Dhaka ০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন আত্রাই রেললাইনের পাশে পড়ে ছিল কলেজ অধ্যক্ষের মরদেহ!! হোয়াইক্যং আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন জুনায়েদ আলী চৌধুরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরুপ মেডেল ও সম্মামনা প্রদান ‘লা পুলগা’ থেকে ‘দ্য গোট’ রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো সংসদে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা’ বললেন এমপি আমির হামজা সকল অপকর্মের সমাপ্তি চাই গফরগাঁওয়ে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে রমরমা টিকিট বাণিজ্য

  • Reporter Name
  • সময়: ০৬:৪৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৭৬ Time View

 

রাশেদ নিজাম শাহ,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী): নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে রোগীপ্রতি টিকিটের মূল্য তিন টাকা নির্ধারিত হলেও আদায় করা হচ্ছে ৫-১০ টাকা।

শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। তবে এসব বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা নীল রতন দেব।প্রতি বছর হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট বাবদ বাণিজ্য হচ্ছে লাখ টাকারও বেশি । দীর্ঘদিন এ অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ রোগী ও তাঁর স্বজনদের।

রোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে বহির্বিভাগে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের ভীড়। সেখানে টিকিট বিক্রি করছেন হারবাল এসিস্ট্যান্ট আলমগীর হোসেন। প্রত্যেক রোগীর কাছ থেকে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহার করেন রোগীরা বাধ্য হয়ে তার চাহিদামতো টাকা দিচ্ছেন।

প্রতি টিকিট ৫ টাকা রাখার বিষয়ে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন দুই টাকা খুচরা দেয়া সম্ভব নয় তাই ৫ টাকা করে রাখা হচ্ছে। কেউ আবার ২টাকা ফিরত না নিয়ে চলে যায়।

উপজেলার কেশবা থেকে আসা রোগী ইয়া ইয়া বলেন, ‌‘কাউন্টারে এসে টিকিট চাইলে পাঁচ টাকা দাবি করেন কাউন্টারে থাকা লোকজন। তিন টাকার কথা বললে তিনি আমাকে লাইনের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখেন। বলেন, বেশি কথা বললে টিকিট দেবো না। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ টাকাই দিয়েছি।’

 

চাঁদখানা ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মজিবর রহমান বলেন, আমি ১০ টাকার নোট দিয়েছি আমাকে ৫ টাকা ফেরত দিয়েছে। যদি টিকিটের দাম ৩ টাকা হয় তাহলে কেন ৫ টাকা নিলো। এভাবে টিকিট প্রতি ২ টাকা বেশী নিলে মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হয়। এভাবে বছরে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এসব দেখার কেউ নেই।

আরও পড়ুনঃ  সংসদে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা’ বললেন এমপি আমির হামজা

স্থানীয়রা বলেন,এমনিতে টিকিটের দাম বেশী নিচ্ছে তারপরও আবার রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার। তাদের ব্যবহারে আমরা অসন্তোষ। চাকুরীজীবি নয়, যেন মাস্তান। অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা দাবী জানাই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ শতাধিক রোগী টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখান। মাসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯-১২ হাজার। মাসে ৯ হাজার হিসেবে বছরে টিকিট কাটা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৮ হাজার। সে হিসেবে রোগীপ্রতি ২-৭ টাকা বেশি নিলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ২-৬ লাখ টাকা। এভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। টিকিট বানিজ্যের বিষয়টি এর আগে অনেকবার বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও প্রিন্ট পত্রিকায় নিউজ হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেব বলেন, বহির্বিভাগে টিকিট প্রতি তিন টাকা নেয়ার কথা। যদি টিকিট কাউন্টারে অতিরিক্ত টাকা কেউ নিয়ে থাকে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন

কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে রমরমা টিকিট বাণিজ্য

সময়: ০৬:৪৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

 

রাশেদ নিজাম শাহ,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী): নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে রোগীপ্রতি টিকিটের মূল্য তিন টাকা নির্ধারিত হলেও আদায় করা হচ্ছে ৫-১০ টাকা।

শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। তবে এসব বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা নীল রতন দেব।প্রতি বছর হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট বাবদ বাণিজ্য হচ্ছে লাখ টাকারও বেশি । দীর্ঘদিন এ অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ রোগী ও তাঁর স্বজনদের।

রোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে বহির্বিভাগে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের ভীড়। সেখানে টিকিট বিক্রি করছেন হারবাল এসিস্ট্যান্ট আলমগীর হোসেন। প্রত্যেক রোগীর কাছ থেকে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহার করেন রোগীরা বাধ্য হয়ে তার চাহিদামতো টাকা দিচ্ছেন।

প্রতি টিকিট ৫ টাকা রাখার বিষয়ে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন দুই টাকা খুচরা দেয়া সম্ভব নয় তাই ৫ টাকা করে রাখা হচ্ছে। কেউ আবার ২টাকা ফিরত না নিয়ে চলে যায়।

উপজেলার কেশবা থেকে আসা রোগী ইয়া ইয়া বলেন, ‌‘কাউন্টারে এসে টিকিট চাইলে পাঁচ টাকা দাবি করেন কাউন্টারে থাকা লোকজন। তিন টাকার কথা বললে তিনি আমাকে লাইনের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখেন। বলেন, বেশি কথা বললে টিকিট দেবো না। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ টাকাই দিয়েছি।’

 

চাঁদখানা ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মজিবর রহমান বলেন, আমি ১০ টাকার নোট দিয়েছি আমাকে ৫ টাকা ফেরত দিয়েছে। যদি টিকিটের দাম ৩ টাকা হয় তাহলে কেন ৫ টাকা নিলো। এভাবে টিকিট প্রতি ২ টাকা বেশী নিলে মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হয়। এভাবে বছরে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এসব দেখার কেউ নেই।

আরও পড়ুনঃ  ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই বড় অর্জন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয়রা বলেন,এমনিতে টিকিটের দাম বেশী নিচ্ছে তারপরও আবার রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার। তাদের ব্যবহারে আমরা অসন্তোষ। চাকুরীজীবি নয়, যেন মাস্তান। অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা দাবী জানাই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ শতাধিক রোগী টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখান। মাসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯-১২ হাজার। মাসে ৯ হাজার হিসেবে বছরে টিকিট কাটা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৮ হাজার। সে হিসেবে রোগীপ্রতি ২-৭ টাকা বেশি নিলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ২-৬ লাখ টাকা। এভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। টিকিট বানিজ্যের বিষয়টি এর আগে অনেকবার বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও প্রিন্ট পত্রিকায় নিউজ হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেব বলেন, বহির্বিভাগে টিকিট প্রতি তিন টাকা নেয়ার কথা। যদি টিকিট কাউন্টারে অতিরিক্ত টাকা কেউ নিয়ে থাকে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।