
মোহাম্মদ নোমান,
কক্সবাজার (রামু) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে কথিত জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারের দোকান দখল, সরকারি নদী ও সড়ক কবজা করে বাণিজ্য পরিচালনা এবং কৃষকদের পানি সংকটে ফেলে আর্থিক শোষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়ার বাসিন্দা লেদু বড়ুয়া ও তার ছেলে কলসি বড়ুয়ার মালিকানাধীন তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি দোকানঘর প্রায় তিন বছর আগে সুকৌশলে দখলে নেয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানঘরটি বর্তমানে কথিত জামায়াত নেতা রোকন উদ্দিন রোক্যা ও দেলোয়ার হোসেন দেল্যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র জানায়, শুরুতে নীরবে দোকানঘরটি দখলে রাখা হলেও গত আগস্ট মাসের পর সেখানে প্রকাশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার ও দাড়িপাল্লা প্রতীক টানিয়ে সেটিকে গ্রামভিত্তিক দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করা হয়। এতে সংখ্যালঘু পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান দখলের ঘটনায় রোকন উদ্দিন রোক্যা ও দেলোয়ার হোসেন দেল্যা প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকলেও নেপথ্যে থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের কথিত জামায়াত ইসলামের সক্রিয় সদস্য রাশেদুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু সুবিধাভোগী নেতা।
অভিযোগ এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তরা একই সঙ্গে এলাকার সরকারি তালিকাভুক্ত নদীর অংশবিশেষ এবং সরকারি সড়কের জায়গা দখল করে রেখেছে। সরকারি সড়কের দুই পাশে গাছ লাগিয়ে ও স্থাপনা গড়ে তুলে বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বর্ষা মৌসুমে রাস্তা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার একমাত্র সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নদীর পানি চড়া দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ নির্ধারিত দাম দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে গরিব কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানান তারা।

এছাড়াও সরকারি রাস্তা ও খাল দখল, অবৈধ মাটি কাটার বাণিজ্য, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল এবং সাধারণ মানুষের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। সাংবাদিকদের প্রতিও চাপ ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং এসব ঘটনার লিখিত ও ভিডিও প্রমাণ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। দখল ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলদার উচ্ছেদ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Reporter Name 






















