হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:
প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মননশীল চর্চার ধারাবাহিকতায় ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ৩০তম গ্রন্থালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে সাহিত্যপ্রেমী কবি, গবেষক ও পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। খবর আইবিএননিউজ ও বাপসনিউজের।
‘লেখকের অঙ্গন’-এর পরিচালক নীরা কাদরীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখকদের বিভিন্ন গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক এবিএম সালেহ উদ্দীন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি নজরুল অনূদিত পারস্যের কবি ওমর খৈয়ামের ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ গ্রন্থের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক, কাব্যশৈলী, ভাষা ও বিষয়বস্তুর গভীরতা তুলে ধরেন।
আলোচনায় তিনি মূল ফার্সি ভাষা থেকে বাংলায় এ ধরনের অনুবাদে নজরুলের অসাধারণ দক্ষতা ও বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন ভাষায় নজরুলের জ্ঞান, মেধা ও সাহিত্যিক দক্ষতার অনন্য প্রকাশ ঘটেছে এ অনুবাদগ্রন্থে। বাংলা সাহিত্যে নজরুল অনূদিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। গ্রন্থটির মূল ভূমিকায় সৈয়দ মুজতবা আলীর পনেরো পৃষ্ঠার দীর্ঘ লেখায় ওমর খৈয়াম ও কাজী নজরুল ইসলামের মননশীলতার পরিচয় উঠে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এরপর কবি ও কথাসাহিত্যিক মনিজা রহমান প্রখ্যাত সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস ‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’ নিয়ে আলোচনা করেন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত এ উপন্যাসে সামাজিক ও রাজনৈতিক অবক্ষয়ের ফলে মানুষের নৈতিক স্খলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। আলোচনায় তিনি উপন্যাসটিতে নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার রূঢ় বাস্তবতা এবং মানুষের জীবনবোধের নানা দিক বিশ্লেষণ করেন।
পরবর্তী আলোচক লেখক ও কবি সুরীত বড়ুয়া উর্দু সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখক কিষাণ চন্দর রচিত এবং আনোয়ারা বেগম কর্তৃক বাংলায় অনূদিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘গাদ্দার’ নিয়ে আলোচনা করেন। দেশভাগের অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, অবর্ণনীয় কষ্ট ও মানবিক অনুভূতির বিভিন্ন দিক তাঁর আলোচনায় উঠে আসে। পাশাপাশি তিনি সে সময়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেন।
সুদূর ফিলাডেলফিয়া থেকে আগত কবি কাউসারী মালেক রোজী তাঁর লেখা ‘আধুনিক কালে সম্পর্কের টানাপোড়েন’ শীর্ষক নিবন্ধ নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর আলোচনায় মননশীল সাহিত্য সৃষ্টির নিজস্ব ধারা, সৃজনশীলতার স্বরূপ ও এর বিন্যাসের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তার ব্যাপ্তি, প্রেরণার উৎস এবং সাবলীল প্রকাশভঙ্গির বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়।
সবশেষে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আহমাদ মাযহার ইমতিয়ার শামীমের ‘নতুন কবিতার কাল’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর আলোচনায় উঠে আসে বিস্মৃতপ্রায় কবি ও লেখক চৌধুরী ওসমানকে ঘিরে রচিত স্মৃতিনির্ভর এই গ্রন্থের বিভিন্ন দিক। বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখক, কবি ও সাহিত্যিকদের পত্রালাপনির্ভর এ সংকলনে চৌধুরী ওসমানকে ঘিরে সাহিত্যাঙ্গনের বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আনন্দমিশ্রিত অনুভূতির পরিচয় পাওয়া যায়। আলোচক তাঁর বক্তব্যে গ্রন্থটির সাহিত্যিক ও স্মৃতিমূলক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরিশেষে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর পরিচালক ও অনুষ্ঠানসঞ্চালক নীরা কাদরী আলোচকবৃন্দ, উপস্থিত সুধীজন, লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এরপর তিনি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
Reporter Name 



























