
আহসান হাবিব তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা ৬৪ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমির মালিকানা দাবি, ফসল কেটে নেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী একটি পরিবার। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই, দখলচেষ্টা বন্ধ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাথাফাটা বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রবিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলমসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা অভিযোগ করেন, মাথাফাটা মৌজায় ১৯৬২ সালের রেকর্ডভুক্ত ৬৪ শতক জমি তাঁদের পরিবার প্রায় ৬৮ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় আলী আকবর, সিরাজুল ইসলাম, জাহেরুল, জিরারুল, খলিলুর, সাহাদত ও আব্দুর রাজ্জাক ওরফে লেদুসহ কয়েকজন ওই জমির মালিকানা দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন।
পরিবারটির দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে লোকজন নিয়ে জমিতে প্রবেশ করছেন এবং তাঁদের আবাদ করা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমির প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। এরপরও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে পেশিশক্তির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ প্রতিকার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে এলাকার একাধিক পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি রাতের অন্ধকারে জমি দখল এবং নারীদের সামনে রেখে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগও করেন তাঁরা।
এ সময় স্থানীয় মোখলেছুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘এই ব্যক্তিরা আমাদের জমিও দখল করেছেন। শুধু জমি দখল করেই ক্ষান্ত হননি, মিথ্যা মামলা দিয়ে কয়েক বছর ধরে আমাদের হয়রানি করে আসছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় সুরুজ আলী। তিনি বলেন, ‘আমার জমিও রাতের অন্ধকারে দখল করা হয়েছিল। অথচ জমির মালিকানার পক্ষে তাঁরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। জমি দখল ও মামলা দিয়ে আমাদের মতো অনেক পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। আমরা এসব ঘটনার বিচার চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে মরহুম আবুলগিরীর স্ত্রী আলহাজ্বা তহুরা বেগম বলেন, ‘এই জমি আমাদের পৈতৃক ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি। আমার স্বামী বেঁচে থাকা পর্যন্ত কেউ এই জমির মালিকানা দাবি করেননি। অথচ এখন আলী আকবর, সিরাজুল ইসলাম, জাহেরুল, জিরারুল, খলিলুর, সাহাদত ও আব্দুর রাজ্জাক লেদুরা জমিটি নিজেদের বলে দাবি করছেন। আমাদের কাছে জমির সব কাগজপত্র রয়েছে। তারপরও তাঁরা জোর করে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৬২ সালের রেকর্ডভুক্ত ৬৪ শতক জমির মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই, জবরদখলের চেষ্টা বন্ধ, আবাদি ফসলের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তদন্ত, পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, তাঁরা জমি নিয়ে কোনো ধরনের সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না। প্রচলিত আইন ও জমির রেকর্ডপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিজেদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিরোধী পক্ষের ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের নিজস্ব সম্পত্তি। নিজেদের জমিতেই তাঁরা চাষাবাদ করেছেন এবং উৎপাদিত ধান কাটছেন।
বিরোধী পক্ষের বক্তব্য, ‘জমিটি আমাদের। আমরা নিজেদের জমিতে আবাদ করেছি এবং সেই জমির ধান কাটছি। রবিউল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমরাও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’
এদিকে একই জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত নিষ্পত্তির মাধ্যমে এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 






















