মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের রুপসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ছুটি ছাড়াই হজ কাফেলা নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সৌদি আরব গমনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে দায় এড়ানোর প্রবণতাও দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান একটি হজ এজেন্সির মোয়াল্লেম হিসেবে কাজ করেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার হজ কাফেলা নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছেন। চলতি বছর গত ২৩ এপ্রিল ১৮ জন হাজী নিয়ে সৌদি আরব গমন করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিজন হাজীর বিপরীতে তিনি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পেয়ে থাকেন।
এদিকে এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকারি বা বেসরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে তিনি এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে সানি ফোন রিসিভ করে জানান, “বাবা হজে গেছেন। এজেন্সির সঙ্গে কিছু জটিলতা থাকায় প্রথম ধাপে ১৮ জন হাজী নিয়ে গেছেন। পরে আরও কয়েকজন যাবেন। তবে এবার ছুটি নিয়ে কিছু অফিসিয়াল জটিলতা হয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আর যাবেন না।”
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের ইমো নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর মেলেনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, “প্রধান শিক্ষক স্যার আগেও হজে গিয়েছেন। এবার কোনো লিখিত রেজুলেশন ছাড়াই আমাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। তিনি কবে ফিরবেন, তা জানি না।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, “প্রধান শিক্ষক হজে গিয়েছেন কিনা, তা আমার জানা নেই। হজে যাওয়ার আগে সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। তবে ছুটি দেওয়ার দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “এর আগে তিনি হজে গিয়েছিলেন কিনা জানি না। ছুটি অনুমোদনের দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের। তবে হজে যাওয়ার আগের দিন তিনি একটি আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যা অনুমোদিত হয়নি।”
সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “হজে যেতে শিক্ষকদের ছুটির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসের অনুমোদন লাগে না। এটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অনুমোদন করে। তবে তিনি কোনো হজ এজেন্সিতে চাকরি করেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। কারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্য কোনো চাকরি করার সুযোগ নেই।”
মো. মেহেদী হাসান
ভাঙ্গুড়া, পাবনা।
Reporter Name 

























