Dhaka ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বিশ্বম্ভরপুরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা ও ভূট্টা উদ্ধার, গ্রেফতার ৫ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সুনামগঞ্জ ইউনিটের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ময়না হত্যায় স্বামী হেলাল কারাগারে রাজশাহীতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা ডিমলায় ১৪ বছরের কিশোরীর রহস্যজনক মৃত বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো কাবা শরিফের গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের মুখতার আলম, বাংলাদেশের অনন্য গৌরব ইয়াবাসহ আটক যুবকের স্বজনদের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় সাপের দংশনে প্রাণ গেল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মিরার চন্দনাইশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন। চন্দনাইশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ক্যান্সার পেশেন্ট হয়েও জীবন যুদ্ধে জয়ী একজন তানজিলা সুলতানার আত্ম-কাহিনী

  • Reporter Name
  • সময়: ০৪:২৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৭৮ Time View

 

ই হক তৈয়ব:

নিজের জীবন থেকে তার বাস্তবতা বুঝতে শিখেছেন। “জীবন  হচ্ছে বহতা নদীর মত,,,। কখনো শান্ত, কখনো খরস্রোতা, কখনো বন্ধুর, কখনো স্থবির আবার কখনো বহমান।” জীবন ও ঠিক তেমনি নানা ঘাত প্রতিঘাত ও উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। চলতে চলতে বাঁধা গ্রস্ত হলে, রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে সেখান থেকে নতুন মোড় নিয়ে অন্য রাস্তা তৈরি করে ফেলে। একজন ক্যান্সার পেশেন্ট হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা তাঁর জন্য বিশাল বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিবারের করো সাপোর্ট তো দূরের কথা মানসিক কষ্ট পেয়েছেন শতবার। তবুও তিনি থেমে থাকেন্নি, পিছিয়ে পড়েননি এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে। এই অদম্য নারী উদ্যোক্তা তানজিলা সুলতানার আত্ম কাহিনী তুলে ধরা হলো তাঁরই প্রাণবন্ত ভাষায়-

 

আমি মোছাঃ তানজিলা সুলতানা।পিতা হাজী আব্দুস ছাত্তার মা হাজী জরিনা বেগম। জামালপুরের মেয়ে বর্তমানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সিরাজগঞ্জ জেলার নাটুয়ারপাড়ায়।

পড়াশোনা ১৯৯৪ সালে নাটুয়ারপাড়া কে বি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, জামালপুর সরিষাবাড়ি মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএসএস এবং টঙ্গী সরকারি কলেজেও পড়েছি । গাজীপুর চৌরাস্তা ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে এমএসএস।

একজন ক্যান্সার পেশেন্ট হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা আমার জন্য বিশাল বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের করো সাপোর্ট তো দূরের কথা মানসিক কষ্ট পেয়েছি শতবার।

একজন মানুষ হিসেবে নিজ পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছা ছোট থেকেই ডাক্তার হওয়ার শখ থাকলেও গ্রামে স্কুলে তেমন সুযোগ সুবিধা না থাকায় সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করার সৌভাগ্য হয়নি। আর্টস থেকে স্টার মার্ক পেয়ে এসএসসি পাশ করি। ঢাকার সেরা কলেজে চান্স পেয়েও সেখানে পড়াশোনা করার সৌভাগ্য হয়নি। খুবই ভেঙে পড়ি। তবুও হাল ছাড়িনি। মফোস্বলের কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরেই বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পরে শ্বশুর বাড়ি থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ ছিলো না। শ্বশুরবাড়ি থেকে পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে পারিনি। এক প্রকার যুদ্ধ করে টঙ্গী সরকারি কলেজ থেকে বিএসএস এবং ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করি খুব ভালো রেজাল্ট নিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ।

শ্বশুরবাড়ির কাজকর্ম সেড়ে নিজে পড়াশোনা করতাম। ভাশুরের ২ ছেলেকে পড়াতাম। সেলাই মেশিনের কাজও করতাম। নিজের জামাকাপড় ও শ্বশুর বাড়ির আত্নীয় স্বজন সবার কাপড় সেলাই করে দিতাম। আবার তখন প্রশিকা এনজিও থেকে ফ্রী তে ব্লক বাটিকের প্রশিক্ষণ নিয়েছি ব্লক। আমার জানার ও শেখার আগ্রহ ছিলো খুব বেশি। আম্মা নিজের হাতে নকশিকাঁথা, পাখা, জামা ও শাড়ীতে ফুল তোলা সব করতেন আমার কাজের হাতে খড়ি মুলতঃ আম্মার কাছেই। যা দেখতাম সাথে সাথে তাই তৈরি করতে পারতাম। কাগজের মন্ড করে বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি, ফুলদানি ও অন্যান শো পিছ বানাতাম। চটের উপরে উলের সুতা দিয়ে জায়নামাজ টেবিলমাট কার্পেট সেলাই করতাম। উলের সোয়েটার ও মাফলার তৈরি করতাম।

আরও পড়ুনঃ  রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো

মাত্র দেড় মাস বয়সি বাচ্চাকে পাশের ফ্ল্যাটে রেখে ফিল্ড ওয়ার্ক করতাম প্রবীণ হিতৈষী সঙ্ঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে। ৪/৫ ঘন্টা সময় আমার দেড় মাসের বাচ্চা না খেয়ে থাকত। সারারাত বাচ্চা ঘুমাত না। কান্নাকাটি করত। খাটের উপরে বই খুলে রেখে বাচ্চা কোলে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করতাম আর বইয়ের পাতায় চোখ বুলাতাম।

২০০৩ এর ডিসেম্বরে মাস্টার্স এর রেজাল্ট হওয়ার মাসেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে জয়েন করি। তখন ছেলের বয়স মাত্র ২ বছর। ছেলেকে রাখার কেউ ছিলো না। খুবই কষ্ট করেছে আমার ছেলেটা।

কিন্তু  ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে চাকরীর ২ বছরের মাথায় ক্যান্সার আক্রান্ত  হই মাত্র ২৭ বছর বয়সে। ক্যান্সারের চিকিৎসা শেষে একটু সুস্থ হয়েই ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করি। ওকে আনা নেওয়া, পড়ালেখা করানোর পাশাপাশি একটা সেলাই মেশিন কিনি এবং ব্লকের শাড়ী, থ্রি পিছ, ফতুয়া ও বেডশিটের কাজ শুরু করি। ভালো সাড়াও পাই। কিন্তু অতিরিক্ত পরিশ্রম ও শারীরিক দূর্বলতার কারনে কাজ বন্ধ রাখি। তবে খাঁটি মধু, ঘি ও ঘানি ভাঙা সরিষার তেল বাসা থেকেই সেল করতে থাকি।

আমার স্বামী বায়িং হাউজে চাকরি করত। বাহিরের বায়ারদের সাথে ওর কাজ ছিলো। বাচ্চাদের এবং ছেলেদের সব ডিজাইন গুলো করত। আর আমিও কাজ জানি। তাই

২০১৬ সালে আমি এবং আমার হাজব্যান্ড মিলে কিছু মেশিন কিনে গার্মেন্টস এর বিজনেস করার সিদ্ধান্ত নেই। বিধি আবার বাম হলেন। আমার স্বামী জুন মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। তার চিকিৎশায় সর্বশান্ত। দেশের বাইরে নিয়েও কিছু হলো না লাখ লাখ টাকা খরচ। প্রতি সপ্তাহে ৩০/৪০ হাজার টাকা লাগত। ২০১৭ তে  চিরবিদায় নিল আমাদের কাছ থেকে।

ছেলেকে নিয়ে রয়ে গেলাম আমি অথৈ সাগরের মাঝে। ছেলেও সবে মাত্র জেএসসি দিবে। চারপাশে ভাই-বোন মা, বাবা সবাই আছে তবুও নিঃসঙ্গতা,একাকিত্ব আর পরনির্ভরশীলতা আমাকে গ্রাস করতে থাকে। জবে জয়েন করলে ছেলে একা হয়ে পড়বে। তাই জব করা হলো না। ভাইয়েরা সাহায্য করত। তবুও সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাছাড়া পরনির্ভরশীলতা কোনভাবেই মানতে পারছিলাম না। আর অন্যের কাছ থেকে কিছু পেতে গেলে কিছু গ্লানিও থাকে তা মেনে নেওয়ার মত মনমানসিকতাও ছিলো না। নিজেকে খুব অসহায় লাগে। মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়ি। কিন্তু বাইরে থেকে কাউকে বুঝতে দিতাম না।

আরও পড়ুনঃ  রংপুরের পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ জন নারী

কি করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন ফেইসবুকেরও তেমন কিছু বুঝতাম না। ফেইসবুকে একটা ভিডিও দেখে আমার বন্ধুর পরামর্শে অনলাইনে বিজনেস করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এতে কাজের ব্যস্ততার মাধ্যমে নিজেকে ভালো রাখা যাবে আমার হাজব্যান্ডের ইচ্ছাটাও পূরন করা হবে। কিন্তু কিভাবে কাজ করব কোথা থেকে প্রোডাক্ট সোর্সিং করব কিছুই জানা নেই। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। সারাদিন রোদে পুঁড়ে, পায়ে হেঁটে, না খেয়ে বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে বেড়াই। ফার্স্ট আমার বন্ধু একদিন একটা মার্কেটে নিয়ে গিয়েছিল। ঢাকার বাহিরে থাকার কারনে তা পক্ষেও সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি।

মাত্র ৪২০০/ টাকা বিজনেস শুরু করে  আজ এই পর্যন্ত। প্রথমে হোলসেলার দের কাছ থেকে ২/৩ টা ড্রেস আর কিছু ছবি নিয়ে আসতাম। ছবি পোস্ট করে অর্ডার পেলে ড্রেস এনে কাস্টমারের হাতে পৌঁছে দিতাম।  কিছু এক কালারের শাড়ী ও থান কাপড়ে ব্লক করে বেডশিট ও শাড়ী করতাম। তারপর প্রি-অর্ডার নিয়ে তৈরি করে ডেলিভারি দিতাম।

ডেলিভারী নিয়েও পরতে হয় মহা বিপাকে। প্রথমে নিজেই ডেলিভারি করতাম। তারপর ডেলিভারি এজেন্টের মাধ্যমে, সুন্দরবন কুরিয়ারে ডেলিভারি করি। বিজনেস আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো চলতে থাকে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ২০১৮ তে  ২য় বার আবার ক্যান্সার আক্রান্ত হলাম। ক্যান্সারও থামাতে পারেনি।

কেমোথেরাপি দিয়ে বমি হতো সব সময়, খাওয়া দাওয়া বন্ধ। তবুও হসপিটালের বিছানায় শুয়ে, ক্যানুলা হাত নিয়েও ড্রেসের অর্ডার নিয়েছি পার্সেল রেডি করেছি। ডেলিভারি দিয়েছি। কারন কিছু কিছু ক্লায়েন্ট আছেন আমাকে খুবই বিশ্বাস আর ভরসা করে আমাকেই অর্ডার দিতেন। তাদের ভালোবাসা সত্যি আমি অভিভূত হতাম। আমার খুব ভালো লাগলো। ঢাকায় এবং ঢাকার বাহিরে আমার অনেক ডাক্তার ছিলেন। সব কাস্টমাররা ফোন করে আমার খোঁজ খবর নিতো।

প্রথম দিকে ছেলের বন্ধুর মায়েরা শাড়ী, থ্রি পিস নিতো এবং উৎসাহ দিতো। পরে ঢাকার বাহিরেও বিভিন্ন জেলা থেকে কাস্টমার হয়।

২০১৮ এর জুন মাসে একটা পেইজ ক্রিয়েট করে শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো রেসপন্স পাই। তখন পেইজ হ্যাক হয়। পরে আবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে Tanjila’s Collection নামে আরেকটি পেইজ এবং ওয়েবসাইট তৈরি করি। আসলে নিজের নামে ব্রান্ডিং করার জন্যই পেইজের নামকরণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  মধ্যনগরে অসহায় পরিবারের ওপর হামলা, ১ জন গুরুতর আহত; ন্যায়বিচারের দাবি ভুক্তভোগীদের

আমার উদ্যোক্তা জীবনের শুরুটা যেমন মসৃণ ছিলো না এখন পর্যন্তও মসৃণ হয়নি। আমি বিজনেস করি সেটা আমার পরিবারের লোকজন ভালো চোখে দেখে না। আমার জীবনের আইডল, আমার আদর্শ হচ্ছে আমার বড় ভাই। তার উৎসাহেই আমি পড়ালেখা করতে পেরেছি।সেই ভাই আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে আমি বিজনেস করি বলে। জীবনে বহুবার হোচট খেঁয়েছি। বার বার উঠে দাঁড়িয়েছি। কখনো হতাশা হইনি।

আশা করছি অচিরেই সকল বাঁধা ও প্রতিবন্ধকতা কেটে যাবে। ইনশাআল্লাহ।

আলহামদুলিল্লাহ! Tanjila’s Collection এর শাড়ী, পাঞ্জাবি, থ্রি পিস, বেডশিট, ঘি, মধু ও খেজুরের গুড় দেশের বাইরেও( নিউইয়র্ক, ফ্রান্স) পাড়ি জমিয়েছে অনেকবার।

 

বর্তমানে ব্লক প্রিন্ট, নকশীকাঁথা ও পাঞ্জাবির জন্য ১০/১৫ জন নারী পুরুষ কাজে নিয়োজিত আছে। ভবিষ্যতে আরো শত শত নারী পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ইচ্ছা আছে। ইনশাআল্লাহ।

আমার উদ্যোগের ব্লকের শাড়ী, পাঞ্জাবি, বেডশিট, নকশিকাঁথা এমন কি খেজুরের গুড়ও অনেকবার দেশের বাহিরে চলে গেছে। কাস্টমাররা তাদের আত্নীয়ের মাধ্যমে নিয়ে যান।

আমি আশা করি আমার পন্য সামগ্রিই শুধু দেশেই নয় দেশের বাইরেও সুনাম অর্জন করবে। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পন্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরাই হবে আমাদের প্রধান কাজ। Tanjila’s Collection একদিন বিশ্ব সমাদৃত কোম্পানিতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

কঠোর পরিশ্রম, সততা, আত্নবিশ্বাস ও মনোবল শক্ত রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কোন কাজ শুরু করতে অবশ্যই আগে নিজেকে সেই কাজের জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ করে গড়তে হবে। জানা ও শেখার শেষ নেই তেমনি কোন বয়সও নেই। প্রবল ইচ্ছা থাকলে যে কোন বয়সেই কাজ করা যায়। কাজ করতে ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট। তবে শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই হবে না। পরিশ্রম হতে হবে সঠিক ওয়েতে।

একটি ভোতা কুঠার দিয়ে একটি গাছ কাঁটতে যদি ৩০ দিন লাগে সেখানে ধারালো কুঠার দিয়ে সেই গাছ কাঁটতে ১০ দিন লাগবে। তাহলে আমি বলব ৩০দিন কুঠার ধার দিয়ে ১০দিন কাজ করতে হবে। সো আগে নিজে যোগ্য করুন তারপর কাজ শুরু করুন।

বিভিন্ন সামাজিক ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্মাননা ও স্বীকৃতি পেয়েছি। তবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে কাস্টমারদের বিশ্বাস ও ভালোবাসা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বিশ্বম্ভরপুরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা ও ভূট্টা উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

ক্যান্সার পেশেন্ট হয়েও জীবন যুদ্ধে জয়ী একজন তানজিলা সুলতানার আত্ম-কাহিনী

সময়: ০৪:২৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ই হক তৈয়ব:

নিজের জীবন থেকে তার বাস্তবতা বুঝতে শিখেছেন। “জীবন  হচ্ছে বহতা নদীর মত,,,। কখনো শান্ত, কখনো খরস্রোতা, কখনো বন্ধুর, কখনো স্থবির আবার কখনো বহমান।” জীবন ও ঠিক তেমনি নানা ঘাত প্রতিঘাত ও উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। চলতে চলতে বাঁধা গ্রস্ত হলে, রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে সেখান থেকে নতুন মোড় নিয়ে অন্য রাস্তা তৈরি করে ফেলে। একজন ক্যান্সার পেশেন্ট হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা তাঁর জন্য বিশাল বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিবারের করো সাপোর্ট তো দূরের কথা মানসিক কষ্ট পেয়েছেন শতবার। তবুও তিনি থেমে থাকেন্নি, পিছিয়ে পড়েননি এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে। এই অদম্য নারী উদ্যোক্তা তানজিলা সুলতানার আত্ম কাহিনী তুলে ধরা হলো তাঁরই প্রাণবন্ত ভাষায়-

 

আমি মোছাঃ তানজিলা সুলতানা।পিতা হাজী আব্দুস ছাত্তার মা হাজী জরিনা বেগম। জামালপুরের মেয়ে বর্তমানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সিরাজগঞ্জ জেলার নাটুয়ারপাড়ায়।

পড়াশোনা ১৯৯৪ সালে নাটুয়ারপাড়া কে বি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, জামালপুর সরিষাবাড়ি মাহমুদা সালাম মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএসএস এবং টঙ্গী সরকারি কলেজেও পড়েছি । গাজীপুর চৌরাস্তা ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে এমএসএস।

একজন ক্যান্সার পেশেন্ট হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা আমার জন্য বিশাল বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের করো সাপোর্ট তো দূরের কথা মানসিক কষ্ট পেয়েছি শতবার।

একজন মানুষ হিসেবে নিজ পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছা ছোট থেকেই ডাক্তার হওয়ার শখ থাকলেও গ্রামে স্কুলে তেমন সুযোগ সুবিধা না থাকায় সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করার সৌভাগ্য হয়নি। আর্টস থেকে স্টার মার্ক পেয়ে এসএসসি পাশ করি। ঢাকার সেরা কলেজে চান্স পেয়েও সেখানে পড়াশোনা করার সৌভাগ্য হয়নি। খুবই ভেঙে পড়ি। তবুও হাল ছাড়িনি। মফোস্বলের কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরেই বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পরে শ্বশুর বাড়ি থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ ছিলো না। শ্বশুরবাড়ি থেকে পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে পারিনি। এক প্রকার যুদ্ধ করে টঙ্গী সরকারি কলেজ থেকে বিএসএস এবং ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করি খুব ভালো রেজাল্ট নিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ।

শ্বশুরবাড়ির কাজকর্ম সেড়ে নিজে পড়াশোনা করতাম। ভাশুরের ২ ছেলেকে পড়াতাম। সেলাই মেশিনের কাজও করতাম। নিজের জামাকাপড় ও শ্বশুর বাড়ির আত্নীয় স্বজন সবার কাপড় সেলাই করে দিতাম। আবার তখন প্রশিকা এনজিও থেকে ফ্রী তে ব্লক বাটিকের প্রশিক্ষণ নিয়েছি ব্লক। আমার জানার ও শেখার আগ্রহ ছিলো খুব বেশি। আম্মা নিজের হাতে নকশিকাঁথা, পাখা, জামা ও শাড়ীতে ফুল তোলা সব করতেন আমার কাজের হাতে খড়ি মুলতঃ আম্মার কাছেই। যা দেখতাম সাথে সাথে তাই তৈরি করতে পারতাম। কাগজের মন্ড করে বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি, ফুলদানি ও অন্যান শো পিছ বানাতাম। চটের উপরে উলের সুতা দিয়ে জায়নামাজ টেবিলমাট কার্পেট সেলাই করতাম। উলের সোয়েটার ও মাফলার তৈরি করতাম।

আরও পড়ুনঃ  অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ

মাত্র দেড় মাস বয়সি বাচ্চাকে পাশের ফ্ল্যাটে রেখে ফিল্ড ওয়ার্ক করতাম প্রবীণ হিতৈষী সঙ্ঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে। ৪/৫ ঘন্টা সময় আমার দেড় মাসের বাচ্চা না খেয়ে থাকত। সারারাত বাচ্চা ঘুমাত না। কান্নাকাটি করত। খাটের উপরে বই খুলে রেখে বাচ্চা কোলে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করতাম আর বইয়ের পাতায় চোখ বুলাতাম।

২০০৩ এর ডিসেম্বরে মাস্টার্স এর রেজাল্ট হওয়ার মাসেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে জয়েন করি। তখন ছেলের বয়স মাত্র ২ বছর। ছেলেকে রাখার কেউ ছিলো না। খুবই কষ্ট করেছে আমার ছেলেটা।

কিন্তু  ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে চাকরীর ২ বছরের মাথায় ক্যান্সার আক্রান্ত  হই মাত্র ২৭ বছর বয়সে। ক্যান্সারের চিকিৎসা শেষে একটু সুস্থ হয়েই ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করি। ওকে আনা নেওয়া, পড়ালেখা করানোর পাশাপাশি একটা সেলাই মেশিন কিনি এবং ব্লকের শাড়ী, থ্রি পিছ, ফতুয়া ও বেডশিটের কাজ শুরু করি। ভালো সাড়াও পাই। কিন্তু অতিরিক্ত পরিশ্রম ও শারীরিক দূর্বলতার কারনে কাজ বন্ধ রাখি। তবে খাঁটি মধু, ঘি ও ঘানি ভাঙা সরিষার তেল বাসা থেকেই সেল করতে থাকি।

আমার স্বামী বায়িং হাউজে চাকরি করত। বাহিরের বায়ারদের সাথে ওর কাজ ছিলো। বাচ্চাদের এবং ছেলেদের সব ডিজাইন গুলো করত। আর আমিও কাজ জানি। তাই

২০১৬ সালে আমি এবং আমার হাজব্যান্ড মিলে কিছু মেশিন কিনে গার্মেন্টস এর বিজনেস করার সিদ্ধান্ত নেই। বিধি আবার বাম হলেন। আমার স্বামী জুন মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। তার চিকিৎশায় সর্বশান্ত। দেশের বাইরে নিয়েও কিছু হলো না লাখ লাখ টাকা খরচ। প্রতি সপ্তাহে ৩০/৪০ হাজার টাকা লাগত। ২০১৭ তে  চিরবিদায় নিল আমাদের কাছ থেকে।

ছেলেকে নিয়ে রয়ে গেলাম আমি অথৈ সাগরের মাঝে। ছেলেও সবে মাত্র জেএসসি দিবে। চারপাশে ভাই-বোন মা, বাবা সবাই আছে তবুও নিঃসঙ্গতা,একাকিত্ব আর পরনির্ভরশীলতা আমাকে গ্রাস করতে থাকে। জবে জয়েন করলে ছেলে একা হয়ে পড়বে। তাই জব করা হলো না। ভাইয়েরা সাহায্য করত। তবুও সংসার চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাছাড়া পরনির্ভরশীলতা কোনভাবেই মানতে পারছিলাম না। আর অন্যের কাছ থেকে কিছু পেতে গেলে কিছু গ্লানিও থাকে তা মেনে নেওয়ার মত মনমানসিকতাও ছিলো না। নিজেকে খুব অসহায় লাগে। মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়ি। কিন্তু বাইরে থেকে কাউকে বুঝতে দিতাম না।

আরও পড়ুনঃ  মধ্যনগরে অসহায় পরিবারের ওপর হামলা, ১ জন গুরুতর আহত; ন্যায়বিচারের দাবি ভুক্তভোগীদের

কি করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন ফেইসবুকেরও তেমন কিছু বুঝতাম না। ফেইসবুকে একটা ভিডিও দেখে আমার বন্ধুর পরামর্শে অনলাইনে বিজনেস করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এতে কাজের ব্যস্ততার মাধ্যমে নিজেকে ভালো রাখা যাবে আমার হাজব্যান্ডের ইচ্ছাটাও পূরন করা হবে। কিন্তু কিভাবে কাজ করব কোথা থেকে প্রোডাক্ট সোর্সিং করব কিছুই জানা নেই। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। সারাদিন রোদে পুঁড়ে, পায়ে হেঁটে, না খেয়ে বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে বেড়াই। ফার্স্ট আমার বন্ধু একদিন একটা মার্কেটে নিয়ে গিয়েছিল। ঢাকার বাহিরে থাকার কারনে তা পক্ষেও সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি।

মাত্র ৪২০০/ টাকা বিজনেস শুরু করে  আজ এই পর্যন্ত। প্রথমে হোলসেলার দের কাছ থেকে ২/৩ টা ড্রেস আর কিছু ছবি নিয়ে আসতাম। ছবি পোস্ট করে অর্ডার পেলে ড্রেস এনে কাস্টমারের হাতে পৌঁছে দিতাম।  কিছু এক কালারের শাড়ী ও থান কাপড়ে ব্লক করে বেডশিট ও শাড়ী করতাম। তারপর প্রি-অর্ডার নিয়ে তৈরি করে ডেলিভারি দিতাম।

ডেলিভারী নিয়েও পরতে হয় মহা বিপাকে। প্রথমে নিজেই ডেলিভারি করতাম। তারপর ডেলিভারি এজেন্টের মাধ্যমে, সুন্দরবন কুরিয়ারে ডেলিভারি করি। বিজনেস আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো চলতে থাকে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ২০১৮ তে  ২য় বার আবার ক্যান্সার আক্রান্ত হলাম। ক্যান্সারও থামাতে পারেনি।

কেমোথেরাপি দিয়ে বমি হতো সব সময়, খাওয়া দাওয়া বন্ধ। তবুও হসপিটালের বিছানায় শুয়ে, ক্যানুলা হাত নিয়েও ড্রেসের অর্ডার নিয়েছি পার্সেল রেডি করেছি। ডেলিভারি দিয়েছি। কারন কিছু কিছু ক্লায়েন্ট আছেন আমাকে খুবই বিশ্বাস আর ভরসা করে আমাকেই অর্ডার দিতেন। তাদের ভালোবাসা সত্যি আমি অভিভূত হতাম। আমার খুব ভালো লাগলো। ঢাকায় এবং ঢাকার বাহিরে আমার অনেক ডাক্তার ছিলেন। সব কাস্টমাররা ফোন করে আমার খোঁজ খবর নিতো।

প্রথম দিকে ছেলের বন্ধুর মায়েরা শাড়ী, থ্রি পিস নিতো এবং উৎসাহ দিতো। পরে ঢাকার বাহিরেও বিভিন্ন জেলা থেকে কাস্টমার হয়।

২০১৮ এর জুন মাসে একটা পেইজ ক্রিয়েট করে শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো রেসপন্স পাই। তখন পেইজ হ্যাক হয়। পরে আবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে Tanjila’s Collection নামে আরেকটি পেইজ এবং ওয়েবসাইট তৈরি করি। আসলে নিজের নামে ব্রান্ডিং করার জন্যই পেইজের নামকরণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো

আমার উদ্যোক্তা জীবনের শুরুটা যেমন মসৃণ ছিলো না এখন পর্যন্তও মসৃণ হয়নি। আমি বিজনেস করি সেটা আমার পরিবারের লোকজন ভালো চোখে দেখে না। আমার জীবনের আইডল, আমার আদর্শ হচ্ছে আমার বড় ভাই। তার উৎসাহেই আমি পড়ালেখা করতে পেরেছি।সেই ভাই আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে আমি বিজনেস করি বলে। জীবনে বহুবার হোচট খেঁয়েছি। বার বার উঠে দাঁড়িয়েছি। কখনো হতাশা হইনি।

আশা করছি অচিরেই সকল বাঁধা ও প্রতিবন্ধকতা কেটে যাবে। ইনশাআল্লাহ।

আলহামদুলিল্লাহ! Tanjila’s Collection এর শাড়ী, পাঞ্জাবি, থ্রি পিস, বেডশিট, ঘি, মধু ও খেজুরের গুড় দেশের বাইরেও( নিউইয়র্ক, ফ্রান্স) পাড়ি জমিয়েছে অনেকবার।

 

বর্তমানে ব্লক প্রিন্ট, নকশীকাঁথা ও পাঞ্জাবির জন্য ১০/১৫ জন নারী পুরুষ কাজে নিয়োজিত আছে। ভবিষ্যতে আরো শত শত নারী পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার ইচ্ছা আছে। ইনশাআল্লাহ।

আমার উদ্যোগের ব্লকের শাড়ী, পাঞ্জাবি, বেডশিট, নকশিকাঁথা এমন কি খেজুরের গুড়ও অনেকবার দেশের বাহিরে চলে গেছে। কাস্টমাররা তাদের আত্নীয়ের মাধ্যমে নিয়ে যান।

আমি আশা করি আমার পন্য সামগ্রিই শুধু দেশেই নয় দেশের বাইরেও সুনাম অর্জন করবে। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পন্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরাই হবে আমাদের প্রধান কাজ। Tanjila’s Collection একদিন বিশ্ব সমাদৃত কোম্পানিতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

কঠোর পরিশ্রম, সততা, আত্নবিশ্বাস ও মনোবল শক্ত রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কোন কাজ শুরু করতে অবশ্যই আগে নিজেকে সেই কাজের জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ করে গড়তে হবে। জানা ও শেখার শেষ নেই তেমনি কোন বয়সও নেই। প্রবল ইচ্ছা থাকলে যে কোন বয়সেই কাজ করা যায়। কাজ করতে ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট। তবে শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই হবে না। পরিশ্রম হতে হবে সঠিক ওয়েতে।

একটি ভোতা কুঠার দিয়ে একটি গাছ কাঁটতে যদি ৩০ দিন লাগে সেখানে ধারালো কুঠার দিয়ে সেই গাছ কাঁটতে ১০ দিন লাগবে। তাহলে আমি বলব ৩০দিন কুঠার ধার দিয়ে ১০দিন কাজ করতে হবে। সো আগে নিজে যোগ্য করুন তারপর কাজ শুরু করুন।

বিভিন্ন সামাজিক ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্মাননা ও স্বীকৃতি পেয়েছি। তবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে কাস্টমারদের বিশ্বাস ও ভালোবাসা।