Dhaka ০২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পালিত হলো রেড রোডে- বিশ্ব যোগা দিবস নবীগঞ্জের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারী তালিকা থেকে বাদ পড়লেন! ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ৷ বসুন্দিয়ায় শিল্প বর্জ্যের বিষে জনজীবন অতিষ্ঠ; সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ভয়ভীতি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দুর্ভোগ বাড়ছে তাহিরপুরে কালীগঞ্জের আড়াই বছরের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা অভিযুক্ত কিশোরীর থানায় আত্মসমর্পণ পাহাড় ও বন রক্ষায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে গ্রীন রোড শো: থানজামা লুসাই মণিরামপুরে জাপার বড় ধাক্কা,সভাপতি এম এ হালিমের জাতীয় পার্টি থেকে পদত্যাগ আদমদীঘিতে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলসহ দুই মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার নরসিংদীর মনোহরদীতে বজ্রপাতে নিহত তিন শিক্ষার্থী আদমদীঘিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রেপ্তার!
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ভাঙা ঘরে নিঃসঙ্গ এক জীবন, পীরগঞ্জের বৃদ্ধের মানবেতর দিনযাপন

  • সাকিব আহসান
  • সময়: ০৪:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৯৭ Time View

 

সাকিব আহসান,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং জাবরহাট ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চন্দরিয়া তালতলা গ্রামের ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ আজও জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একা যুদ্ধ করে যাচ্ছেন দারিদ্র্য, বার্ধক্য আর একাকীত্বের সঙ্গে। তার ঘর যাকে ঘর বলা কঠিন। একটি ভাঙাচোরা কুঁড়ে, মাটির ধাপে বসে তিনি দিনের পর দিন কাটান ক্ষুধা, ক্লান্তি আর অবহেলার মধ্যে।

 

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খড়ের ছাউনি ঝুলে পড়েছে, দরজার কাঠামো ভেঙে গেছে, ঘরের কোণে স্যাঁতসেঁতে মাটি আর একটি পুরোনো লাঠি। পাশেই কিছু বাঁশের ডাণ্ডা, যেন বহুদিন ধরে মেরামতের ইচ্ছা থেকে জমে থাকা সাক্ষী। বৃদ্ধের শরীরে বয়সের ভার এতটাই গভীর যে হাঁটাচলার শক্তিও প্রায় ফুরিয়ে গেছে। খাবারের জোগান অনিয়মিত, চিকিৎসা নেই, আশেপাশে নেই কোনো স্থায়ী সহায়তাকারী।

 

 

স্থানীয়রা জানান, তিনি কখনো বিবাহ করেননি, পরিবারও গড়ে ওঠেনি। সারাজীবন একাই থেকেছেন। প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে কিছু খাবার বা টাকা দেন, কিন্তু তা দিয়ে নিয়মিত জীবন চলা সম্ভব নয়। এক স্থানীয় যুবক বলেন, “তার শরীর এখন একদম দুর্বল, চোখে অন্ধকার দেখি, কথা বলতেও কষ্ট হয়।”

 

 

বৃদ্ধ নিজেও জানান, “না খেয়ে দিন পার করছি।” কথাগুলো আসে কণ্ঠে কাঁপুনি নিয়ে, যেন প্রতিটি শব্দের সঙ্গে লুকিয়ে আছে এক গভীর আক্ষেপ ও নিরুপায় আর্তি।

 

 

ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সাহায্য দিতে, কিন্তু সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ ধরনের মানুষ সরকারি সহায়তা তালিকার বাইরে থেকে যায়।”

 

 

চন্দরিয়া তালতলা গ্রামটি মূলত কৃষি ও দিনমজুর নির্ভর। এখানে দারিদ্র্য এখনো বাস্তবতার নির্মম রূপ। কিন্তু এই বৃদ্ধের কাহিনি শুধু একটি ব্যক্তিগত দুঃখগাথা নয়, এটি আমাদের সমাজের বিবেকের কাছে এক নীরব প্রশ্ন। বার্ধক্যে এসে কেন কেউ এত একা, এত অবহেলিত?

আরও পড়ুনঃ  চন্দনাইশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

 

স্থানীয়রা বলেছেন, যদি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে, তবে এই মানুষটির শেষ জীবনটুকু অন্তত সম্মানজনকভাবে কাটাতে পারেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পালিত হলো রেড রোডে- বিশ্ব যোগা দিবস

ভাঙা ঘরে নিঃসঙ্গ এক জীবন, পীরগঞ্জের বৃদ্ধের মানবেতর দিনযাপন

সময়: ০৪:০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

 

সাকিব আহসান,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং জাবরহাট ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চন্দরিয়া তালতলা গ্রামের ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ আজও জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একা যুদ্ধ করে যাচ্ছেন দারিদ্র্য, বার্ধক্য আর একাকীত্বের সঙ্গে। তার ঘর যাকে ঘর বলা কঠিন। একটি ভাঙাচোরা কুঁড়ে, মাটির ধাপে বসে তিনি দিনের পর দিন কাটান ক্ষুধা, ক্লান্তি আর অবহেলার মধ্যে।

 

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খড়ের ছাউনি ঝুলে পড়েছে, দরজার কাঠামো ভেঙে গেছে, ঘরের কোণে স্যাঁতসেঁতে মাটি আর একটি পুরোনো লাঠি। পাশেই কিছু বাঁশের ডাণ্ডা, যেন বহুদিন ধরে মেরামতের ইচ্ছা থেকে জমে থাকা সাক্ষী। বৃদ্ধের শরীরে বয়সের ভার এতটাই গভীর যে হাঁটাচলার শক্তিও প্রায় ফুরিয়ে গেছে। খাবারের জোগান অনিয়মিত, চিকিৎসা নেই, আশেপাশে নেই কোনো স্থায়ী সহায়তাকারী।

 

 

স্থানীয়রা জানান, তিনি কখনো বিবাহ করেননি, পরিবারও গড়ে ওঠেনি। সারাজীবন একাই থেকেছেন। প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে কিছু খাবার বা টাকা দেন, কিন্তু তা দিয়ে নিয়মিত জীবন চলা সম্ভব নয়। এক স্থানীয় যুবক বলেন, “তার শরীর এখন একদম দুর্বল, চোখে অন্ধকার দেখি, কথা বলতেও কষ্ট হয়।”

 

 

বৃদ্ধ নিজেও জানান, “না খেয়ে দিন পার করছি।” কথাগুলো আসে কণ্ঠে কাঁপুনি নিয়ে, যেন প্রতিটি শব্দের সঙ্গে লুকিয়ে আছে এক গভীর আক্ষেপ ও নিরুপায় আর্তি।

 

 

ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সাহায্য দিতে, কিন্তু সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ ধরনের মানুষ সরকারি সহায়তা তালিকার বাইরে থেকে যায়।”

 

 

চন্দরিয়া তালতলা গ্রামটি মূলত কৃষি ও দিনমজুর নির্ভর। এখানে দারিদ্র্য এখনো বাস্তবতার নির্মম রূপ। কিন্তু এই বৃদ্ধের কাহিনি শুধু একটি ব্যক্তিগত দুঃখগাথা নয়, এটি আমাদের সমাজের বিবেকের কাছে এক নীরব প্রশ্ন। বার্ধক্যে এসে কেন কেউ এত একা, এত অবহেলিত?

আরও পড়ুনঃ  শান্তি, সুশাসন ও অপরাধমুক্ত ঝিনাইদহ গড়ার প্রত্যয়ে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা

 

স্থানীয়রা বলেছেন, যদি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে, তবে এই মানুষটির শেষ জীবনটুকু অন্তত সম্মানজনকভাবে কাটাতে পারেন।