
মোহাম্মাদ হেদায়েতুল্লাহ্, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
আজ ৮ অক্টোবর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের কিংবদন্তি সাধক ও ‘সুরসম্রাট’ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন ত্রিপুরা প্রদেশের বর্তমান বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে এক সংগীতপ্রেমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
শৈশবে ‘আলম’ নামে পরিচিত আলাউদ্দিন খাঁ ছোটবেলা থেকেই সুরের প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী ছিলেন। তার বাবা সদর হোসেন খাঁ নিজেও একজন সংগীতজ্ঞ ছিলেন। বাবার কাছ থেকেই তিনি সংগীতের প্রতি অনুপ্রেরণা লাভ করেন। বাল্যকালে অগ্রজ ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁর কাছে তার সংগীতে হাতেখড়ি হয়। তবে তার প্রধান সংগীতগুরু ছিলেন আগরতলার রাজদরবারের সভা সংগীতজ্ঞ ও তানসেন বংশীয় রবাবী ওস্তাদ কাশিম আলী খাঁ।
মাত্র ১০ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাত্রাদলে যোগ দেওয়ার সময় তিনি গ্রামবাংলার জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, কীর্তনসহ বিভিন্ন লোকগানের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে কলকাতায় গিয়ে প্রখ্যাত সংগীতসাধক গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্য (নুলো গোপাল)-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। গুরু গোপালকৃষ্ণের মৃত্যুর পর আলাউদ্দিন খাঁ যন্ত্রসংগীতে মনোনিবেশ করেন। বাঁশি, সেতার, বেহালা, তবলা, মৃদঙ্গসহ বহু বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করে তিনি সংগীতজগতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সুরের ঐতিহ্য ও সংগীতসাধনাই তাকে বিশ্বদরবারে ‘সুরসম্রাট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৩৫ সালে বিশ্বভ্রমণের সময় তিনি ইংল্যান্ডের রানির কাছ থেকে ‘সুরসম্রাট’ খেতাব লাভ করেন বলে জানা যায়। ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানগুলোর মধ্যে পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন তিনি। এছাড়া বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশিকোত্তম এবং দিল্লি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তির অন্যতম তার সুযোগ্য শিষ্যরা। তার শিষ্যরা বিশ্বদরবারে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার পুত্র ওস্তাদ আলী আকবর খান এবং জামাতা পণ্ডিত রবিশঙ্কর দুজনই বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
কিংবদন্তি এই সংগীতসাধকের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নবীনগর উপজেলার উদ্যোগে শিবপুর সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করা হবে।
Reporter Name 



























