“জাতীয় কবি ও সাহিত্য সংসদের নতুন কমিটিতে সহ-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক কবি ও সাংবাদিক মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী”
মোঃ ফজলুল কবির গামা,
বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
কবিতা, সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতাকে সঙ্গী করে নিরন্তর এগিয়ে চলেছেন কবি ও সাংবাদিক মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী। সৃজনশীলতার প্রতি গভীর অনুরাগ, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সমাজের নানা বাস্তবতাকে লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্যচর্চা করে আসছেন তিনি। ইতোমধ্যে তাঁর শতাধিক কবিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। নিয়মিত লেখালেখির মধ্য দিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি। তাঁর কবিতায় উঠে আসে মানুষ ও সমাজের কথা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, প্রকৃতির সৌন্দর্য, ধর্মীয় অনুভূতি এবং গ্রামীণ জীবনের নানা চিত্র।
সৃজনশীল লেখালেখির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে কবিতা ও সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত রয়েছেন মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী। তাঁর লেখা কবিতা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকা, সাময়িকী ও সাহিত্যভিত্তিক প্রকাশনায় স্থান পেয়েছে। শতাধিক কবিতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে পরিচিতি অর্জন করেছেন। তাঁর লেখায় একদিকে যেমন প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের নির্মল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, অন্যদিকে তেমনি সমাজের নানা বাস্তবতা, মানুষের জীবনসংগ্রাম, সুখ-দুঃখ, আশা-হতাশা ও মানবিক অনুভূতির প্রতিচ্ছবিও প্রকাশ পায়।
তাঁর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জীবনঘনিষ্ঠতা। চারপাশের পরিচিত মানুষ, প্রকৃতি, সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুভূতিকে তিনি সহজ, সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় কবিতার পঙ্ক্তিতে ধারণ করার চেষ্টা করেন। তাঁর সৃষ্টিতে কৃত্রিমতার চেয়ে জীবনের স্বাভাবিক স্পন্দনই বেশি অনুভূত হয়। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি মানুষের আবেগ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও জীবনযুদ্ধের নানা দিক তাঁর কবিতায় স্বতন্ত্র গুরুত্ব পেয়েছে। সমাজ, দেশ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও তাঁর লেখায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। দেশপ্রেম ও মানবিক চেতনাকে ধারণ করার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং গ্রামীণ জীবনের চেনা-জানা নানা অনুষঙ্গও তাঁর সৃষ্টিশীল লেখাকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
সাহিত্যচর্চায় তাঁর সক্রিয়তা ও আগ্রহের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় কবি ও সাহিত্য সংসদের সদস্যপদ লাভ করেন মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী। পরবর্তীতে সংগঠনটির নতুন কমিটিতে তাঁকে সহ-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব তাঁর সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এই দায়িত্বের মাধ্যমে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাঁর সামনে।
সাংবাদিকতার সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। সংবাদকর্মী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ঘটনা, মানুষের জীবনযাপন এবং সমকালীন নানা বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানুষের অন্তর্গত অনুভূতি ও জীবনের সূক্ষ্ম বাস্তবতাগুলো প্রকাশ করে চলেছেন। তাঁর কাছে লেখালেখি কেবল নিজের ভাবনা প্রকাশের মাধ্যম নয়; বরং সমাজ ও মানুষের কথা বলারও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সাংবাদিকতা তাঁকে বাস্তবতার আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে, আর সাহিত্য সেই বাস্তবতাকে অনুভূতি ও সৃজনশীলতার ভাষায় প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। এই দুই ধারার সমন্বয়ে নিজের লেখনীকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
জাতীয় কবি ও সাহিত্য সংসদের সদস্যপদ লাভ এবং সংগঠনটির নতুন কমিটিতে সহ-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্তি তাঁর সাহিত্যিক জীবনে নতুন উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। নতুন প্রজন্মের লেখকদের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসারে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে তাঁর মধ্যে। নিয়মিত লেখালেখির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে আরও বিস্তৃত পরিসরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যয় রয়েছে তাঁর।
সাহিত্যপ্রেমী, পাঠক ও সহকর্মীদের প্রত্যাশা, সৃজনশীলতার এই পথচলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন মোঃ আবু সাইদ শওকত আলী। তাঁর কলমে উঠে আসবে সময়, সমাজ ও মানুষের আরও গভীর কথকতা। সাহিত্য ও সাংবাদিকতার দুই অঙ্গনে নিজের স্বাতন্ত্র্য ধরে রেখে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন—এমন প্রত্যাশাই তাঁর শুভানুধ্যায়ী ও পাঠকদের। তাঁর সৃষ্টিশীল লেখনী পাঠকের হৃদয়ে আরও গভীরভাবে জায়গা করে নেবে এবং সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর পথচলা সময়ের সঙ্গে আরও সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ হবে।
Reporter Name 



























