Dhaka ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ঝিনাইদহে সাইবার সেলের অভিযানে ১০৪ মোবাইল ও ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার যে উস্তাদ শিখিয়েছেন কোরআন, সেই উস্তাদকেই ওমরাহর উপহার দিলেন ছাত্ররা” ডিমলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত সাপাহারে শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি রেজাউল, সম্পাদক আইনুল নির্বাচিত ঔষধ ও চিকিৎসক সংকটে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল জল্পনা কল্পনার অবসান বীরগঞ্জে নতুন সার ডিলারি পেলেন যারা যারা খুলনায় পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের উপর হামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী মিরাজ সহযোগী সহ গ্রেফতার মালিককে না জানিয়েই গাড়ির মালিকানা বদলে দিল বিআরটিএ দুদকে অভিযোগ নরসিংদীর ভরতের কান্দিতে পুত্রের হাতে পিতা খুন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক গ্রেপ্তার খুনি শাকিলকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, এএসআই আরিফুর রহমান পেলেন বিশেষ সম্মাননা ও সার্টিফিকেট
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

রমজানে অপরাধ করা কাম্য নয়

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ২০৫ Time View

 

 মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী,


যখন রমজানের আগমন ঘটে তখন মুমিন বান্দারা খুশি হয়ে যায়, রমজানের বাতাশ লেগে যায় শিশুদের গায়ে৷ শিশুরা একসাথে দল বেঁধে মসজিদে যায়। ভোরে বেলায় পাখিরা ডাক দেয়, ভোরের ঠান্ডা বাতাশ মুগ্ধ করে। কি সুন্দর পরিবেশ রমজান মাসে সৃষ্টি হয়, আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগ এই রমজাসে মাসে। আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, যখন রমযান মাস আসে তখন আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়।

(বুখারী শরীফ, খন্ড-১ম, পৃষ্ঠা ৬২৬,হাদীস নং-১৮৯৯) এই রমজান দিবে পরকালে শান্তি ও সুখ, সকল নবীদের মাথার তাজ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে বলা হয় রাইয়ান । কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে রোযাদারগণ প্রবেশ করবে। অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। রোযাদারগণ প্রবেশ করলে এ দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আর কেউ সেখান দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস-১৭৯৭ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস – ২৭৬৬ ) কিছু মানুষ সারা বছর অন্যায় অপরাধ ও জুলুম করে, কিন্তু দুংখের বিষয় হচ্ছে রমজান মাসেও তাঁরা এই সব অন্যায় অপরাধ ও জুলুম করে৷ তাঁরা এই রমজান মাসেও ভাল হতে চায় না ও রমজানের শিক্ষা গ্রহন করতে চায় না। তাঁরা সবসময় ঝড়গা ও খারাপ ব্যবহার করে, তাঁদের ব্যবহার ফেরাউন ও নমরুদের মতো৷ আমাদের প্রিয় নবীজী (সাঃ) বলেন, যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি রোজা রাখে তখন সে যেন কোন অশ্লীল কথাবার্তা বা ঝগড়া বিবাদ না করে। যদি অন্য কোন ব্যক্তি তাকে গালি দেয় তাহলে সে (রোজাদার) যেন (তার উত্তরে গালি না দেয় বরং সে বলবে) আমি রোজাদার। (সহিরবুখারি, হাদিস -১৯০৪, সহি, মুসলিম হাদিস-১১১৫, সুনানে আবু দাউদ হাদিস-২৩৬৩, সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস- ৬৮২,৬৮৩) তাঁরা সারা বছর মিথা কথা বলে, রমজানেও তাঁরা মিথ্যা কথা বলে, প্রিয় নবীজী (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা এবং অন্যায় কাজ করা থেকে বিরত থাকবে না তাহলে তার সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকা আল্লাহ তায়ালার কোন প্রয়োজন নেই। (সহি, বুখারী হাদিস -১৯০৪, সুনানে তিরমিজি হাদিস-৭০৭, সুনানে আবু দাউদ হাদিস -২৩৬২, সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস-১৬৮৯) তাঁরা সারা বছর সমালোচনা ও নিন্দা করে, রমজানেও তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও নিন্দা করে৷ আল্লাহ বলেন, প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, (সূরা হুমাযাহ, আয়াত-১) এই আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা তাফসীরে জালালাঈন শরীফে বলা হয়েছে, সমালোচনাকারী ও নিন্দুকেরা হুতামা জাহান্নামে থাকবে তাঁদেরকে লোহার সিন্ধুকের ভিতরে ভরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তাদের চিৎকার কোন কাজে আসবে না৷ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারা বছর খাদ্য ভেজাল ও ওজনে কম দেয়। রমজানে মাসে ক্রেতা বেশী থাকে, তাঁরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরো বেশী খাদ্য ভেজাল করে ও ওজনে কম দেয়। অথচ ওজনে কম দেওয়ার কারণে আল্লাহ তায়ালা মাদইয়ান জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে৷ খাদ্য ভেজাল করা ও ওজনে কম দেওয়া এটা মারক্তক অপরাধ৷ এই সব অসাধু ব্যবসায়ীদের আল্লাহ দুংখ কষ্ট ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবে৷ আল্লাহ বলেন, যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ, যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয় এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে।

আরও পড়ুনঃ  কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলাম এবং মুসলমানের পরিচয়

সেই মহাদিবসে, যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে। এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে। আপনি জানেন, সিজ্জীন কি?

এটা লিপিবদ্ধ খাতা।সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের,যারা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যারোপ করে।প্রত্যেক সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠই কেবল একে মিথ্যারোপ করে। (সূরা মুতাফফীফিন,আয়াত-১,থেকে ১২) যাদের উপর যাকাত ফরয হয়েছে, তাঁদেরকে অবশ্য যাকাত দিতে হবে৷ আল্লাহ বলেন, হে মুমীনগণ, তোমরা তোমাদের পবিত্র উপার্জন থেকে খরচ কর (যাকাত প্রদান কর) এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা বের করেছি তা থেকে (যাকাত প্রদান কর) (সূরা বাকারা, আয়াত-২৬৭) অথচ এই রমজান মাসে যাদের যাকাত দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাঁরা অনেকে যাকাত দেয় না, এটা খুব মারক্তক অপরাধ ও মিসকিন হক নষ্ট করা। আল্লাহ বলেন, ধ্বংস মুশরিকদের জন্য, যারা যাকাত প্রদান করে না, আর যারা আখেরাতে অবিশ্বাস করে। (সূরা ফুসসিলাত,আয়াত-৬) আসুন আমরা রমজানে এই সব অন্যায় অপরাধ করবো না, আমরা এই রমজান মাসে তাওবা করে ও আমল করে যেন আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারি, আমিন।

লেখক: আলেম, গবেষক।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ঝিনাইদহে সাইবার সেলের অভিযানে ১০৪ মোবাইল ও ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার

রমজানে অপরাধ করা কাম্য নয়

সময়: ০৫:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

 

 মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী,


যখন রমজানের আগমন ঘটে তখন মুমিন বান্দারা খুশি হয়ে যায়, রমজানের বাতাশ লেগে যায় শিশুদের গায়ে৷ শিশুরা একসাথে দল বেঁধে মসজিদে যায়। ভোরে বেলায় পাখিরা ডাক দেয়, ভোরের ঠান্ডা বাতাশ মুগ্ধ করে। কি সুন্দর পরিবেশ রমজান মাসে সৃষ্টি হয়, আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগ এই রমজাসে মাসে। আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, যখন রমযান মাস আসে তখন আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়।

(বুখারী শরীফ, খন্ড-১ম, পৃষ্ঠা ৬২৬,হাদীস নং-১৮৯৯) এই রমজান দিবে পরকালে শান্তি ও সুখ, সকল নবীদের মাথার তাজ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে বলা হয় রাইয়ান । কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে রোযাদারগণ প্রবেশ করবে। অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। রোযাদারগণ প্রবেশ করলে এ দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আর কেউ সেখান দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী, হাদীস-১৭৯৭ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস – ২৭৬৬ ) কিছু মানুষ সারা বছর অন্যায় অপরাধ ও জুলুম করে, কিন্তু দুংখের বিষয় হচ্ছে রমজান মাসেও তাঁরা এই সব অন্যায় অপরাধ ও জুলুম করে৷ তাঁরা এই রমজান মাসেও ভাল হতে চায় না ও রমজানের শিক্ষা গ্রহন করতে চায় না। তাঁরা সবসময় ঝড়গা ও খারাপ ব্যবহার করে, তাঁদের ব্যবহার ফেরাউন ও নমরুদের মতো৷ আমাদের প্রিয় নবীজী (সাঃ) বলেন, যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি রোজা রাখে তখন সে যেন কোন অশ্লীল কথাবার্তা বা ঝগড়া বিবাদ না করে। যদি অন্য কোন ব্যক্তি তাকে গালি দেয় তাহলে সে (রোজাদার) যেন (তার উত্তরে গালি না দেয় বরং সে বলবে) আমি রোজাদার। (সহিরবুখারি, হাদিস -১৯০৪, সহি, মুসলিম হাদিস-১১১৫, সুনানে আবু দাউদ হাদিস-২৩৬৩, সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস- ৬৮২,৬৮৩) তাঁরা সারা বছর মিথা কথা বলে, রমজানেও তাঁরা মিথ্যা কথা বলে, প্রিয় নবীজী (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা এবং অন্যায় কাজ করা থেকে বিরত থাকবে না তাহলে তার সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকা আল্লাহ তায়ালার কোন প্রয়োজন নেই। (সহি, বুখারী হাদিস -১৯০৪, সুনানে তিরমিজি হাদিস-৭০৭, সুনানে আবু দাউদ হাদিস -২৩৬২, সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস-১৬৮৯) তাঁরা সারা বছর সমালোচনা ও নিন্দা করে, রমজানেও তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও নিন্দা করে৷ আল্লাহ বলেন, প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, (সূরা হুমাযাহ, আয়াত-১) এই আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা তাফসীরে জালালাঈন শরীফে বলা হয়েছে, সমালোচনাকারী ও নিন্দুকেরা হুতামা জাহান্নামে থাকবে তাঁদেরকে লোহার সিন্ধুকের ভিতরে ভরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন তাদের চিৎকার কোন কাজে আসবে না৷ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারা বছর খাদ্য ভেজাল ও ওজনে কম দেয়। রমজানে মাসে ক্রেতা বেশী থাকে, তাঁরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরো বেশী খাদ্য ভেজাল করে ও ওজনে কম দেয়। অথচ ওজনে কম দেওয়ার কারণে আল্লাহ তায়ালা মাদইয়ান জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে৷ খাদ্য ভেজাল করা ও ওজনে কম দেওয়া এটা মারক্তক অপরাধ৷ এই সব অসাধু ব্যবসায়ীদের আল্লাহ দুংখ কষ্ট ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবে৷ আল্লাহ বলেন, যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ, যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয় এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে।

আরও পড়ুনঃ  কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলাম এবং মুসলমানের পরিচয়

সেই মহাদিবসে, যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে। এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে। আপনি জানেন, সিজ্জীন কি?

এটা লিপিবদ্ধ খাতা।সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের,যারা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যারোপ করে।প্রত্যেক সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠই কেবল একে মিথ্যারোপ করে। (সূরা মুতাফফীফিন,আয়াত-১,থেকে ১২) যাদের উপর যাকাত ফরয হয়েছে, তাঁদেরকে অবশ্য যাকাত দিতে হবে৷ আল্লাহ বলেন, হে মুমীনগণ, তোমরা তোমাদের পবিত্র উপার্জন থেকে খরচ কর (যাকাত প্রদান কর) এবং আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা বের করেছি তা থেকে (যাকাত প্রদান কর) (সূরা বাকারা, আয়াত-২৬৭) অথচ এই রমজান মাসে যাদের যাকাত দেওয়ার সামর্থ্য আছে তাঁরা অনেকে যাকাত দেয় না, এটা খুব মারক্তক অপরাধ ও মিসকিন হক নষ্ট করা। আল্লাহ বলেন, ধ্বংস মুশরিকদের জন্য, যারা যাকাত প্রদান করে না, আর যারা আখেরাতে অবিশ্বাস করে। (সূরা ফুসসিলাত,আয়াত-৬) আসুন আমরা রমজানে এই সব অন্যায় অপরাধ করবো না, আমরা এই রমজান মাসে তাওবা করে ও আমল করে যেন আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারি, আমিন।

লেখক: আলেম, গবেষক।