Dhaka ০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কালীগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপিকে এমপি মিলনের দিকনির্দেশনা নরসিংদীর গর্ব হাতবিহীন “দুঃখু মিয়া ” অদম্য মনোবলে জ্বালিয়েছেন শিক্ষার আলো” শিক্ষক, শিক্ষিকা করে মাদক ব্যবসা শ্রীপুরে জমি দখলের চেষ্টা, ঈদগাহ মাঠের সাইনবোর্ড ভাঙচুরের অভিযোগ সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে সরকার: এমপি ফজলুল হক মিলন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বান্দরবান সেনা জোনের আর্থিক অনুদান প্রদান: সম্প্রীতি, মানবিকতা ও জনকল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মহপরিচালক বরাবর পলাশবাড়ী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার দূর্ণীতির অভিযোগকারীকে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর অভিযোগ আদমদীঘিতে দুর্গাপূজা মণ্ডপে আর্থিক সহায়তা ও সিসিটিভি ক্যামেরা দিলেন এমপি মহিত ঝিনাইদহে সাইবার সেলের অভিযানে ১০৪ মোবাইল ও ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার যে উস্তাদ শিখিয়েছেন কোরআন, সেই উস্তাদকেই ওমরাহর উপহার দিলেন ছাত্ররা”
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

প্যাকেট চিনির সংকট, কেজিতে দাম বেড়েছে আরও ৫ টাকা

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩ Time View

 

বাজারে সরবরাহ সংকটের মধ্যে খোলা চিনির দাম আরও বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি খোলা চিনির দাম প্রায় ১৫ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে শুধু গত এক সপ্তাহেই বেড়েছে ৫ টাকা। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দরে।

অন্যদিকে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মোড়কজাত বা প্যাকেট চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ায় কয়েকটি দোকান ঘুরেও পণ্যটি পাচ্ছেন না অনেক ক্রেতা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেড বাজার ও টাউন হল বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কমেছে সরবরাহ, বেড়েছে দাম

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। একই সঙ্গে মিলগেট থেকে আগের তুলনায় সরবরাহও কমেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে চিনির উৎপাদন কমেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে চিনি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ সংকটের মধ্যেই গত দুই সপ্তাহে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি চিনির দাম প্রায় ১৫ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর তিনটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই খোলা চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বেশির ভাগ দোকানে মোড়কজাত চিনিরও সংকট রয়েছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ১০টি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে মাত্র তিনটি দোকানে প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া গেছে। খোলা চিনি পাওয়া গেছে ছয়টি দোকানে।

৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ৬৫০ টাকা

বেশির ভাগ খুচরা দোকানে খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহেও খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে একই চিনি পাওয়া গেছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়।

আরও পড়ুনঃ  তাজমীন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সুমনকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য, জঙ্গলে মিলল স্কুলছাত্রীর আইফোন

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারী বলেন, গত দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম প্রায় ৬৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এক বস্তা চিনি কিনতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।

প্যাকেট চিনির সংকটে ভোগান্তিতে ক্রেতারা

বাজারের কোনো কোনো দোকানে মোড়কজাত লাল চিনি পাওয়া গেলেও এর দাম তুলনামূলক বেশি। কেজিপ্রতি এ ধরনের চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে।

সাকিব ইমাম নামে এক বিক্রেতা বলেন, এক ক্রেতা প্যাকেট চিনি চাইলেও তিনি দিতে পারেননি। পরে পাশের দোকান থেকে ১১৫ টাকা দিয়ে খোলা চিনি এনে দিয়েছেন।

টাউন হল বাজারের এক মুদিদোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে খোলা চিনির দাম প্যাকেটজাত চিনির চেয়েও বেশি। এ কারণে কিছু দোকানি প্যাকেটজাত চিনি খুলে খোলা হিসেবে বিক্রি করছেন।

তার অভিযোগ, কিছু দোকানে প্যাকেট চিনি মজুত থাকলেও তা বিক্রি না করে ক্রেতাদের ‘নেই’ বলে জানানো হচ্ছে।

পাঁচ দোকান ঘুরেও মেলেনি প্যাকেট চিনি

চিনির সরবরাহ কমে যাওয়া ও দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার টাউন হল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা তাজমহল রোডের বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম বলেন, এক প্যাকেট চিনি কেনার জন্য পাঁচটি দোকান ঘুরেছেন। কোথাও প্যাকেট চিনি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খোলা চিনি কিনেছেন। তবে সেটিও ১৫ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারখানায় উৎপাদন কমে গেলেই কেন বাজারে চিনির দাম এতটা বেড়ে যাবে।

আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা

ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ সংকট কাটিয়ে বাজারে চিনির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্যাকেটজাত চিনির সংকট অব্যাহত থাকলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কালীগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপিকে এমপি মিলনের দিকনির্দেশনা

প্যাকেট চিনির সংকট, কেজিতে দাম বেড়েছে আরও ৫ টাকা

সময়: ১১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

বাজারে সরবরাহ সংকটের মধ্যে খোলা চিনির দাম আরও বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি খোলা চিনির দাম প্রায় ১৫ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে শুধু গত এক সপ্তাহেই বেড়েছে ৫ টাকা। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দরে।

অন্যদিকে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মোড়কজাত বা প্যাকেট চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ায় কয়েকটি দোকান ঘুরেও পণ্যটি পাচ্ছেন না অনেক ক্রেতা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেড বাজার ও টাউন হল বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কমেছে সরবরাহ, বেড়েছে দাম

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। একই সঙ্গে মিলগেট থেকে আগের তুলনায় সরবরাহও কমেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে চিনির উৎপাদন কমেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে চিনি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ সংকটের মধ্যেই গত দুই সপ্তাহে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি চিনির দাম প্রায় ১৫ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর তিনটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই খোলা চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বেশির ভাগ দোকানে মোড়কজাত চিনিরও সংকট রয়েছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ১০টি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে মাত্র তিনটি দোকানে প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া গেছে। খোলা চিনি পাওয়া গেছে ছয়টি দোকানে।

৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ৬৫০ টাকা

বেশির ভাগ খুচরা দোকানে খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহেও খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে একই চিনি পাওয়া গেছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়।

আরও পড়ুনঃ  ‘আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন’, সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ ওমর সানী

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারী বলেন, গত দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম প্রায় ৬৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এক বস্তা চিনি কিনতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।

প্যাকেট চিনির সংকটে ভোগান্তিতে ক্রেতারা

বাজারের কোনো কোনো দোকানে মোড়কজাত লাল চিনি পাওয়া গেলেও এর দাম তুলনামূলক বেশি। কেজিপ্রতি এ ধরনের চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে।

সাকিব ইমাম নামে এক বিক্রেতা বলেন, এক ক্রেতা প্যাকেট চিনি চাইলেও তিনি দিতে পারেননি। পরে পাশের দোকান থেকে ১১৫ টাকা দিয়ে খোলা চিনি এনে দিয়েছেন।

টাউন হল বাজারের এক মুদিদোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে খোলা চিনির দাম প্যাকেটজাত চিনির চেয়েও বেশি। এ কারণে কিছু দোকানি প্যাকেটজাত চিনি খুলে খোলা হিসেবে বিক্রি করছেন।

তার অভিযোগ, কিছু দোকানে প্যাকেট চিনি মজুত থাকলেও তা বিক্রি না করে ক্রেতাদের ‘নেই’ বলে জানানো হচ্ছে।

পাঁচ দোকান ঘুরেও মেলেনি প্যাকেট চিনি

চিনির সরবরাহ কমে যাওয়া ও দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার টাউন হল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা তাজমহল রোডের বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম বলেন, এক প্যাকেট চিনি কেনার জন্য পাঁচটি দোকান ঘুরেছেন। কোথাও প্যাকেট চিনি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খোলা চিনি কিনেছেন। তবে সেটিও ১৫ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কারখানায় উৎপাদন কমে গেলেই কেন বাজারে চিনির দাম এতটা বেড়ে যাবে।

আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা

ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ সংকট কাটিয়ে বাজারে চিনির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্যাকেটজাত চিনির সংকট অব্যাহত থাকলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলাম এবং মুসলমানের পরিচয়