আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা (যশোর)
যশোরের ঝিকরগাছায় সরকারি নীতিমালা ও পরিপত্র উপেক্ষা করে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতের অভিযোগ উঠেছে এফ জে ইউ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে। ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১১’ লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীকে মারধরের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরন্দরপুর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে গদখালী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর জীবিকার তাগিদে স্বামী প্রবাসে চলে যান। প্রায় ১০ বছর আগে প্রবাসে তাঁর মৃত্যু হলে স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে পিত্রালয়ে আশ্রয় নেন। আর্থিক সংকট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর ছোট মেয়েকে চলতি বছরের শুরুতে এফ জে ইউ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, গত রোববার (৩০ আগস্ট) গণিত ক্লাস চলাকালে পড়া ঠিকমতো বলতে না পারায় ওই শিক্ষার্থীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইমদাদুল হক বেত্রাঘাত করেন। পরে পরবর্তী ক্লাসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থী মাথা ঘুরে পড়ে যায়। বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়িতে ফেরার পর তার শরীরে ব্যথা ও অসুস্থতা দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর মামা পশু চিকিৎসক টুটুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ভাগ্নি মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের। গণিতের খাতায় মাত্র দুটি লাইন বাকি থাকায় তাকে মারধর করা হয়। তিনি দাবি করেন, এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। অভিভাবকরা প্রতিবাদ করতে গেলে সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো শিক্ষকের অযথা সম্মানহানি চাই না। তবে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইমদাদুল হক শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার উদ্দেশ্যে শিক্ষকরা মাঝেমধ্যে শাসন করেন। তবে ওই দিন ভুলবশত একটু বেশি মাত্রায় আঘাত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ—এ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, উত্তেজনার বশে তিনি ভুল করেছেন। পরে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি অনুতপ্ত হয়েছেন এবং পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাবেক শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা সন্তানের মতো। তবে বর্তমানে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেওয়া বা কঠোর শাস্তি দেওয়া নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অনুপস্থিত থাকায় সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বা বেত্রাঘাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগ পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তিনি শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্তের পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
Reporter Name 























