
নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ৩ জুন মঙ্গলবার দুুপুরে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর বেটারী ঘাট মোড়, ১নং গলি, আল মদিনা মসজিদ রোডে অবস্থিত শরিফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার হল রুমে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সম্মাননা-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. হামিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা রিমা জুলফিকার, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ মর্জিনা আক্তার, বিশিষ্ট সমাজসেবক শিউলি ইসলাম, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ডাঃ আলপনা মোসাদ্দেক, তরুণ নারী উদ্যোক্তা- ওয়েভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রূপা আহমেদ, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা রাশিদা আক্তার ডিনা, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক রাবেয়া সুলতানা। দোয়া করেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইমদাদুল হক তৈয়ব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথিসহ বিশেষ অতিথি মোট ৭ জন আলোকিত নারীকে শিক্ষায় ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে আজীবন শিক্ষা সম্মাননা-২৫ প্রদান করা হয়।
২০২৪ সালের বেফাক বোর্ড পরীক্ষায় সারা বাংলাদেশে ইবতেদাইয়া জামাতে ৩ জন এবং মুতাওয়াস্সিতা জামাতে ১ জনসহ মোট ৪ জন মেধা স্থান অধিকার করেছে। তাদেরকে রুপার ব্রেসলেট প্রদান করা হয় এবং ২০২৫ সালের প্রতিটি ক্লাসে বার্ষিক পরীক্ষায় যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে তাদেরকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। উল্লেখ্য বিগত পাচঁ বছর যাবৎ মেধাস্থান অর্জনকারীদের মাঝে উৎসাহ ও মেধা বিকাশের লক্ষ্যে এই মূল্যবান রুপার ব্রেসলেট প্রদান করে আসছে এবং সারা বাংলাদেশে যারা ১-১০’র মধ্যে মেধাস্থান অর্জন করবে তাদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে স্বর্ণের উপহার।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা হলেন, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কনা রেজা, কবি ও লেখক অধ্যাপক অনামিকা হক লিলি, বিশিষ্ট রোটারিয়ান ও সমাজসেবক মায়া কবির, লেখক ও কবি মিনা মাশরাফি, লেখক ও গবেষক কাউসার জাহান ফরিদা মনি, সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ রোকসানা জামান সানু, কবি মাসুমা মিম, সমাজসেবক নিলুফা ইয়াসমিন রুপা ও নূরদিয়া জাহান লিটা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. হামিদা খানম বলেন, ক্বওমী মাদরাসার ছেলে এবং মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করলে এখান থেকে লক্ষ লক্ষ দক্ষ কর্মী ও দেশের সুনাগরিক তৈরী হবে। এ বিষয়ে সরকারসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইমদাদুল হক তৈয়ব বলেন, আমাদের মাদরাসা অন্যান্য ক্বওমী মাদরাসা থেকে একটু ভিন্ন। আমরা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা বাংলা, অংক, ইংরেজী, ইতিহাস ভূগোলসহ এসব বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এ ছাড়াও আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে যারা দাওরায়ে হাদিস (এমএ) পাশ করবে তাদের জন্য থাকবে এক বছরে ৪ টি বিশেষ প্রশিক্ষণ, যার মাধ্যমে মেয়েরা একজন আদর্শ নারী ও একজন দক্ষ নারী উদ্যোক্তা তৈরী হতে পারবে। প্রশিক্ষণগুলো হলো- ৩ মাস ইংরেজী ভাষা শিক্ষা, ৩ মাস বেসিক কম্পিউটার, ৩ মাস সেলাই এবং শেষ ৩ মাস রান্না শিল্প প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
উপস্থিত সকল অতিথিরা মাদরাসার পরিকল্পনার কথা শুনে খুবই আবেগ আপ্লুত হন ও ভবিষ্যতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সর্বোপরি মাদ্রাসার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও প্রাণবন্ত। পরিশেষে পরিচালকের দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
Reporter Name 












