Dhaka ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চাঁদা না দেওয়ায়- মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল মেরে রক্তাক্ত করল প্রবাসীর পিতা-মাতাকে নরসিংদীতে পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ২, মাদকসহ ৪ জন আটক; শিবপুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কালীগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ শিবপুরে লাইসেন্সবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, সিলগালা শিরোমণি বাজারে পাবলিক টয়লেট নির্মাণকাজের উদ্বোধন নবীনগরের বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ভাঙ্গুড়ায় মোবাইল কোর্টের অভিযান, ৬৫টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ কাউখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন কালিয়াকৈরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা, ১৪৯ মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

গলাচিপায় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন নেওয়ার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৬:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৭ Time View

 

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিনা পারভিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, হাজিরা খাতায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকলেও তাঁকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দেখা যায় না।

রিনা পারভিন উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া এবি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (লাইব্রেরিয়ান)। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের স্ত্রী। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি সহকারী শিক্ষক (লাইব্রেরিয়ান) পদে নিয়োগ পান। ২০১৭ সালের ১ মে তিনি এমপিওভুক্ত হন। এর আগে তিনি একই বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিনা পারভিনকে তাঁরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে দেখতে পান না। বিদ্যালয়ের একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। তবে হাজিরা খাতায় তাঁর উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করলে রিনা পারভিন নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব।

বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, বিষয়টি গলাচিপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি।

গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি গলাচিপায় ১১ বছর ধরে কর্মরত আছি। তিনি বিদ্যালয়ে যান না—এ বিষয়টি জানতে পারার পর থেকে গলাচিপা উপজেলায় যত শিক্ষা কর্মকর্তা এসেছেন, প্রত্যেককেই জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

আরও পড়ুনঃ  শিরোমণি বাজারে পাবলিক টয়লেট নির্মাণকাজের উদ্বোধন

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে গিয়ে রিনা পারভিনকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা বলছি যে, মানসিকভাবে আমি প্রস্তুত নই। এ বিষয়ে আমি বক্তব্য না দিলে কেউ দেবে না।’

গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মূলত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। শুধু লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির ওপর নির্ভর করে। তারাই শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়, বেতন দেয় এবং সার্বিক বিষয়ে তদারকি করে। আমরা শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারি।’

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে রিনা পারভিনের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির নথি, হাজিরা খাতা, বেতন-ভাতা গ্রহণের তথ্য এবং বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চাঁদা না দেওয়ায়- মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল মেরে রক্তাক্ত করল প্রবাসীর পিতা-মাতাকে

গলাচিপায় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন নেওয়ার অভিযোগ

সময়: ০৬:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

 

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিনা পারভিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, হাজিরা খাতায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকলেও তাঁকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দেখা যায় না।

রিনা পারভিন উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া এবি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (লাইব্রেরিয়ান)। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের স্ত্রী। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি সহকারী শিক্ষক (লাইব্রেরিয়ান) পদে নিয়োগ পান। ২০১৭ সালের ১ মে তিনি এমপিওভুক্ত হন। এর আগে তিনি একই বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিনা পারভিনকে তাঁরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে দেখতে পান না। বিদ্যালয়ের একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। তবে হাজিরা খাতায় তাঁর উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করলে রিনা পারভিন নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব।

বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, বিষয়টি গলাচিপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি।

গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি গলাচিপায় ১১ বছর ধরে কর্মরত আছি। তিনি বিদ্যালয়ে যান না—এ বিষয়টি জানতে পারার পর থেকে গলাচিপা উপজেলায় যত শিক্ষা কর্মকর্তা এসেছেন, প্রত্যেককেই জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

আরও পড়ুনঃ  শিরোমণি বাজারে পাবলিক টয়লেট নির্মাণকাজের উদ্বোধন

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে গিয়ে রিনা পারভিনকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা বলছি যে, মানসিকভাবে আমি প্রস্তুত নই। এ বিষয়ে আমি বক্তব্য না দিলে কেউ দেবে না।’

গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মূলত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। শুধু লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির ওপর নির্ভর করে। তারাই শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়, বেতন দেয় এবং সার্বিক বিষয়ে তদারকি করে। আমরা শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারি।’

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে রিনা পারভিনের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির নথি, হাজিরা খাতা, বেতন-ভাতা গ্রহণের তথ্য এবং বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।