Dhaka ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
পলাশবাড়ীতে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে দলিল সম্পাদন ও জমি দখলের অভিযোগ তাহিরপুরে খাল ইজারার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন শিবপুরে গভীর রাত পর্যন্ত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইউএনও চরভদ্রাসনে ৭ পিস কথিত ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার আদমদীঘিতে সাইবার সুরক্ষা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেফতার! কুইন্স লাইব্রেরিতে লেখকের অঙ্গনের ৩০তম গ্রন্থালোচনা অনুষ্ঠিত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপূজার মণ্ডপে মণ্ডপে এমপি মিলন, দিলেন পাশে থাকার আশ্বাস ধর্ম-বর্ণ নয়, পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি, চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বম্ভরপুরে ২৬টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, নেতৃবৃন্দের শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

তাহিরপুরে খাল ইজারার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:৫৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ Time View

আমির হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বোরখাড়া গ্রামের পাশের একটি খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকায় পারাপারের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খালটি ইজারা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তবে খালটির ইজারার বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে অসংগতি দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোরখাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি ছোট খালে সম্প্রতি বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকায় পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পারাপারকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, আগে সেখানে এভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকা পারাপারের নামে অর্থ আদায় কিংবা ইজারার ব্যবস্থা ছিল না। হঠাৎ এমন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মিয়া বলেন, “সাংবাদিকরা লিখে কী করতে পারবে?” এ সময় তিনি খালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে ইজারার অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, অনুমোদনের শর্ত কিংবা বৈধ কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া খালটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “এখানে কোনো ইজারা নেই।” ফলে খালটির ইজারা নিয়ে হাফিজ মিয়া ও ইউপি চেয়ারম্যানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, হাফিজ মিয়া দাবি করেছেন, ইজারা থেকে আদায় করা অর্থ স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোন মাদ্রাসায়, কী প্রক্রিয়ায় এবং কত টাকা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইজারার লিখিত অনুমোদন, অর্থ আদায়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  মাদকবিরোধী গণসমাবেশে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু_এমপি.

স্থানীয়দের প্রশ্ন, খালটি যদি বৈধভাবে ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কে এবং কী শর্তে ইজারা দেওয়া হয়েছে? আর ইজারা না থাকলে কোন ক্ষমতাবলে খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকা পারাপারের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে?

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. বি. এম. এস. আর. আলিফ বলেন, “ঠিকানা দিন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

এলাকাবাসী খালটির ইজারার বৈধতা, বাঁশের বেড়া স্থাপনের অনুমতি এবং অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, খালটি সরকারি বা জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য জলপথ হলে সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং অর্থ আদায়ের আইনগত ভিত্তি যাচাই করা জরুরি।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং খালটির মালিকানা ও ইজারার প্রকৃত অবস্থা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

পলাশবাড়ীতে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে দলিল সম্পাদন ও জমি দখলের অভিযোগ

তাহিরপুরে খাল ইজারার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

সময়: ০৭:৫৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আমির হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বোরখাড়া গ্রামের পাশের একটি খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকায় পারাপারের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খালটি ইজারা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তবে খালটির ইজারার বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে অসংগতি দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোরখাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি ছোট খালে সম্প্রতি বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকায় পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পারাপারকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, আগে সেখানে এভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকা পারাপারের নামে অর্থ আদায় কিংবা ইজারার ব্যবস্থা ছিল না। হঠাৎ এমন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মিয়া বলেন, “সাংবাদিকরা লিখে কী করতে পারবে?” এ সময় তিনি খালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে ইজারার অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, অনুমোদনের শর্ত কিংবা বৈধ কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া খালটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “এখানে কোনো ইজারা নেই।” ফলে খালটির ইজারা নিয়ে হাফিজ মিয়া ও ইউপি চেয়ারম্যানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, হাফিজ মিয়া দাবি করেছেন, ইজারা থেকে আদায় করা অর্থ স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোন মাদ্রাসায়, কী প্রক্রিয়ায় এবং কত টাকা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইজারার লিখিত অনুমোদন, অর্থ আদায়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ভূরুঙ্গামারীতে মাদকের আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৩

স্থানীয়দের প্রশ্ন, খালটি যদি বৈধভাবে ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কে এবং কী শর্তে ইজারা দেওয়া হয়েছে? আর ইজারা না থাকলে কোন ক্ষমতাবলে খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকা পারাপারের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে?

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. বি. এম. এস. আর. আলিফ বলেন, “ঠিকানা দিন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

এলাকাবাসী খালটির ইজারার বৈধতা, বাঁশের বেড়া স্থাপনের অনুমতি এবং অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, খালটি সরকারি বা জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য জলপথ হলে সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং অর্থ আদায়ের আইনগত ভিত্তি যাচাই করা জরুরি।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং খালটির মালিকানা ও ইজারার প্রকৃত অবস্থা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।