Dhaka ০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রংপুরে চার হত্যায় ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই দুই আসামির বকশীগঞ্জে মার্কাজ মসজিদ সংলগ্ন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: হোটেলসহ ৮ দোকান পুরে ছাই, নড়াইলে মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা, অ্যাম্বুলেন্স চালক সাগর গ্রেপ্তার ও মেহগনি বাগান থেকে একনলা বন্দুক উদ্ধার ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে সাপাহার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে অস্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপন লাহিড়ীতে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ: মেয়ের বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে টাকা-স্বর্ণ লুটের অভিযোগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর আছে, মানুষ নেই উদ্যোক্তা উন্নয়নে সুনামগঞ্জে সকল ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগ টাকার কাছে বিবেক বিক্রি নয়—সত্য প্রকাশই সাংবাদিকতার দায়িত্ব দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম, চাপের কাছে মাথা নত নয়—সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকদের অঙ্গীকার ডিমলায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

টানা বৃষ্টিতে ভূরুঙ্গামারীতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় কৃষক

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১৩ Time View

মোঃরাহিজুল ইসলাম,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষতি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, অস্বাভাবিক এই বৃষ্টিপাতে নিচু জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বোরো ধান ও ভুট্টা খেতে পানি জমে রয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক ভুট্টা গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে, যা ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বোরো ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বাড়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া পাটশাক, আলু, বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, কচুসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনেকেই জানিয়েছেন, চৈত্র মাসে এত দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাত এর আগে তারা দেখেননি। ফলে অনেক কৃষক এখনো পাট বীজ বপনের জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারেননি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভূরুঙ্গামারীতে ১,৪৮০ হেক্টর জমিতে গম, ১,০৭০ হেক্টরে ভুট্টা, ১,০৭০ হেক্টরে সবজি এবং ১৬,৪৮৫ হেক্টরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হেক্টর জমির ভুট্টা হেলে পড়েছে এবং প্রায় ২ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক এরশাদ আলী বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে ঝড়ো হাওয়ায় গাছগুলো হেলে পড়েছে। এখন আশানুরূপ ফলন পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি।”অন্য কৃষক মোজাফফর হোসেন বলেন, “আগেই আলু উৎপাদনে খরচ উঠাতে পারিনি। তার ওপর ঝড়, শিলা ও টানা বৃষ্টিতে বেগুন, পাটশাক, করলা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের কৃষক সুররত আলী জানান, “ধানক্ষেতে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। এতে আমার আবাদকৃত ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  প্যাকেট চিনির সংকট, কেজিতে দাম বেড়েছে আরও ৫ টাকা

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। তবে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে পাট বীজ এবং ৫০০ জন কৃষককে আউশ ধানের বীজ প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন প্রণোদনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রংপুরে চার হত্যায় ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব নেই দুই আসামির

টানা বৃষ্টিতে ভূরুঙ্গামারীতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় কৃষক

সময়: ০৯:০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মোঃরাহিজুল ইসলাম,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে মৌসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষতি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, অস্বাভাবিক এই বৃষ্টিপাতে নিচু জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বোরো ধান ও ভুট্টা খেতে পানি জমে রয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক ভুট্টা গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে, যা ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বোরো ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বাড়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া পাটশাক, আলু, বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, কচুসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। অনেকেই জানিয়েছেন, চৈত্র মাসে এত দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাত এর আগে তারা দেখেননি। ফলে অনেক কৃষক এখনো পাট বীজ বপনের জন্য জমি প্রস্তুত করতে পারেননি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভূরুঙ্গামারীতে ১,৪৮০ হেক্টর জমিতে গম, ১,০৭০ হেক্টরে ভুট্টা, ১,০৭০ হেক্টরে সবজি এবং ১৬,৪৮৫ হেক্টরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ হেক্টর জমির ভুট্টা হেলে পড়েছে এবং প্রায় ২ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক এরশাদ আলী বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে ঝড়ো হাওয়ায় গাছগুলো হেলে পড়েছে। এখন আশানুরূপ ফলন পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি।”অন্য কৃষক মোজাফফর হোসেন বলেন, “আগেই আলু উৎপাদনে খরচ উঠাতে পারিনি। তার ওপর ঝড়, শিলা ও টানা বৃষ্টিতে বেগুন, পাটশাক, করলা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের কৃষক সুররত আলী জানান, “ধানক্ষেতে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। এতে আমার আবাদকৃত ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।”

আরও পড়ুনঃ  প্যাকেট চিনির সংকট, কেজিতে দাম বেড়েছে আরও ৫ টাকা

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। তবে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে পাট বীজ এবং ৫০০ জন কৃষককে আউশ ধানের বীজ প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমন প্রণোদনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।