Dhaka ১০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বালিয়াডাঙ্গীতে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ শাহজালাল বিমানবন্দরে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ আটক ২ বুড়িচং কালীনারায়ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ইমরান খানকে একাকী কারাবাসে না রাখার নির্দেশ পাকিস্তান হাইকোর্টের দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দির পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন স্বাভাবিক ছন্দে শুরু হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির কার্যক্রম, গ্রাহকদের পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস হাতিয়ায় উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঝিনাইদহে ‘সবুজ বাংলা টিভি’র দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মানবিকতার দৃষ্টান্ত জুলাই যোদ্ধা রাসেল, পাশে দাঁড়ালেন অসুস্থ মোশাররফের ঝিকরগাছায় সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা করে এতিম ছাত্রীকে বেত্রাঘাতের অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

তিস্তায় টাস্কফোর্সের অভিযান: ধ্বংস ১৬ নৌকা ও ৪ ইঞ্জিন, আতঙ্কে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:২৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ Time View

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:


নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়েছে। নদীতে গভীর খাদ সৃষ্টি, স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা তিস্তাপাড়ের জনপদ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন সংবেদনশীল পয়েন্টে টানা অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌকা ও ৪টি মেশিন-ইঞ্জিন ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান, রংপুর ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-৫১) মেজর জুলকার নাঈন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। এ সময় ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার সঙ্গীয় ফোর্সসহ এবং বিজিবির ৬২ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারী ও সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামাল বানির ঘাট বিওপির জিম্মায় রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে তিস্তা নদীতে অবাধে পাথর উত্তোলন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও নদীভাঙনের আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

অভিযান শেষে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর মনোভাব নিয়ে টাস্কফোর্স মাঠে নেমেছে। পাথর উত্তোলনে সরাসরি জড়িত ও পেছনের মদদদাতাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দ্রুত তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী রক্ষায় এটি কোনো সাময়িক পদক্ষেপ নয়; টাস্কফোর্সের এই নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ভারী যন্ত্র বসিয়ে নদী থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে নদীর তলদেশে বিপজ্জনক খাদ তৈরি হয়ে গতিপথ বদলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তীরবর্তী লোকালয় ও আবাদি জমি ধসে পড়ার তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধ ও রাস্তাঘাটও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  "বিশ্বের মুসলিম জাতির গৌরব মর্যাদা পুনরুদ্ধারে মেধাভিত্তিক ধর্মচর্চার বিকল্প নেই- সৈয়্যদ মিনহাজুর রহমান

প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা। তারা জানান, কেবল সরঞ্জাম ধ্বংস করলেই হবে না; এর নেপথ্যে থাকা মূল কারিগর ও সিন্ডিকেট প্রধানদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বালিয়াডাঙ্গীতে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ

তিস্তায় টাস্কফোর্সের অভিযান: ধ্বংস ১৬ নৌকা ও ৪ ইঞ্জিন, আতঙ্কে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা

সময়: ০৮:২৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:


নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়েছে। নদীতে গভীর খাদ সৃষ্টি, স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা তিস্তাপাড়ের জনপদ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন সংবেদনশীল পয়েন্টে টানা অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌকা ও ৪টি মেশিন-ইঞ্জিন ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান, রংপুর ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-৫১) মেজর জুলকার নাঈন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। এ সময় ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার সঙ্গীয় ফোর্সসহ এবং বিজিবির ৬২ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারী ও সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে নদী থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামাল বানির ঘাট বিওপির জিম্মায় রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে তিস্তা নদীতে অবাধে পাথর উত্তোলন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও নদীভাঙনের আশঙ্কা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

অভিযান শেষে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর মনোভাব নিয়ে টাস্কফোর্স মাঠে নেমেছে। পাথর উত্তোলনে সরাসরি জড়িত ও পেছনের মদদদাতাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দ্রুত তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী রক্ষায় এটি কোনো সাময়িক পদক্ষেপ নয়; টাস্কফোর্সের এই নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ভারী যন্ত্র বসিয়ে নদী থেকে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে নদীর তলদেশে বিপজ্জনক খাদ তৈরি হয়ে গতিপথ বদলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তীরবর্তী লোকালয় ও আবাদি জমি ধসে পড়ার তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধ ও রাস্তাঘাটও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  আদমদীঘির নসরতপুর খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহ-মজুত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা। তারা জানান, কেবল সরঞ্জাম ধ্বংস করলেই হবে না; এর নেপথ্যে থাকা মূল কারিগর ও সিন্ডিকেট প্রধানদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।