Dhaka ০২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
প্রবাসীর সহায়তায় মাধবপুরে অসহায় মানিক পেলেন নতুন ঘর যশোরের শার্শায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্যামনগরে ২০০ জন নারী-পুরুষকে লবণ সহনশীল বীজ, জৈব সার, জিও ব্যাগ ও পানির ঝাঁঝরি বিতরণ পরিতোষ কুমার বৈদ্য সাভারে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে কলম, পানি ও খাবার বিতরণ, ছাত্রদল নেতা সোহাগ শাহ্ রজায়ী (রহঃ) ওরস: ওষখাইনে নামছে ভক্তসমুদ্র নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে দ্ধন্ধে ঘুষিতে ১ জনের মৃত্যু টেকনাফে সরকারি ঘর বিক্রির অভিযোগ: খারাংখালীতে চাঞ্চল্য কুষ্টিয়ায় বিজিবি’র পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য জব্দ হালির হাওরে অসহায় কৃষাণীর ধান কেটে দিল আনসার-ভিডিপি সদস্যরা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

এমপি’র নাম ভাঙিয়ে চাল সিন্ডিকেট—মোফাজ্জল অভিযুক্ত

 

জামালপুর সদর পাঁচ আসনের এমপি’র নাম ভাঙিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের সিন্ডিকেট, অভিযুক্ত কৈডোলা ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোফাজ্জলের বিরুদ্ধে।

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৫ টাকা কেজি দরের চাল নিয়ে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন (মুবা)-এর বিরুদ্ধে এই চাল অবৈধভাবে সিন্ডিকেট করে কিনে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কার্ডধারীদের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন অসহায় মানুষের মুখের গ্রাস।

 

সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কার্ডধারী ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু কৈডোলায় চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। স্থানীয়রা জানান, মোফাজ্জল হোসেন সুবিধাভোগীদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সরাসরি তাদের কাছ থেকে চাল কিনে নিচ্ছেন।

 

কৈডোলা বাজারে অবস্থিত ডিলার ‘নাদিয়া ইসলাম’ এর কেন্দ্রের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হলেও, অভিযোগ রয়েছে সেখানে ডিলারের যোগসাজশেই গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এখানে মোট ৪৮৪টি কার্ডের চাল বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে তা পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে গেলে মোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। রাজনৈতিক অবস্থানের দাপট দেখিয়ে তিনি উল্টো পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি প্রকাশ্যেই তার অনিয়মের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন:”অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করে ডিলারশিপ নিয়েছি। সদর-৫ আসনের এমপির জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করেছি, এখন এসব করব না তো কখন করব?”

 

তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এমন মন্তব্য শুধু আইন ও নীতিমালার লঙ্ঘনই নয়, বরং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার শামিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী মেম্বার নির্বাচনকে টার্গেট করেই মোফাজ্জল হোসেন এই চাল মজুত করছেন। এলাকার হতদরিদ্রদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে কেনা এই চাল তিনি কৌশলে জমা করছেন, যেন নির্বাচনের আগে তা বিতরণ করে ভোটারদের মন জয় করা যায় এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীর ভাগদী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ডাকাতি

 

উল্লেখ্য যে, মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও অবৈধ চাল কেনাবেচার দায়ে জেল খাটার রেকর্ড রয়েছে। বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও তিনি কোনো অদৃশ্য শক্তিবলে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারের মানবিক এই কর্মসূচি যেন কোনো প্রভাবশালী মহলের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়বে।

 

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা অবিলম্বে সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

প্রবাসীর সহায়তায় মাধবপুরে অসহায় মানিক পেলেন নতুন ঘর

এমপি’র নাম ভাঙিয়ে চাল সিন্ডিকেট—মোফাজ্জল অভিযুক্ত

সময়: ০৮:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

 

জামালপুর সদর পাঁচ আসনের এমপি’র নাম ভাঙিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের সিন্ডিকেট, অভিযুক্ত কৈডোলা ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোফাজ্জলের বিরুদ্ধে।

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১৫ টাকা কেজি দরের চাল নিয়ে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন (মুবা)-এর বিরুদ্ধে এই চাল অবৈধভাবে সিন্ডিকেট করে কিনে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কার্ডধারীদের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন অসহায় মানুষের মুখের গ্রাস।

 

সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কার্ডধারী ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু কৈডোলায় চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। স্থানীয়রা জানান, মোফাজ্জল হোসেন সুবিধাভোগীদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সরাসরি তাদের কাছ থেকে চাল কিনে নিচ্ছেন।

 

কৈডোলা বাজারে অবস্থিত ডিলার ‘নাদিয়া ইসলাম’ এর কেন্দ্রের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হলেও, অভিযোগ রয়েছে সেখানে ডিলারের যোগসাজশেই গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এখানে মোট ৪৮৪টি কার্ডের চাল বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে তা পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদে।

 

অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে গেলে মোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। রাজনৈতিক অবস্থানের দাপট দেখিয়ে তিনি উল্টো পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি প্রকাশ্যেই তার অনিয়মের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন:”অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করে ডিলারশিপ নিয়েছি। সদর-৫ আসনের এমপির জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করেছি, এখন এসব করব না তো কখন করব?”

 

তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এমন মন্তব্য শুধু আইন ও নীতিমালার লঙ্ঘনই নয়, বরং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার শামিল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী মেম্বার নির্বাচনকে টার্গেট করেই মোফাজ্জল হোসেন এই চাল মজুত করছেন। এলাকার হতদরিদ্রদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে কেনা এই চাল তিনি কৌশলে জমা করছেন, যেন নির্বাচনের আগে তা বিতরণ করে ভোটারদের মন জয় করা যায় এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে ভারতীয় ২ টি গরু আটক করেছে বিজিবি

 

উল্লেখ্য যে, মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও অবৈধ চাল কেনাবেচার দায়ে জেল খাটার রেকর্ড রয়েছে। বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও তিনি কোনো অদৃশ্য শক্তিবলে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারের মানবিক এই কর্মসূচি যেন কোনো প্রভাবশালী মহলের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়বে।

 

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা অবিলম্বে সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।