মতিউর রহমান, সরিষাবাড়ী, জামালপুর
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পিংনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম নাজুর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একমাত্র ছেলে তাসলিমুল ইসলামের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নেশাগ্রস্ত বিপথগামী যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিপথগামী যুবক হাসানকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়েরের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ২নং পোগলদিঘা ইউনিয়নের যমুনা সার কারখানা আবাসিক কলোনিতে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার সময় জেএফসিএল এলাকার কলেজ জীবনের সহপাঠী জিল্লুর ছেলে মহাইমিনুর রহমান বিদ্যুৎ (২৮), নূরুল ইসলামের ছেলে নিয়াজুল ইসলাম (২৭) ও রফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফারাবী রাফির সঙ্গে কলোনিতে বেড়াতে যায় তাসলিমুল। কলেজ অধ্যয়নের সময় মো. মাহমুদুল হাসান ও তাসলিমুলের পরিচয় হয়। তাসলিমুল হাসানকে বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতো। দীর্ঘদিন তাদের দেখা-সাক্ষাৎ নেই।
ঘটনার দিন (হাসান-৩৫) তাসলিমুলকে দেখা মাত্রই কোনো কারণ ছাড়াই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তাসলিমুল হাসানের কথার কোনো প্রতিবাদ না করে সঙ্গীয় বন্ধুদের নিয়ে সহপাঠী মহাইমিনুর রহমান বিদ্যুতের জেএফসিএল কলোনির বাসায় চলে আসে। বাসা নং ই-৩।
বিদ্যুতের বাসায় গিয়ে এবং স্থানীয় লোকজনের মুখে তাসলিমুল জানতে পারে, হাসান মাদকাসক্ত বিপথগামী এবং বন্ধু বিদ্যুতের সঙ্গে মাহমুদুল হাসান (হাসান) পূর্ব শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করে আসিতেছে।
ওই দিন রাত ৯টার সময় হাসান তাসলিমুলের মুঠোফোনে কল দিয়ে তাসলিমুলকে দেখা করতে বলে। তাসলিমুল মাদকাসক্ত জেনে হাসানের সঙ্গে দেখা করবে না বলে জানায়। রাত ১০টায় হাসান পুনরায় ফোন দিয়ে তাসলিমুলকে কলোনি থেকে বের হতে দেবে না এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বাসার আশপাশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করে।
ভয়ে তাসলিমুল রাতে বের না হয়ে বিদ্যুতের বাসায় ঘুমিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তাকে না পেয়ে কলোনির ই-৩ নম্বর বাসার সিঁড়ির নিচে রাখা তাসলিমুলের ব্যবহৃত ইয়ামাহা আর ওয়ান ফাইভ ডিথ্রি মোটরসাইকেল, যার রেজিঃ নং জামালপুর-ল ১১-৫৫৯৯, তাতে ৮/৯/২৬ ইং রাত ৩টা ৩০ মিনিটে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পেট্রোলের আগুনে মোটরসাইকেল পুড়ানোর শেষ পর্যায়ে বিকট শব্দে তাসলিমুলের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় বন্ধুদের জাগিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে হাসানকে ঘটনাস্থলে দেখতে পায় এবং তারা এগিয়ে এলে হাসান হুমকি দিয়ে দৌড়ে তার বাসার ছাদে আশ্রয় নেয় এবং চিৎকার করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে জানা যায়।
এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তাসলিমুল বলেন, “থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”
জানতে চাইলে ৫ নং পিংনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বাদী তাসলিমুলের পিতা নাজমুল ইসলাম নাজু সকালের সময়কে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “হাসান বিগত দিনে অনেক অপকর্ম করেছে। তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের একাধিক মামলাও রয়েছে। ছেলের আবদার মেটাতে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ টাকায় শখ করে আর ওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছি। সেটিকে মাদক ব্যবসায়ী হাসান পুড়েছে। আমি প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাবো। এর শেষ দেখেই ছাড়বো। মামলা করেছি। দারোগা এসে ছিলেন।”
এ বিষয়ে তারাকান্দি তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তার নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।”
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোর্শেদ তালুকদারের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নাজুকে বলে ছিলাম তার ছেলের প্রতি নজর দিতে। সে আমার কথায় কান না দিয়ে আমাকে দোষারোপ করে। তবে বিষয়টি বসে মীমাংসা করবেন এবং নিউজ করা থেকেও বিরত থাকতে বলেন তিনি।”
এ বিষয়ে এসআই জুলহাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পোড়ানো মোটরসাইকেলটি এমপ্লয়িজ ক্লাব থেকে জব্দ করা হয়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ওখানে জমা রেখেছিল। অভিযোগে গাড়ির নম্বর উল্লেখ না থাকায় বাদী অভিযোগ সংশোধনের পর মামলা রেকর্ড ও কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তর ইউরিয়া উৎপাদনকারী সার কারখানা জেএফসিএল আবাসিক কলোনির ভিতর রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেল পোড়ানো নিরাপত্তার প্রতি হুমকি বলে দেখছেন সুধীজন। মাদক এবং অন্য কোনো আপত্তিকর বিষয় রয়েছে কি-না এবং প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন ও প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল।
Reporter Name 






















