Dhaka ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগীদের দালালের হাতে জিন্মি 🌙 মানব জীবন পত্রিকার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক 🌙 সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য অপরাজয়ের সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান সমাজ ও মানবসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে “ইসলামিক সেবক সম্মাননা” পেলেন মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক প্রবর্তক মোড়ে ছিনতাই, জনতার হাতে আটক সিএনজি চালক শোক সংবাদ কক্সবাজার আয়কর অফিসের সাবেক প্রধান সহকারী মোঃ ছাবের আহমদের দাফন সম্পন্ন প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ গাজা উদ্ধার আত্মহত্যার চেষ্টার পর মারা গেলেন বগুড়ার এএসআই রবিউল ইসলাম
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

দিরাই-শাল্লায় সুরমানদীতে নৌকা বাইচ, ডাঙায় লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস

তৌফিকুর রহমান তাহের, সুনামগঞ্জ বিশেষ প্রতিনিধি:

 

 

ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। তবে আবহাওয়া যতই বৈরী হোক না কেন, সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লার মানুষ তা উপেক্ষা করে নেমে পড়ে এক অনন্য উৎসবে—নৌকা বাইচ

শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকেই দিরাই উপজেলার শ্যামারচর বাজার সংলগ্ন সুরমানদী তীরে হাজার হাজার মানুষ ছাতা মাথায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় জমায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে মানুষের ঢল। আর নদীতে ভেসে ওঠে সারি সারি বাইচের নৌকা।

 

এদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা
বিকেল ৩টার দিকে বৃষ্টি থেমে গেলে দ্বিগুণ উৎসাহে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া এ সংস্কৃতিকে ফিরে পেয়ে জনতার উল্লাস যেন নদীর গর্জনকেও হার মানায়।

 

 

 

এই আয়োজনটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির। তাঁকে সহায়তা করেন দিরাই-শাল্লার জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকাবাসী।

প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আর সভাপতিত্ব করেন মো. ইমাম জলিল
সঞ্চালনায় ছিলেন আশরাফ মনির।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:

১নং আটগাঁও ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নোমান,

সমাজকর্মী আজিজুর রহমান,

বকুলকান্তি তালুকদার,

মো. সোয়েব,

প্রশান্ত চৌধুরী,

বিধান, লিটন, সিরাজ, মিয়া প্রমুখ।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় আয়ুবতরী, যারা “স্বর্ণের হরিণ” প্রতীক নিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়।

মানুষের কণ্ঠে ঐতিহ্যের কথা

একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বলেন,
“নৌকা বাইচ যেখানে হয়, আমি সেখানে থাকি। এটা না দেখলে মন ভরে না। ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, আজও সেই উচ্ছ্বাস পাই।”

একজন বাইচাল বলেন,

“নৌকা আমাদের সম্মান। আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করি জয়ী হতে। এতে যে সম্মান আর আনন্দ মেলে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”

আয়োজক শিশির মোহাম্মদ মনির বলেন,

“আমাদের পূর্বপুরুষরাও নৌকা বাইচ করতেন। এটা আমাদের সংস্কৃতি ও আত্মার অংশ। এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে দিচ্ছি না। ব্যক্তিগতভাবে হলেও আমি এর ধারাবাহিকতা রাখতে চাই।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

দিরাই-শাল্লায় সুরমানদীতে নৌকা বাইচ, ডাঙায় লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস

সময়: ১১:১০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

তৌফিকুর রহমান তাহের, সুনামগঞ্জ বিশেষ প্রতিনিধি:

 

 

ভোর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। তবে আবহাওয়া যতই বৈরী হোক না কেন, সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লার মানুষ তা উপেক্ষা করে নেমে পড়ে এক অনন্য উৎসবে—নৌকা বাইচ

শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকেই দিরাই উপজেলার শ্যামারচর বাজার সংলগ্ন সুরমানদী তীরে হাজার হাজার মানুষ ছাতা মাথায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় জমায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে মানুষের ঢল। আর নদীতে ভেসে ওঠে সারি সারি বাইচের নৌকা।

 

এদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা
বিকেল ৩টার দিকে বৃষ্টি থেমে গেলে দ্বিগুণ উৎসাহে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া এ সংস্কৃতিকে ফিরে পেয়ে জনতার উল্লাস যেন নদীর গর্জনকেও হার মানায়।

 

 

 

এই আয়োজনটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করেন এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির। তাঁকে সহায়তা করেন দিরাই-শাল্লার জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকাবাসী।

প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আর সভাপতিত্ব করেন মো. ইমাম জলিল
সঞ্চালনায় ছিলেন আশরাফ মনির।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:

১নং আটগাঁও ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নোমান,

সমাজকর্মী আজিজুর রহমান,

বকুলকান্তি তালুকদার,

মো. সোয়েব,

প্রশান্ত চৌধুরী,

বিধান, লিটন, সিরাজ, মিয়া প্রমুখ।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় আয়ুবতরী, যারা “স্বর্ণের হরিণ” প্রতীক নিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়।

মানুষের কণ্ঠে ঐতিহ্যের কথা

একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বলেন,
“নৌকা বাইচ যেখানে হয়, আমি সেখানে থাকি। এটা না দেখলে মন ভরে না। ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, আজও সেই উচ্ছ্বাস পাই।”

একজন বাইচাল বলেন,

“নৌকা আমাদের সম্মান। আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করি জয়ী হতে। এতে যে সম্মান আর আনন্দ মেলে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”

আয়োজক শিশির মোহাম্মদ মনির বলেন,

“আমাদের পূর্বপুরুষরাও নৌকা বাইচ করতেন। এটা আমাদের সংস্কৃতি ও আত্মার অংশ। এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে দিচ্ছি না। ব্যক্তিগতভাবে হলেও আমি এর ধারাবাহিকতা রাখতে চাই।”