Dhaka ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত, বিপাকে কারখানার মালিক টেকনাফে হ্নীলা সীমান্তে ৪২ কোটি টাকার ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ, আটক ২ কোটচাঁদপুরের সাংবাদিকতায় নক্ষত্রপতন, না ফেরার দেশে শেখ নজরুল ইসলাম সান্তাহারে মাদক সেবন করে মাতলামি, দুই মাসের কারাদণ্ড ডিমলার ডাংগাটারী সীমান্তে চোরাচালানের অবৈধ মালামাল আটক তাহিরপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ করে কয়লা আনতে ভারতে গিয়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু নড়াইলের নড়াগাতী থানা পুলিশের অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ নবীনগরে চিকিৎসকদের অবহেলায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তেঁতুলিয়ায় দায়িত্ব পালনে গতি বাড়াতে ৬৪ জন গ্রাম পুলিশ পেলেন বাইসাইকেল ও টর্চলাইট টেকনাফে কর্মরত ১৬ এপিবিএনের কনস্টেবল ৫৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত, বিপাকে কারখানার মালিক

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ Time View

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :


শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। টানা ১০-১৫ দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় ভাড়াকৃত সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে চালানো গার্মেন্টস, ডাইং, সিরামিক, স্টিলসহ বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে হাজারো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শঙ্কা এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা শিল্পাঞ্চলের বেশিরভাগ কারখানায় মেশিন নীরব। যেসব কারখানা টেনেটুনে চালু আছে, সেখানেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান কমে গেছে। ডাইং কারখানায় কাপড়ের রং ঠিকমতো আসছে না, সিরামিকে পণ্য ফেটে যাচ্ছে।

একজন গার্মেন্টস মালিক বলেন, “গ্যাস না থাকায় বয়লার চলছে না। যে ৪০ শতাংশ উৎপাদন করছি, তার মানও খারাপ। বিদেশি বায়ার অর্ডার বাতিল করছে। এই পণ্য ধ্বংস করা ছাড়া উপায় নেই।”

গ্যাস সংকটের কারণে ছোট-বড় কারখানা বন্ধ থাকায় হাজারো শ্রমিক এখন বেকার হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। কারখানা না চলায় মালিকরা ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না। অন্যদিকে, ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কারখানা করা উদ্যোক্তারা কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মো. রফিকুল ইসলাম, এক কারখানা মালিক বলেন, “ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা লোন নিয়ে ফ্যাক্টরি করেছি। ২ মাস ধরে গ্যাস নাই। প্রোডাকশন নাই, ইনকাম নাই। ব্যাংক প্রতিদিন ফোন দেয়। ছেলেমেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারছি না।”

কারখানা বন্ধ থাকায় কয়েক হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক কারখানা অর্ধেক বেতনে শ্রমিকদের ছুটি দিয়েছে।

একজন শ্রমিক বলেন, “১৫ দিন ধরে কাজ নাই। বাসা ভাড়া, বাজারের টাকা কই পাব? মালিকও বলছে গ্যাস নাই, কী করব?”

তিতাস গ্যাস সূত্র জানায়, কালিয়াকৈরে শিল্প ও আবাসিক মিলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে ৪০-৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে রেশনিং করে এই সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের নামে শতাধিক মানুষের টাকা নেওয়ার অভিযোগ

গাজীপুর চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তা অপূরণীয়। সরকারের কাছে তাদের দাবি, আগামী ৩ মাসের ব্যাংক কিস্তি, সুদ ও জরিমানা মওকুফ করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম ফখরুল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কালিয়াকৈর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকলে জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য জোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত, বিপাকে কারখানার মালিক

কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত, বিপাকে কারখানার মালিক

সময়: ০৯:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :


শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। টানা ১০-১৫ দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় ভাড়াকৃত সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে চালানো গার্মেন্টস, ডাইং, সিরামিক, স্টিলসহ বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে হাজারো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শঙ্কা এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা শিল্পাঞ্চলের বেশিরভাগ কারখানায় মেশিন নীরব। যেসব কারখানা টেনেটুনে চালু আছে, সেখানেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান কমে গেছে। ডাইং কারখানায় কাপড়ের রং ঠিকমতো আসছে না, সিরামিকে পণ্য ফেটে যাচ্ছে।

একজন গার্মেন্টস মালিক বলেন, “গ্যাস না থাকায় বয়লার চলছে না। যে ৪০ শতাংশ উৎপাদন করছি, তার মানও খারাপ। বিদেশি বায়ার অর্ডার বাতিল করছে। এই পণ্য ধ্বংস করা ছাড়া উপায় নেই।”

গ্যাস সংকটের কারণে ছোট-বড় কারখানা বন্ধ থাকায় হাজারো শ্রমিক এখন বেকার হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। কারখানা না চলায় মালিকরা ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না। অন্যদিকে, ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কারখানা করা উদ্যোক্তারা কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মো. রফিকুল ইসলাম, এক কারখানা মালিক বলেন, “ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা লোন নিয়ে ফ্যাক্টরি করেছি। ২ মাস ধরে গ্যাস নাই। প্রোডাকশন নাই, ইনকাম নাই। ব্যাংক প্রতিদিন ফোন দেয়। ছেলেমেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারছি না।”

কারখানা বন্ধ থাকায় কয়েক হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক কারখানা অর্ধেক বেতনে শ্রমিকদের ছুটি দিয়েছে।

একজন শ্রমিক বলেন, “১৫ দিন ধরে কাজ নাই। বাসা ভাড়া, বাজারের টাকা কই পাব? মালিকও বলছে গ্যাস নাই, কী করব?”

তিতাস গ্যাস সূত্র জানায়, কালিয়াকৈরে শিল্প ও আবাসিক মিলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে ৪০-৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে রেশনিং করে এই সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের নামে শতাধিক মানুষের টাকা নেওয়ার অভিযোগ

গাজীপুর চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তা অপূরণীয়। সরকারের কাছে তাদের দাবি, আগামী ৩ মাসের ব্যাংক কিস্তি, সুদ ও জরিমানা মওকুফ করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম ফখরুল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কালিয়াকৈর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকলে জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য জোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে।”