
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে নতুন এক কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র কোনো স্থল অভিযান চালালে তাতে ইসরায়েল অংশ নেবে না।
সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইসরায়েলি বাহিনী সেই অভিযানে যুক্ত হবে না—এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। এতে করে পুরো দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ওয়াশিংটন যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে ইসরায়েলি সেনারা সেই অভিযানে অংশ নেবে না। অর্থাৎ, এ ধরনের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি মার্কিন বাহিনীর ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। পেন্টাগন ইতোমধ্যে সীমিত অভিযানসহ বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনো নিশ্চিত করেনি যে প্রেসিডেন্ট এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছেন কি না।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের জবাবে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা ইরানের মাটিতে প্রবেশ করলে তারা শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়বে। এমনকি একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাদের কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে স্থল অভিযান চালানো হলে তা ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল সংঘাতে পরিণত হতে পারে। তারা সতর্ক করে বলছেন, আকাশযুদ্ধ ধীরে ধীরে স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
এদিকে, ইসরায়েলের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরোধী এবং “আমেরিকা ফার্স্ট” সমর্থকদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, ইসরায়েল নিজে সরাসরি স্থলযুদ্ধে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধ যদি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যর্থতায় পরিণত হয়, তাহলে বিশ্বে দেশটির সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
Reporter Name 


























