Dhaka ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ডুমুরিয়ায় ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত বুড়িচংয়ে কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও হামলার অভিযোগ, আহত ৫ ‎আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত নেতৃত্বে সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত নূর মোহাম্মদ রাসেল ‎সাভার থানা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত রফিকুল ইসলাম নোমান গাইবান্ধায় ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার সেবার নামে হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ। ‎ বিষ্ণুপুর প্রাণকৃষ্ণ মেমোরিয়াল মাধ্যমিকের সভাপতি ড. মিজানুর নড়াইলে বজ্রপাতে দুই জন নিহত ও যাত্রীবাহী বাস উল্টে নারী-পুরুষ, শিশুসহ আহত ২০ রাঙ্গাবালীতে সাগরে নিষিদ্ধ অমান্য করে পাঁচ ট্রলার মালিক কে জরিমান পুঠিয়ায় দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ নেত্রকোনা দূর্গাপুরের ফাতেমা খাতুন সহতার পরিবারবর্গ কে প্রাণের হুমকি অভিযোগ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

গাইবান্ধায় ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার সেবার নামে হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ। ‎

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:১৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ১৩ Time View

ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।


গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এসে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন সংশোধন, নাগরিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, ওয়ারিশ সনদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন সুবিধা পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে।

‎সরেজমিনে, বিভিন্ন সময়ে জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে তালা ঝুলছে। এ সময় বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

‎পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি আসতেছি।তবে নির্ধারিত অফিস সময় পার হওয়ার পরও তাকে কক্ষে পাওয়া যায়নি।

‎এ সময় ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন গ্রাম ও যমুনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল থেকে আসা সেবাপ্রার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেউ জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য, কেউ নাগরিক সনদ সংগ্রহে, আবার কেউ সরকারি ভাতার সুবিধা পেতে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। তাদের অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের সময়মতো না পাওয়ায় একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল নিয়মিত সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না। অনেক সময় দুপুরের পরও তাকে অফিসে পাওয়া যায় না। এতে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

‎ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল ও কম্পিউটার অপারেটর বুলবুল বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজপত্রে ভুল ধরা, অনলাইন জটিলতার অজুহাত দেখানো কিংবা ফাইল আটকে রেখে পরে টাকা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।

‎সেবা নিতে আসা আবিদ নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজে ভুল ধরা হয়। পরে বলা হয় অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ হবে, না হলে কাজ আটকে থাকবে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এটি একটি কৌশল।

‎জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বসন্তেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনিকা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর সাত মাস ধরে নানা অজুহাতে আমাকে ঘুরানো হচ্ছে।

‎একই গ্রামের আব্দুল মাওলা বলেন,আমার ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন জরুরি ছিল। এ কাজ করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটর আমার কাছ থেকে আট হাজার টাকা নেন। পরে দিনের পর দিন ঘোরানোর পর তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে আমার কাজ সম্পন্ন করে দেন।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান না করলে অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে বিলম্ব হয়। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‎অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল বলেন,আজ একটু দেরি হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো কাজ আমি করিনি।

আরও পড়ুনঃ  আদমদীঘিতে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন মামলায় ৪ নারী সহ ১৩ আসামি গ্রেপ্তার!!

ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ‎(কম্পিউটার অপারেটর) বুলবুল বলেন, যেসব কাগজপত্রে ভুলের অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ২০১১-১২ সালে হাতে লেখা হয়েছিল। এসব ভুল আবেদনকারীদের তথ্যগত ত্রুটির কারণে হয়েছে, আমার কোনো ভুল নেই। তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, আজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেরিতে অফিসে আসার বিষয়টি ফোন দিয়ে শুনছি দেখি কেন দেরী হলো ।

‎তিনি আরো বলেন অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

‎সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন,এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ডুমুরিয়ায় ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

গাইবান্ধায় ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার সেবার নামে হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ। ‎

সময়: ০৮:১৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।


গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এসে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন সংশোধন, নাগরিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, ওয়ারিশ সনদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন সুবিধা পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে।

‎সরেজমিনে, বিভিন্ন সময়ে জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে তালা ঝুলছে। এ সময় বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

‎পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি আসতেছি।তবে নির্ধারিত অফিস সময় পার হওয়ার পরও তাকে কক্ষে পাওয়া যায়নি।

‎এ সময় ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন গ্রাম ও যমুনা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল থেকে আসা সেবাপ্রার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেউ জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য, কেউ নাগরিক সনদ সংগ্রহে, আবার কেউ সরকারি ভাতার সুবিধা পেতে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। তাদের অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের সময়মতো না পাওয়ায় একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হচ্ছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল নিয়মিত সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না। অনেক সময় দুপুরের পরও তাকে অফিসে পাওয়া যায় না। এতে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

‎ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল ও কম্পিউটার অপারেটর বুলবুল বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজপত্রে ভুল ধরা, অনলাইন জটিলতার অজুহাত দেখানো কিংবা ফাইল আটকে রেখে পরে টাকা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।

‎সেবা নিতে আসা আবিদ নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কাগজে ভুল ধরা হয়। পরে বলা হয় অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ হবে, না হলে কাজ আটকে থাকবে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এটি একটি কৌশল।

‎জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বসন্তেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনিকা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর সাত মাস ধরে নানা অজুহাতে আমাকে ঘুরানো হচ্ছে।

‎একই গ্রামের আব্দুল মাওলা বলেন,আমার ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন জরুরি ছিল। এ কাজ করে দেওয়ার কথা বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটর আমার কাছ থেকে আট হাজার টাকা নেন। পরে দিনের পর দিন ঘোরানোর পর তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে আমার কাজ সম্পন্ন করে দেন।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান না করলে অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে বিলম্ব হয়। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‎অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাছুম কামাল বলেন,আজ একটু দেরি হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো কাজ আমি করিনি।

আরও পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও হামলার অভিযোগ, আহত ৫

ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ‎(কম্পিউটার অপারেটর) বুলবুল বলেন, যেসব কাগজপত্রে ভুলের অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ২০১১-১২ সালে হাতে লেখা হয়েছিল। এসব ভুল আবেদনকারীদের তথ্যগত ত্রুটির কারণে হয়েছে, আমার কোনো ভুল নেই। তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেন।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, আজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেরিতে অফিসে আসার বিষয়টি ফোন দিয়ে শুনছি দেখি কেন দেরী হলো ।

‎তিনি আরো বলেন অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

‎সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন,এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।