Dhaka ১০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগীদের দালালের হাতে জিন্মি 🌙 মানব জীবন পত্রিকার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক 🌙 সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য অপরাজয়ের সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান সমাজ ও মানবসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে “ইসলামিক সেবক সম্মাননা” পেলেন মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক প্রবর্তক মোড়ে ছিনতাই, জনতার হাতে আটক সিএনজি চালক শোক সংবাদ কক্সবাজার আয়কর অফিসের সাবেক প্রধান সহকারী মোঃ ছাবের আহমদের দাফন সম্পন্ন প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ গাজা উদ্ধার আত্মহত্যার চেষ্টার পর মারা গেলেন বগুড়ার এএসআই রবিউল ইসলাম
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

চলচ্চিত্র জগতের অবনতি: পারিবারিকভাবে উপভোগ্য ছবির সংকট

 

ফারজানা ইসলাম:

চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির সংস্কৃতি ও সমাজের প্রতিচ্ছবি। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে চলচ্চিত্র জগত অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। পারিবারিকভাবে উপভোগ করার মতো সিনেমার সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।

অতীতের সোনালি দিন

এক সময় বাংলা চলচ্চিত্র ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে হলে গিয়ে দেখার অন্যতম বিনোদন। সুতরাং, জীবন থেকে নেওয়া, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী কিংবা নব্বইয়ের দশকের বেদের মেয়ে জোসনা, কি যে করি, চাঁদনী সবই ছিল পারিবারিক পরিবেশে দেখার মতো ছবি। গল্পে ছিল সমাজ, ভালোবাসা, মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি।

বর্তমানের বাস্তব চিত্র

কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে।সিনেমার গল্পে মৌলিকতার অভাব গান ও দৃশ্যে অশ্লীলতার আধিক্য অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা প্রযুক্তিগত দুর্বলতা এসব কারণে দর্শক পরিবার নিয়ে হলে যেতে সংকোচ বোধ করছেন।সিনেমা হলের সংখ্যাও দ্রুত কমছে। নব্বইয়ের দশকে যেখানে এক হাজারেরও বেশি সিনেমা হল ছিল এখন তা কয়েকশ’তে নেমে এসেছে। ফলে দর্শক প্রযোজক উভয়ের আগ্রহই কমে যাচ্ছে।

 

সমাজ ও সংস্কৃতিতে প্রভাব

♦ চলচ্চিত্রের এই অবনতি সমাজে বহুমুখী প্রভাব ফেলছে।

♦ পরিবার একসাথে সিনেমা দেখার অভ্যাস হারাচ্ছে।

♦ তরুণ প্রজন্ম দেশীয় ছবির পরিবর্তে বিদেশি ওয়েব সিরিজ ও হলিউড-বলিউডের ওপর নির্ভর করছে।

♦ সাংস্কৃতিক পরিচয় হুমকির মুখে পড়ছে।

♦ শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা কর্মসংস্থানের অভাবে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।

গবেষণা বলছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের গল্প ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতাই এই সংকটের মূল কারণ। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সিনেমা হচ্ছে মানুষের সামাজিক আচরণ গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। অথচ বর্তমান চলচ্চিত্রের বেশিরভাগ কনটেন্ট পরিবারে একসাথে বসে দেখার মতো নয়। এর ফলে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে।

সমাধানের পথ

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি পাল্টানো সম্ভব।

1. মানসম্মত গল্প ও সাহিত্য নির্ভর চিত্রনাট্য নির্বাচন।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

2. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষ টেকনিশিয়ান গড়ে তোলা।

3. সরকারি প্রণোদনা ও সেন্সর বোর্ডের কার্যকর পদক্ষেপ।

4. পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন সিনেমা নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া।

5. মাল্টিপ্লেক্স ও আধুনিক সিনেমা হল বাড়ানো।

উপসংহার

চলচ্চিত্র শিল্পের এই অবস্থা উদ্বেগজনক হলেও নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। ইতিহাস সাক্ষী, চলচ্চিত্র বারবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ ও মানসম্মত বিনিয়োগ। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে উপভোগ করার মতো সিনেমা যদি আবার তৈরি হয়, তবে শুধু চলচ্চিত্র শিল্পই নয়, গোটা সমাজ ও সংস্কৃতি নবজাগরণের পথে এগিয়ে যাবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

চলচ্চিত্র জগতের অবনতি: পারিবারিকভাবে উপভোগ্য ছবির সংকট

সময়: ১১:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

 

ফারজানা ইসলাম:

চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির সংস্কৃতি ও সমাজের প্রতিচ্ছবি। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে চলচ্চিত্র জগত অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। পারিবারিকভাবে উপভোগ করার মতো সিনেমার সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।

অতীতের সোনালি দিন

এক সময় বাংলা চলচ্চিত্র ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে হলে গিয়ে দেখার অন্যতম বিনোদন। সুতরাং, জীবন থেকে নেওয়া, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী কিংবা নব্বইয়ের দশকের বেদের মেয়ে জোসনা, কি যে করি, চাঁদনী সবই ছিল পারিবারিক পরিবেশে দেখার মতো ছবি। গল্পে ছিল সমাজ, ভালোবাসা, মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি।

বর্তমানের বাস্তব চিত্র

কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে।সিনেমার গল্পে মৌলিকতার অভাব গান ও দৃশ্যে অশ্লীলতার আধিক্য অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা প্রযুক্তিগত দুর্বলতা এসব কারণে দর্শক পরিবার নিয়ে হলে যেতে সংকোচ বোধ করছেন।সিনেমা হলের সংখ্যাও দ্রুত কমছে। নব্বইয়ের দশকে যেখানে এক হাজারেরও বেশি সিনেমা হল ছিল এখন তা কয়েকশ’তে নেমে এসেছে। ফলে দর্শক প্রযোজক উভয়ের আগ্রহই কমে যাচ্ছে।

 

সমাজ ও সংস্কৃতিতে প্রভাব

♦ চলচ্চিত্রের এই অবনতি সমাজে বহুমুখী প্রভাব ফেলছে।

♦ পরিবার একসাথে সিনেমা দেখার অভ্যাস হারাচ্ছে।

♦ তরুণ প্রজন্ম দেশীয় ছবির পরিবর্তে বিদেশি ওয়েব সিরিজ ও হলিউড-বলিউডের ওপর নির্ভর করছে।

♦ সাংস্কৃতিক পরিচয় হুমকির মুখে পড়ছে।

♦ শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা কর্মসংস্থানের অভাবে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।

গবেষণা বলছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের গল্প ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতাই এই সংকটের মূল কারণ। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সিনেমা হচ্ছে মানুষের সামাজিক আচরণ গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। অথচ বর্তমান চলচ্চিত্রের বেশিরভাগ কনটেন্ট পরিবারে একসাথে বসে দেখার মতো নয়। এর ফলে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে।

সমাধানের পথ

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি পাল্টানো সম্ভব।

1. মানসম্মত গল্প ও সাহিত্য নির্ভর চিত্রনাট্য নির্বাচন।

আরও পড়ুনঃ  🌙 মানব জীবন পত্রিকার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক 🌙

2. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষ টেকনিশিয়ান গড়ে তোলা।

3. সরকারি প্রণোদনা ও সেন্সর বোর্ডের কার্যকর পদক্ষেপ।

4. পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন সিনেমা নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া।

5. মাল্টিপ্লেক্স ও আধুনিক সিনেমা হল বাড়ানো।

উপসংহার

চলচ্চিত্র শিল্পের এই অবস্থা উদ্বেগজনক হলেও নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। ইতিহাস সাক্ষী, চলচ্চিত্র বারবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ ও মানসম্মত বিনিয়োগ। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে উপভোগ করার মতো সিনেমা যদি আবার তৈরি হয়, তবে শুধু চলচ্চিত্র শিল্পই নয়, গোটা সমাজ ও সংস্কৃতি নবজাগরণের পথে এগিয়ে যাবে।