Dhaka ০২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
প্রতিহিংসার রাজনীতি ও ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পরিহারের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক দেশবন্ধু জেফারসন ডেমোক্রেটিক ক্লাবে কংগ্রেসম‍্যন টম সুয়াজীর নির্বাচনী সভায় খোকন ও মানিক হাকিকুল ইসলাম সর্বভারতীয় ক্রিয়েটিভ কালচারাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী ২০২৬। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করলেন তরুণ সাংবাদিক এস. ইয়াছির আরাফাত চট্টগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের চতুর্থ দফা সম্পন্ন গোদাগাড়ীতে ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, শ্রী সুমন সরদার আটক চার বন্ধুর উদ্যোগে বদলে যেতে পারে যশোরের সবুজ বৈচিত্র্য, ‘BD Tree Man’ গড়ে তুলছে সবুজের স্বপ্ন কালিয়াকৈরে কৃষি বিভাগের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানার পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ প্রবীণ সাংবাদিক মাওলানা মোজাহেরুল কাদের ফারুকীর মমতাময়ী মা মোহছেনা খাতুনের ইন্তেকাল
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মধ্যনগরে বক্স কালভার্টের নামে ‘ছোট ড্রেন’ নির্মাণ, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী*

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ২৭ Time View

 

শফিকুল ইসলাম শফিক,মধ্যনগর সুনামগঞ্জ


বরাদ্দ স্বল্পতা আর নিম্নমানের কাজের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি এলাকা। কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র সড়কে বক্স কালভার্টের নামে ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের সরু ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি কবরস্থান সড়কে বক্স কালভার্টের নির্মাণকাজ এখনো চলমান। কিন্তু ঠিকাদার ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও মাত্র ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের একটি সরু কাঠামো তৈরি করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে কাজ শেষ হলে ভারী বৃষ্টিতে পানি আটকে যাবে, রাস্তা তলিয়ে যাবে, আর দুর্ভোগের শেষ হবে না।

কার্তিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান খন্দকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা আমাদের বাপ-দাদার লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাই। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে। বাচ্চারা মাদ্রাসায় যেতে পারে না, বৃদ্ধরা মসজিদে যেতে পারেন না। ১৮ ইঞ্চির এই ড্রেন দিয়ে কীভাবে পানি নামবে? আমরা কি মানুষ নই?”

মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. মানিক মিয়া বলেন, “এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদি ঠিকাদার এই টাকাও সঠিকভাবে খরচ করতেন, তবু কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী এতই দুর্বল যে কাজ টিকবে কি না সন্দেহ। এভাবে সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে।”

স্থানীয়দের একমাত্র দাবি, কালভার্টটি ন্যূনতম ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থে নির্মাণ করতে হবে। তবেই পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে। তারা বর্তমান সরু কাঠামো ভেঙে প্রকৃত বক্স কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, “বর্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্লাসে আসে। জানাজা নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার সময় মানুষ পড়ে যায়। এটাকে উন্নয়ন বলা যায় না, এটা অবহেলা।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কাজের জন্য বরাদ্দ মাত্র এক লাখ টাকা। এই অর্থে বড় আকারের বক্স কালভার্ট নির্মাণ সম্ভব নয়। বরাদ্দ বাড়লে প্রকৃত কালভার্ট করা যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও অধিকার রক্ষায় মিডিয়া অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান দেখব। বরাদ্দের বিষয়টিও যাচাই করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও হাওরবন্ধু জননেতা কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

প্রতিহিংসার রাজনীতি ও ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পরিহারের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক দেশবন্ধু

মধ্যনগরে বক্স কালভার্টের নামে ‘ছোট ড্রেন’ নির্মাণ, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী*

সময়: ১০:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

 

শফিকুল ইসলাম শফিক,মধ্যনগর সুনামগঞ্জ


বরাদ্দ স্বল্পতা আর নিম্নমানের কাজের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি এলাকা। কবরস্থান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় যাওয়ার একমাত্র সড়কে বক্স কালভার্টের নামে ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের সরু ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্তিকপুর বড়ইবাড়ি কবরস্থান সড়কে বক্স কালভার্টের নির্মাণকাজ এখনো চলমান। কিন্তু ঠিকাদার ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও মাত্র ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের একটি সরু কাঠামো তৈরি করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে কাজ শেষ হলে ভারী বৃষ্টিতে পানি আটকে যাবে, রাস্তা তলিয়ে যাবে, আর দুর্ভোগের শেষ হবে না।

কার্তিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাজাহান খন্দকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা আমাদের বাপ-দাদার লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাই। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে। বাচ্চারা মাদ্রাসায় যেতে পারে না, বৃদ্ধরা মসজিদে যেতে পারেন না। ১৮ ইঞ্চির এই ড্রেন দিয়ে কীভাবে পানি নামবে? আমরা কি মানুষ নই?”

মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. মানিক মিয়া বলেন, “এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদি ঠিকাদার এই টাকাও সঠিকভাবে খরচ করতেন, তবু কিছুটা উপকার হতো। কিন্তু নির্মাণসামগ্রী এতই দুর্বল যে কাজ টিকবে কি না সন্দেহ। এভাবে সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে।”

স্থানীয়দের একমাত্র দাবি, কালভার্টটি ন্যূনতম ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থে নির্মাণ করতে হবে। তবেই পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে। তারা বর্তমান সরু কাঠামো ভেঙে প্রকৃত বক্স কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, “বর্ষা এলেই শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্লাসে আসে। জানাজা নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার সময় মানুষ পড়ে যায়। এটাকে উন্নয়ন বলা যায় না, এটা অবহেলা।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কাজের জন্য বরাদ্দ মাত্র এক লাখ টাকা। এই অর্থে বড় আকারের বক্স কালভার্ট নির্মাণ সম্ভব নয়। বরাদ্দ বাড়লে প্রকৃত কালভার্ট করা যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  লাউড়েরগড় বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে সড়ক নির্মাণ

বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান দেখব। বরাদ্দের বিষয়টিও যাচাই করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা সুনামগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও হাওরবন্ধু জননেতা কামরুজ্জামান কামরুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হবে।