Dhaka ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রাতে ১১:৩৮ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত, আতঙ্কিত মানুষ শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে পথসভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত সুরেন্দ্রনাথ কলেজে সিন্ডিকেট ভাঙতে, দেবু শিবুকে গ্রেপ্তারের দাবীতে প্রতিবাদী মিছিল। প্রতারণার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে পিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ চট্টগ্রামে ১০ লাখ গাছ রোপণের ঘোষণা মেয়র শাহাদাতের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মাদকসেবী ও সমাজের ভণ্ড চেহারা উন্মোচন হোক ঝালকাঠির রাজাপুরে আলহাজ্ব লালমোন হামিদ মহিলা কলেজের সড়ক বেহাল, সংস্কারের দাবি ডুমুরিয়ায় সরকারি জায়গার মাটি কাটার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ফেসবুক পোস্টের জেরে মামলা, এখন সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতিবাদ মানববন্ধন কর্মসূচি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

শেখ হাসিনার পর বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন বাস্তবতা

রহমান মৃধা , সুইডেন থেকে,

সব কিছু নিয়ে গেছে যা কিছু ছিলো, যাবার বেলায় শুধু নিজের অজান্তে রাজনীতি আর দুর্নীতিই রেখে গেলো। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই বাক্যটি যেন বাংলাদেশের বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। তারা এখন ক্ষমতায় নেই, কিন্তু তাদের ছায়া এখনো প্রতিটি রাজনৈতিক আলাপের কেন্দ্রবিন্দু। শেখ হাসিনার সরকার নেই, তবু দুর্নীতি আছে, অন্যায় আছে, আর আছে সেই একই রাজনৈতিক মানসিকতা। এ যেন এক অদ্ভুত উত্তরাধিকার, যেখানে ব্যক্তি হারিয়ে যায়, কিন্তু দুর্নীতির সংস্কৃতি বেঁচে থাকে।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকাল ছিল অর্জন আর সীমাবদ্ধতার মিশ্র চিত্র। উন্নয়ন হয়েছিল, কিন্তু সেই উন্নয়নের ভিত ছিল নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ের ওপর দাঁড়ানো। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল দৃশ্যমান, কিন্তু তার পেছনে ছিল এক গভীর অসমতা। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন থেকে বিচারব্যবস্থা, এমনকি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত পর্যন্ত, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের শিকার হয়েছিল। ক্ষমতার ভারসাম্য হারিয়ে গিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এক রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয়েছিল। তাই শেখ হাসিনার সরকার বিদায় নিলেও তার রেখে যাওয়া প্রভাব এখনো বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি শিরায় প্রবাহিত।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট আজ রাজনৈতিক নয়, নৈতিক। দুর্নীতি শুধু কিছু ব্যক্তির কাজ নয়, এটি এখন প্রাতিষ্ঠানিক। দুর্নীতি যেন প্রশাসনের রক্তে মিশে গেছে, যা কোনো একক সরকারের পতনে শেষ হয় না। মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু প্রণালী পরিবর্তন করে না। নতুন নেতৃত্ব এলে পুরনো অভ্যাস টিকে থাকে। ক্ষমতার লোভ, অর্থের প্রভাব, আর দলীয় আনুগত্য সব মিলে এক অদৃশ্য জাল তৈরি করেছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো আজো অতীতের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। শেখ হাসিনা নেই, কিন্তু তার যুগের মানসিকতা এখনো রাজনীতিকে চালায়। ক্ষমতা মানে দখল, বিরোধী মানে শত্রু, আর গণতন্ত্র মানে সংখ্যার হিসাব—এই মানসিকতা এখনো অটুট। তাই আজকের রাজনীতি শেখ হাসিনাহীন হলেও, শেখ হাসিনার ভাবনায় আটকে আছে। এই আটকে থাকা চিন্তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় মামলা, চালক-সহকারীসহ গ্রেপ্তার ৩

ড. ইউনূস যখন নেতৃত্বে এলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন এটি এক নতুন সূচনা। তিনি বিশ্বজোড়া পরিচিত, নোবেলজয়ী, একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। কিন্তু বাস্তবতা দ্রুত স্পষ্ট হলো, পুরনো কাঠামোর ভেতর নতুন চিন্তা টিকে থাকে না। তার চারপাশে যাদের দেখা যায়, তারা সেই একই আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অভ্যাসের ধারক। পরিবর্তনের ভাষা উচ্চারিত হয়, কিন্তু পরিবর্তনের কাজ শুরু হয় না। দুর্নীতির মুখে আদর্শের ভাষা কেমন অসহায়, সেটি এই সময়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এর মধ্যেই বিস্ময় জাগায় বাংলাদেশের এই দীর্ঘ সংস্কারকাল। বিশ্বের মানুষ যেখানে প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার নতুন পথ খুঁজছে, সেখানে বাংলাদেশ পনেরো মাস কাটিয়েছে শুধু সংস্কার নামের এক কথার আড়ালে। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, এবং মানবিক সহায়তার নতুন দিগন্তে, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যস্ত থেকেছে কে কার মন্ত্রী, কে কোন কমিটিতে থাকবে, আর কোন দল ক্ষমতার কাছাকাছি। এ যেন এক জাতির সময় অপচয়ের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব যখন ভবিষ্যৎ গড়ছে, আমরা তখন অতীতের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত।

জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। মানুষ চায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কর্মসংস্থান, আর নিরাপত্তা। কিন্তু রাষ্ট্র তাদের দেয় অনিশ্চয়তা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আর দলীয় ভাগাভাগি। শিক্ষিত তরুণেরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছে, উদ্যোক্তারা অনিশ্চিত, কৃষকরা দিশেহারা, আর শ্রমজীবীরা জীবনযুদ্ধের ভেতর হারিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যাচ্ছে প্রতিদিন। অথচ একটি রাষ্ট্র টিকে থাকে বিশ্বাসের ওপর, ভয় বা দমননীতির ওপর নয়।

এই বাস্তবতায় প্রয়োজন নতুন রাষ্ট্রচিন্তার। এমন একটি চিন্তা, যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্র হবে মানুষ, দল নয়। যেখানে নৈতিকতা, নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে, নাগরিকরাই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি—সবখানেই মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আর দুর্নীতিকে যদি সত্যিই দূর করতে হয়, তবে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি নৈতিক সংস্কারও জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। শেখ হাসিনার যুগ শেষ হয়েছে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া প্রভাব এখনো জীবন্ত। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সেই পুরনো প্রভাবের বাইরে নতুন পথ তৈরি করতে পারব? সময় এসে গেছে নিজেকে পুনর্গঠনের, নিজের রাষ্ট্রচিন্তা নতুন করে ভাবার। কারণ, ভবিষ্যৎ আর অতীতের পুনরাবৃত্তিতে লুকিয়ে নেই, ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে সাহসী পরিবর্তনে। ইতিহাস এখন আমাদের ডাকছে, আমরা কি শুনব?

রহমান মৃধা
গবেষক এবং লেখক
সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
Rahman.Mridha@gmail.com

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রাতে ১১:৩৮ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত, আতঙ্কিত মানুষ

শেখ হাসিনার পর বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন বাস্তবতা

সময়: ১১:০৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

রহমান মৃধা , সুইডেন থেকে,

সব কিছু নিয়ে গেছে যা কিছু ছিলো, যাবার বেলায় শুধু নিজের অজান্তে রাজনীতি আর দুর্নীতিই রেখে গেলো। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই বাক্যটি যেন বাংলাদেশের বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। তারা এখন ক্ষমতায় নেই, কিন্তু তাদের ছায়া এখনো প্রতিটি রাজনৈতিক আলাপের কেন্দ্রবিন্দু। শেখ হাসিনার সরকার নেই, তবু দুর্নীতি আছে, অন্যায় আছে, আর আছে সেই একই রাজনৈতিক মানসিকতা। এ যেন এক অদ্ভুত উত্তরাধিকার, যেখানে ব্যক্তি হারিয়ে যায়, কিন্তু দুর্নীতির সংস্কৃতি বেঁচে থাকে।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকাল ছিল অর্জন আর সীমাবদ্ধতার মিশ্র চিত্র। উন্নয়ন হয়েছিল, কিন্তু সেই উন্নয়নের ভিত ছিল নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ের ওপর দাঁড়ানো। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল দৃশ্যমান, কিন্তু তার পেছনে ছিল এক গভীর অসমতা। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন থেকে বিচারব্যবস্থা, এমনকি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত পর্যন্ত, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের শিকার হয়েছিল। ক্ষমতার ভারসাম্য হারিয়ে গিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এক রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয়েছিল। তাই শেখ হাসিনার সরকার বিদায় নিলেও তার রেখে যাওয়া প্রভাব এখনো বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি শিরায় প্রবাহিত।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট আজ রাজনৈতিক নয়, নৈতিক। দুর্নীতি শুধু কিছু ব্যক্তির কাজ নয়, এটি এখন প্রাতিষ্ঠানিক। দুর্নীতি যেন প্রশাসনের রক্তে মিশে গেছে, যা কোনো একক সরকারের পতনে শেষ হয় না। মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু প্রণালী পরিবর্তন করে না। নতুন নেতৃত্ব এলে পুরনো অভ্যাস টিকে থাকে। ক্ষমতার লোভ, অর্থের প্রভাব, আর দলীয় আনুগত্য সব মিলে এক অদৃশ্য জাল তৈরি করেছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো আজো অতীতের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। শেখ হাসিনা নেই, কিন্তু তার যুগের মানসিকতা এখনো রাজনীতিকে চালায়। ক্ষমতা মানে দখল, বিরোধী মানে শত্রু, আর গণতন্ত্র মানে সংখ্যার হিসাব—এই মানসিকতা এখনো অটুট। তাই আজকের রাজনীতি শেখ হাসিনাহীন হলেও, শেখ হাসিনার ভাবনায় আটকে আছে। এই আটকে থাকা চিন্তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা।

আরও পড়ুনঃ  ৫জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পুইছড়ি নিউ জেনারেশন সোসাইটি'র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিতরণ- অনুষ্ঠিত হয়

ড. ইউনূস যখন নেতৃত্বে এলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন এটি এক নতুন সূচনা। তিনি বিশ্বজোড়া পরিচিত, নোবেলজয়ী, একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। কিন্তু বাস্তবতা দ্রুত স্পষ্ট হলো, পুরনো কাঠামোর ভেতর নতুন চিন্তা টিকে থাকে না। তার চারপাশে যাদের দেখা যায়, তারা সেই একই আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অভ্যাসের ধারক। পরিবর্তনের ভাষা উচ্চারিত হয়, কিন্তু পরিবর্তনের কাজ শুরু হয় না। দুর্নীতির মুখে আদর্শের ভাষা কেমন অসহায়, সেটি এই সময়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এর মধ্যেই বিস্ময় জাগায় বাংলাদেশের এই দীর্ঘ সংস্কারকাল। বিশ্বের মানুষ যেখানে প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার নতুন পথ খুঁজছে, সেখানে বাংলাদেশ পনেরো মাস কাটিয়েছে শুধু সংস্কার নামের এক কথার আড়ালে। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, এবং মানবিক সহায়তার নতুন দিগন্তে, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যস্ত থেকেছে কে কার মন্ত্রী, কে কোন কমিটিতে থাকবে, আর কোন দল ক্ষমতার কাছাকাছি। এ যেন এক জাতির সময় অপচয়ের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব যখন ভবিষ্যৎ গড়ছে, আমরা তখন অতীতের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত।

জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। মানুষ চায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কর্মসংস্থান, আর নিরাপত্তা। কিন্তু রাষ্ট্র তাদের দেয় অনিশ্চয়তা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আর দলীয় ভাগাভাগি। শিক্ষিত তরুণেরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছে, উদ্যোক্তারা অনিশ্চিত, কৃষকরা দিশেহারা, আর শ্রমজীবীরা জীবনযুদ্ধের ভেতর হারিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যাচ্ছে প্রতিদিন। অথচ একটি রাষ্ট্র টিকে থাকে বিশ্বাসের ওপর, ভয় বা দমননীতির ওপর নয়।

এই বাস্তবতায় প্রয়োজন নতুন রাষ্ট্রচিন্তার। এমন একটি চিন্তা, যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্র হবে মানুষ, দল নয়। যেখানে নৈতিকতা, নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে, নাগরিকরাই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি—সবখানেই মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আর দুর্নীতিকে যদি সত্যিই দূর করতে হয়, তবে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি নৈতিক সংস্কারও জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বম্ভরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ (World Environment Day - 2026) উদযাপন

বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। শেখ হাসিনার যুগ শেষ হয়েছে, কিন্তু তার রেখে যাওয়া প্রভাব এখনো জীবন্ত। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি সেই পুরনো প্রভাবের বাইরে নতুন পথ তৈরি করতে পারব? সময় এসে গেছে নিজেকে পুনর্গঠনের, নিজের রাষ্ট্রচিন্তা নতুন করে ভাবার। কারণ, ভবিষ্যৎ আর অতীতের পুনরাবৃত্তিতে লুকিয়ে নেই, ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে সাহসী পরিবর্তনে। ইতিহাস এখন আমাদের ডাকছে, আমরা কি শুনব?

রহমান মৃধা
গবেষক এবং লেখক
সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
Rahman.Mridha@gmail.com