ও ২০ মে পূর্বানুমতি ছাড়াই বেআইনি ধর্মঘট, অন্যান্য শ্রমিকদের কাজে বাধা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি এবং উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
কারখানার মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ. এম. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা পরবর্তীতে প্রদান করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, “কারখানা কর্তৃপক্ষ রাতে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেয়। সকালে শ্রমিকরা এসে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
Reporter Name 






















