
মোহাম্মাদ হেদায়েতুল্লাহ্, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি
একজন উস্তাদ শুধু শিক্ষাদান করেন না, তিনি শিক্ষার্থীর হৃদয়ে পবিত্র কোরআনের আলো জ্বালান, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেন এবং জীবন গড়ার পথ দেখান। তাঁর স্নেহ, শাসন, দিকনির্দেশনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে একজন শিক্ষার্থী হয়ে ওঠেন আলোকিত মানুষ। আর সেই উস্তাদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যখন সুযোগ আসে, তখন তা হয়ে ওঠে এক অনন্য আবেগের উপলক্ষ। এমনই এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকোট ইউনিয়নের সেমন্তঘর ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রাক্তন ৩০ পাড়া জাফেজে কুরআন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদ, উস্তাজুল হুফ্ফাজ হাফেজ ফজলুল হক হুজুরকে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দিয়ে তাঁরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পবিত্র সম্পর্ক ও অকৃত্রিম ভালোবাসার এক অনুকরণীয় নজির স্থাপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাদ জোহর সেমন্তঘর ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার মিলনায়তনে প্রিয় উস্তাদ হাফেজ ফজলুল হক হুজুরের সম্মানে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাদ্রাসার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়।
২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁদের কাছে হাফেজ ফজলুল হক হুজুর কেবল একজন শিক্ষক নন; তিনি পবিত্র কোরআনের শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতার আলোয় জীবন গঠনের একজন সম্মানিত পথপ্রদর্শক। তাঁর কাছ থেকে অর্জিত শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁকে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়া তাঁদের আন্তরিক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেমন্তঘর মাদ্রাসার সভাপতি জাকির হোসেন ভূঁইয়া। সার্বিক উপস্থাপনায় ছিলেন হাফেজ ক্বারী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ও আয়োজক হিসেবে বক্তব্য দেন হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, হাফেজ মাওলানা কাইছার আহমেদ সরাইলী এবং লেখক ও গবেষক হাফেজ মাওলানা জাবেদ হোসাইন।
এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেমন্তঘর ছাত্র ওলামা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসেন, মাওলানা ওয়াক্কাস, এস এম রবিউল ইসলাম রুবেল, হাফেজ মাওলানা মাজহারুল হক, মাওলানা আব্দুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একজন আদর্শ উস্তাদের প্রকৃত সার্থকতা তাঁর শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি তাঁদের হৃদয়ে নৈতিকতা, মানবিকতা ও শ্রদ্ধাবোধের বীজ বপন করতে পারার মধ্যে নিহিত। হাফেজ ফজলুল হক হুজুরের প্রতি তাঁর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই ভালোবাসা প্রমাণ করে, একজন শিক্ষকের আন্তরিক শিক্ষা ও আদর্শ শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে কত গভীরভাবে জায়গা করে নিতে পারে। শিক্ষকের প্রতি এমন সম্মান ও কৃতজ্ঞতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, যে উস্তাদ একদিন শিক্ষার্থীদের পবিত্র কোরআনের শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাঁদের জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, সেই উস্তাদকেই পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়া নিঃসন্দেহে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য উপহার। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পবিত্র আত্মিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে প্রিয় উস্তাদ হাফেজ ফজলুল হক হুজুরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, নেক হায়াত এবং পবিত্র ওমরাহ সফরের সার্বিক সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
Reporter Name 





















