Dhaka ০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রাঙ্গামাটি নানিয়ারচরে সেনা জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সংবিধানের ৭০ ধারা বাতিলের দাবিতে আন্তর্জাতিক দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের বৈশ্বিক জনমত গঠনের ঘোষণা ২৬ জুন শুক্রবার পবিত্র আশুরা পালিত হবে টেট বাতিলের দাবিতে কলেজ স্কোয়ার থেকে রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী-শিক্ষামন্ত্রীকে ডেপুটেশন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল হারানো বিজ্ঞপ্তি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি, বিকল্প ব্যবস্থার দাবি ভাঙ্গুড়ায় ভাঙা সড়কের উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন প্রেমের টানে চীন থেকে নবীনগরে ছুটে এলেন কথিত চাইনিজ প্রেমিক ভালুকায় সিএনজি-অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত আইডিইবি নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ডিইএ্যাব
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

গোদাগাড়ীতে মাদক ও জুয়ায় রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ ইয়াবার পাইকারি ডিলার খোকন অতিষ্ঠ এলাকাবাসী নির্বিকার প্রশাসন

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ২৫ Time View

 

​মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি​​​:


একসময় পকেটে এক কাপ চা খাওয়ার টাকা থাকত না যার, মাদক আর অনলাইন জুয়ার অবৈধ টাকায় আজ তিনি কোটিপতি। টাকার গরমে সাধারণ মানুষকে মানুষ বলেই গণ্য করেন না। বলছি, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সিএনবি গড়ের মাঠ এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে খোকন আলীর (৩৪) কথা। এলাকায় তিনি এখন মাদক ও অনলাইন জুয়ার অন্যতম ‘পাইকারি ডিলার’ হিসেবে পরিচিত। তার এই লাগামহীন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়লেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন এখনো নীরব।

​রাতারাতি কোটিপতি, রয়েছে মাদকের বড় মামলা
​অনুসন্ধানে জানা যায়, খোকন দীর্ঘদিন ধরে গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন মাদকের স্পটে ইয়াবার বড় বড় চালান সাপ্লাই দিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই মাদকের বড় মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি তিনি অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেটের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দুই অবৈধ খাতের টাকা দিয়ে খোকন নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি-জায়গা ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
​খুচরা বিক্রেতাদের স্বীকারোক্তি মতে সপ্তাহে নামছে হাজার হাজার পিস ইয়াবা
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোদাগাড়ীর এক খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা খোকনের মাদক সাম্রাজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন।
তিনি জানান আমি নিজে খোকনের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে দুইবার ৩০০- ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ পিস পর্যন্ত ইয়াবা পাইকারি কিনি। আমার মতো গোদাগাড়ীর অনেকেই তার কাছ থেকে পাইকারি ইয়াবা নেয়। খোকন প্রতি পিস ইয়াবার দাম রাখে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা। আর বাজার চড়া হলে ২১০ টাকা পর্যন্ত দাম নেয়। তার কাছে সবসময় হাজার হাজার পিস ইয়াবা স্টক করা থাকে।

​আতঙ্কে জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী​এ বিষয়ে এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মাদক ব্যবসা করে এই খোকন রাতারাতি বাড়িঘর, জমি-জায়গা করে নিয়েছে। সে আমার ছেলের বয়সী। তার এই নোংরা ব্যবসার কারণে এলাকার বহু ভালো ভালো ছেলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইয়াবা কেনার টাকা না পেয়ে ছেলেরা পরিবারের সাথে গন্ডগোল করছে, জড়িয়ে পড়ছে চুরির মতো অপরাধে।
​তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন,দেশজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও এই ডিলারের গায়ে কেন আঁচড় লাগে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিবাদ করতে চাই, কিন্তু মাদকের কালো টাকার ক্ষমতা আর তাদের গুন্ডাবাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কখন কাকে মাদকের মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে, সেই আতঙ্কে সবাই দিন কাটায়।

আরও পড়ুনঃ  লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ১

​প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় এক তরুণ রাজনৈতিক নেতা। তিনি বলেন,
​এইসব মাদক ব্যবসায়ীর কারণে আমরা যখন গোদাগাড়ীর বাইরে যাই, নিজেদের পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। আমাদের চোখের সামনে কত ভালো ভালো শিক্ষিত ছেলে নেশাগ্রস্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে গেল!
বিগত দিনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়ে এই কর্মযজ্ঞ চালাতো আর এখন আমাদেরই কিছু নেতার সেলটা নিয়ে দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক এর ব্যবসা। গোদাগাড়ীর নামের সাথে যে ‘মাদকের রাজধানী’র কলঙ্ক লেগেছে, আমরা তা থেকে মুক্তি চাই। প্রশাসন যেন দ্রুত এই খোকনকে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

​এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত খোকন আলীর সাথে স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
​গোদাগাড়ীর সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি শিক্ষিত যুবসমাজ ও এলাকাকে রক্ষা করতে অনতিবিলম্বে এই ‘মাদক ডিলার’ খোকনের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রাঙ্গামাটি নানিয়ারচরে সেনা জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

গোদাগাড়ীতে মাদক ও জুয়ায় রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ ইয়াবার পাইকারি ডিলার খোকন অতিষ্ঠ এলাকাবাসী নির্বিকার প্রশাসন

সময়: ০৮:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

​মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি​​​:


একসময় পকেটে এক কাপ চা খাওয়ার টাকা থাকত না যার, মাদক আর অনলাইন জুয়ার অবৈধ টাকায় আজ তিনি কোটিপতি। টাকার গরমে সাধারণ মানুষকে মানুষ বলেই গণ্য করেন না। বলছি, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সিএনবি গড়ের মাঠ এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে খোকন আলীর (৩৪) কথা। এলাকায় তিনি এখন মাদক ও অনলাইন জুয়ার অন্যতম ‘পাইকারি ডিলার’ হিসেবে পরিচিত। তার এই লাগামহীন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়লেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন এখনো নীরব।

​রাতারাতি কোটিপতি, রয়েছে মাদকের বড় মামলা
​অনুসন্ধানে জানা যায়, খোকন দীর্ঘদিন ধরে গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন মাদকের স্পটে ইয়াবার বড় বড় চালান সাপ্লাই দিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই মাদকের বড় মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি তিনি অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেটের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দুই অবৈধ খাতের টাকা দিয়ে খোকন নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি-জায়গা ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
​খুচরা বিক্রেতাদের স্বীকারোক্তি মতে সপ্তাহে নামছে হাজার হাজার পিস ইয়াবা
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোদাগাড়ীর এক খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা খোকনের মাদক সাম্রাজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন।
তিনি জানান আমি নিজে খোকনের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে দুইবার ৩০০- ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ পিস পর্যন্ত ইয়াবা পাইকারি কিনি। আমার মতো গোদাগাড়ীর অনেকেই তার কাছ থেকে পাইকারি ইয়াবা নেয়। খোকন প্রতি পিস ইয়াবার দাম রাখে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা। আর বাজার চড়া হলে ২১০ টাকা পর্যন্ত দাম নেয়। তার কাছে সবসময় হাজার হাজার পিস ইয়াবা স্টক করা থাকে।

​আতঙ্কে জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী​এ বিষয়ে এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মাদক ব্যবসা করে এই খোকন রাতারাতি বাড়িঘর, জমি-জায়গা করে নিয়েছে। সে আমার ছেলের বয়সী। তার এই নোংরা ব্যবসার কারণে এলাকার বহু ভালো ভালো ছেলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইয়াবা কেনার টাকা না পেয়ে ছেলেরা পরিবারের সাথে গন্ডগোল করছে, জড়িয়ে পড়ছে চুরির মতো অপরাধে।
​তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন,দেশজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও এই ডিলারের গায়ে কেন আঁচড় লাগে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিবাদ করতে চাই, কিন্তু মাদকের কালো টাকার ক্ষমতা আর তাদের গুন্ডাবাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কখন কাকে মাদকের মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবে, সেই আতঙ্কে সবাই দিন কাটায়।

আরও পড়ুনঃ  টেকনাফ ও উখিয়ায় কোস্ট গার্ড-বিজিবির পৃথক অভিযান: ১ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৩

​প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় এক তরুণ রাজনৈতিক নেতা। তিনি বলেন,
​এইসব মাদক ব্যবসায়ীর কারণে আমরা যখন গোদাগাড়ীর বাইরে যাই, নিজেদের পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। আমাদের চোখের সামনে কত ভালো ভালো শিক্ষিত ছেলে নেশাগ্রস্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে গেল!
বিগত দিনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়ে এই কর্মযজ্ঞ চালাতো আর এখন আমাদেরই কিছু নেতার সেলটা নিয়ে দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক এর ব্যবসা। গোদাগাড়ীর নামের সাথে যে ‘মাদকের রাজধানী’র কলঙ্ক লেগেছে, আমরা তা থেকে মুক্তি চাই। প্রশাসন যেন দ্রুত এই খোকনকে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।

​এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত খোকন আলীর সাথে স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
​গোদাগাড়ীর সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি শিক্ষিত যুবসমাজ ও এলাকাকে রক্ষা করতে অনতিবিলম্বে এই ‘মাদক ডিলার’ খোকনের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন।