
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
সিএমএমের এজলাস কক্ষের বাইরে সহজে দৃশ্যমান স্থানে একটি সিলগালা করা অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ বা তথ্য সিএমএমের অফিসিয়াল ই-মেইলেও পাটানো যাবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, আদালতের পরোয়ানা প্রেরণ বা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দাবি কিংবা দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ এখন থেকে সরাসরি চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) কাছে জানানো যাবে। এ লক্ষ্যে একটি ই-মেইল ঠিকানা চালু এবং সিএমএম কার্যালয়ের বাইরে একটি সুরক্ষিত অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারি সেবায় জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ‘সিএমএম, চট্টগ্রাম সমীপে’ নামে এ অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা চালু করে সোমবার একটি প্রশাসনিক আদেশ জারি করেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার।
আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানিমূলক আচরণ প্রতিরোধে ‘জাস্টিস অব দ্য পিস’ হিসেবে তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী, সিএমএমের এজলাস কক্ষের বাইরে সহজে দৃশ্যমান স্থানে একটি সিলগালা করা অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ বা তথ্য সিএমএমের অফিসিয়াল ই-মেইলের পাশাপাশি cmmchattogram.shomipe@gmail.com ঠিকানায় পাঠানো যাবে।
চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার যে কোনো নাগরিক, বিচারপ্রার্থী, সরকারি সেবাগ্রহীতা বা আইনজীবী লিখিত অভিযোগ, তথ্য ও প্রমাণাদি অভিযোগ বক্স কিংবা ই-মেইলে জমা দিতে পারবেন।
যেসব বিষয়ে অভিযোগ করা যাবে
প্রশাসনিক আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট বা অন্য কোনো সরকারি সেবা গ্রহণে ঘুষ দাবি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, আদালতের বিভিন্ন শাখায় ফাইল প্রক্রিয়াকরণে অযৌক্তিক বিলম্ব বা অনৈতিক দাবি, জামিন ও রিলিজ অর্ডার প্রক্রিয়ায় হয়রানি, মালখানা থেকে আলামত বা যানবাহন বুঝে নিতে অনৈতিক দাবি এবং নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিযোগ জানানো যাবে।
লিখিত অভিযোগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল, ছবি, অডিও-ভিডিও, ইলেকট্রনিক তথ্য বা অন্যান্য প্রমাণ সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গোপনীয়তা রক্ষার আশ্বাস
আদেশে বলা হয়েছে, অভিযোগ বক্সের চাবি সিএমএমের নিজস্ব হেফাজতে থাকবে। অভিযোগকারী বা তথ্যদাতার পরিচয় ও তথ্যের গোপনীয়তা আইন ও প্রশাসনিক সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে।
অভিযোগের ভিত্তিতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে
প্রাপ্ত অভিযোগের প্রকৃতি, গুরুত্ব ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় সিএমএম সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পাঠাতে পারবেন। প্রয়োজন হলে প্রাথমিক অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ কিংবা পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অবহিত করতে পারবেন।
তবে এ ব্যবস্থাকে কোনো নিয়মিত মামলা দায়েরের বিকল্প হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং অভিযোগ পাওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা রুজু হবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
যেসব বিষয় এ ব্যবস্থার আওতার বাইরে
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, উত্তরাধিকার, পারিবারিক বা বৈবাহিক বিরোধ, দেনা-পাওনা, চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধ, থানায় মামলা বা আদালতে নালিশি মামলা করার সুযোগ রয়েছে এমন সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ, বিচারাধীন মামলার ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে আবেদন এবং আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিশনযোগ্য বিষয়গুলো এ অভিযোগ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না।
এ প্রশাসনিক আদেশের অনুলিপি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিএমপির অধীন সব থানা, গোয়েন্দা শাখা ও ভেরিফিকেশন শাখাকে আদেশটি যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Reporter Name 


























