মো. আব্দুল শহীদ,
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সুনামগঞ্জ এর কাঁচাবাজারে গরুর মাংস, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এ প্রভাব পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শুরু থেকেই গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।
তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় খামার থেকে গরু পরিবহনে খরচ বেড়েছে। এছাড়া ঈদ-পরবর্তী সময়েও মাংসের চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় দাম কমার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে পেঁয়াজের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, বাজারে সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়া এবং পাইকারি পর্যায়ে হঠাৎ দাম বাড়ানোর কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে কাঁচা মরিচে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এলাকা ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ ও পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুলতানা জেরিন নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তিনি জানিয়েছেন, কোনো ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাইকারি ও খুচরা মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানান তিনি।
বাজার পরিদর্শনের সময় তিনি ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি বা মূল্য তালিকা না রাখলে জরিমানা কিংবা দোকান সিলগালাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথাও জানান তিনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের মতো পচনশীল পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে স্থানীয় আড়তদারদের মজুত পরিস্থিতিও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
সাধারণ ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে ইউএনও সুলতানা জেরিন বলেন, কোথাও অসাধু উপায়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।
Reporter Name 






















