জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জামিনে থাকা বঙ্গভবনের সাবেক সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম দাবি করেছেন, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার অভিযোগ, তাকে এ মামলায় ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে।
ছরওয়ারে আলমের দাবি, পুলিশ তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস পরীক্ষা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব ডিভাইস থেকে তার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তের প্রয়োজনে জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চাওয়া হলেও সেগুলো তদন্তকারীদের দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ মামলায় ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ঢাকার একটি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে তদন্তে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
ডিভাইস নিয়ে তদন্তে জটিলতা
মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে কোন কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ডা. শফিকুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি আদালতের মাধ্যমেও ডিভাইসগুলো চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো সেগুলো তদন্তের জন্য পাওয়া যায়নি।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাজিফুল ইসলাম বাবু বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে বাদীপক্ষের কাছে ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক্স কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই সব তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মামলার বাদী মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিভাইস হস্তান্তরের বিষয়ে ডিবির সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি পরিষ্কার হলে তদন্তের জন্য ডিভাইসগুলো দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।
যেভাবে মামলার সূত্রপাত
গত ৩১ জানুয়ারি ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করা হয়।
মামলায় মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
ছরওয়ারে আলম এর আগে আদালতে বলেছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় নিজের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ তদন্তের জন্য দিয়েছেন। হ্যাকিংয়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। পরে আদালত তাকে জামিন দেন।
মামলার তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ডিভাইসের পাশাপাশি হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রযুক্তিগত আলামত সংগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Reporter Name 



























