পাবনা প্রতিনিধি | মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া, পাবনা
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিধবা রাজিনা খাতুনের (৫৫) মৃত্যু নিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করার পর এবার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত রাশিদুল ইসলাম ওরফে রাসেল। তিনি রাজিনা খাতুনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা দাবি করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাশিদুল ইসলাম বলেন, রাজিনা খাতুন তাঁর চাচি। গত ২ এপ্রিল তাঁর চাচা রফিকুল ইসলাম মারা যান। এরপর থেকে রাজিনা খাতুন নিজ বাড়িতে একাকী বসবাস করতেন।
রাশিদুলের দাবি, গত ১৭ অক্টোবর রাতে নিজ বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন রাজিনা খাতুন। খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে যান। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মরদেহ নামানো হয় এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে দাফন সম্পন্ন হয় বলে জানান তিনি।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
রাশিদুলের দাবি, তাঁর চাচা জীবিত থাকতেই স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি একমাত্র মেয়ে শাম্মী আক্তার বৃষ্টি খাতুনের নামে লিখে দেন। এ ছাড়া চাচার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার রাজিনা খাতুনের ভাইদের কাছে গচ্ছিত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
রাশিদুলের অভিযোগ, মৃত্যুর চার-পাঁচ দিন আগে রাজিনা খাতুন ওই টাকা ও স্বর্ণালংকার আনতে গেলেও তাঁকে সেগুলো না দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর ধারণা, একাকিত্ব এবং ভাইদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির কারণে রাজিনা খাতুন আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাশিদুল আরও অভিযোগ করেন, রাজিনা খাতুনের মরদেহ দাফন শেষে বাড়িতে ফেরার পর তাঁর চাচির ভাই ও আত্মীয়স্বজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজিনা খাতুনের মৃত্যুর সঙ্গে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে রাশিদুল তাঁর চাচির ভাই দেলোয়ার হোসেন, হেলাল হোসেন ও সোহেল রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে হত্যার অভিযোগ তুলেছিল নিহতের পরিবার
এর আগে গত ২২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে রাজিনা খাতুনের ভাই দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর বোনের স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
দেলোয়ারের দাবি, রাজিনা খাতুনকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। মরদেহের কোমর, গলা ও আঙুলে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন দেলোয়ার। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি মাসের ১৮ তারিখে রাজিনা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ২২ অক্টোবর তাঁর বাবার বাড়ির পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর ভাতিজা রাশিদুল ইসলাম পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আত্মহত্যার দাবি করেন এবং অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
দুই পক্ষের বক্তব্যে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। তবে রাজিনা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তদন্তের ফলাফল এখানে উল্লেখ করা হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও প্রমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
Focus Keyphrase:
SEO Title:
Meta Description:
Reporter Name 



























