Dhaka ০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গোমস্তাপুরে প্রতিবাদ সভা “ডুমুরিয়ায় ‘রাজা মানিক’ গরু পালন করে স্বাবলম্বী মিনু সাহা” নড়াইলে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার বীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজ পরিদর্শনে আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু _এমপি চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নয়, পাওয়া গেল ৪ কোটি টাকার ইয়াবা অস্থায়ীভাবে নতুন ঠিকানায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস জাতীয় সংসদকে বিএনপির পরিবারতন্ত্র সংসদ বানিয়েছে জেএসএফ বাংলাদেশ ডুমুরিয়ায় উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতারিত ও নির্যাতিতদের সহায়তার উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গে ” জয় শ্রীরাম ” কৌশলে জিতে গেল বিজেপি
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ডিপিএসের প্রলোভনে তালাকের ফাঁদ: ‘ভাড়া বইয়ে’ নিকাহ-তালাক বাণিজ্যের অভিযোগ, কারাগারে বৈধ কাজী

  • Reporter Name
  • সময়: ০১:২৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ২২ Time View

 


 

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বিয়ে ও তালাককে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় ব্যাংকে ডিপিএস খোলার প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভাড়া করা রেজিস্ট্রি বই ব্যবহার করে অবৈধভাবে নিকাহ-তালাক সম্পাদনের একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন কথিত কাজী সাজ্জাদ হোসেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের চান মিয়ার মেয়ে চাম্পা খাতুনের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর কুদ্দুস মিয়ার বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের তিন দিনের মাথায় ডিপিএস খোলার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় তার কাছ থেকে। পরে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে স্বামীপক্ষ থেকে তালাকের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এতে স্বামী, শ্বশুর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বৈধ কাজী মাওলানা আব্দুল হামিদের সহযোগিতায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক অবৈধ ব্যক্তি সরকারি রেজিস্ট্রি বই ব্যবহার করে তালাক সম্পাদন করেন। এ সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা দায়ের করলে স্বামী, বৈধ কাজী আব্দুল হামিদ, তার বাবা এবং দুই সাক্ষীকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মূল হোতা সাজ্জাদ হোসেন সরকারি তালিকাভুক্ত কাজী না হওয়ায় এখনো গ্রেফতার এড়িয়েছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাজ্জাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নলডাঙ্গা ইউনিয়নে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী আব্দুল হামিদ তার রেজিস্ট্রি বই অবৈধভাবে সাজ্জাদের কাছে হস্তান্তর করেন, যা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই চক্র ‘ভাড়া বই’ ব্যবহার করে বিয়ে ও তালাক সম্পন্ন করে অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত ছিল। ২০২১ সালেই এ বিষয়ে জনস্বার্থে অভিযোগ দায়ের হলেও তা কার্যকর হয়নি, ফলে দিন দিন তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মানববন্ধনের দাবির পর গ্রেফতার: মৌলভীবাজারে স্বস্তি, তবে ন্যায়বিচারের পূর্ণতা এখনো বাকি

নিকাহ রেজিস্ট্রার বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকা ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা, রেজিস্ট্রি বই অন্যের কাছে হস্তান্তর বা সহকারী দিয়ে কাজ করানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এসব নিয়ম উপেক্ষা করে চলছে অনিয়ম।

ভুক্তভোগী চাম্পা খাতুন বলেন, “ডিপিএসের কথা বলে আমার কাছ থেকে সই নেওয়া হয়েছে। আমি জানতাম না এটি তালাকনামা।” তার পরিবার জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেনমোহরের টাকা আদায়ের দাবি জানিয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এমন ভুয়া কাজী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা দ্রুত সাজ্জাদ হোসেনসহ জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গোমস্তাপুরে প্রতিবাদ সভা

ডিপিএসের প্রলোভনে তালাকের ফাঁদ: ‘ভাড়া বইয়ে’ নিকাহ-তালাক বাণিজ্যের অভিযোগ, কারাগারে বৈধ কাজী

সময়: ০১:২৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

 


 

ফয়সাল রহমান জনি, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বিয়ে ও তালাককে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় ব্যাংকে ডিপিএস খোলার প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভাড়া করা রেজিস্ট্রি বই ব্যবহার করে অবৈধভাবে নিকাহ-তালাক সম্পাদনের একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন কথিত কাজী সাজ্জাদ হোসেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের চান মিয়ার মেয়ে চাম্পা খাতুনের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর কুদ্দুস মিয়ার বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের তিন দিনের মাথায় ডিপিএস খোলার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় তার কাছ থেকে। পরে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে স্বামীপক্ষ থেকে তালাকের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এতে স্বামী, শ্বশুর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বৈধ কাজী মাওলানা আব্দুল হামিদের সহযোগিতায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক অবৈধ ব্যক্তি সরকারি রেজিস্ট্রি বই ব্যবহার করে তালাক সম্পাদন করেন। এ সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা দায়ের করলে স্বামী, বৈধ কাজী আব্দুল হামিদ, তার বাবা এবং দুই সাক্ষীকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মূল হোতা সাজ্জাদ হোসেন সরকারি তালিকাভুক্ত কাজী না হওয়ায় এখনো গ্রেফতার এড়িয়েছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাজ্জাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নলডাঙ্গা ইউনিয়নে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী আব্দুল হামিদ তার রেজিস্ট্রি বই অবৈধভাবে সাজ্জাদের কাছে হস্তান্তর করেন, যা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই চক্র ‘ভাড়া বই’ ব্যবহার করে বিয়ে ও তালাক সম্পন্ন করে অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত ছিল। ২০২১ সালেই এ বিষয়ে জনস্বার্থে অভিযোগ দায়ের হলেও তা কার্যকর হয়নি, ফলে দিন দিন তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মানববন্ধনের দাবির পর গ্রেফতার: মৌলভীবাজারে স্বস্তি, তবে ন্যায়বিচারের পূর্ণতা এখনো বাকি

নিকাহ রেজিস্ট্রার বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকা ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা, রেজিস্ট্রি বই অন্যের কাছে হস্তান্তর বা সহকারী দিয়ে কাজ করানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এসব নিয়ম উপেক্ষা করে চলছে অনিয়ম।

ভুক্তভোগী চাম্পা খাতুন বলেন, “ডিপিএসের কথা বলে আমার কাছ থেকে সই নেওয়া হয়েছে। আমি জানতাম না এটি তালাকনামা।” তার পরিবার জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেনমোহরের টাকা আদায়ের দাবি জানিয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এমন ভুয়া কাজী চক্র গড়ে উঠেছে। তারা দ্রুত সাজ্জাদ হোসেনসহ জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।