
চট্টগ্রাম থেকে বাবুল বড়ুয়া:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বয়ান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হয়। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে অসহায় মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয় সংগঠনটির একটি ত্রাণ টিম।

একটানা দুই থেকে তিন দিন প্রবল বৃষ্টির কারণে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রতিকূল আবহাওয়া ও যাতায়াতের নানা বাধা অতিক্রম করে ত্রাণসামগ্রী ক্রয়, দুর্গম এলাকায় কুপন পৌঁছে দেওয়া, নির্ধারিত সময়ে উপকারভোগীদের একত্রিত করা এবং খাদ্যসামগ্রী প্যাকেটজাত করার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
বন্যায় সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবার বাছাই করে তাদের প্রত্যেকের হাতে প্রায় ২ হাজার টাকা মূল্যের খাদ্যসামগ্রীর একটি করে প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি প্যাকেটে প্রায় ১০ থেকে ১৪ দিনের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী রাখা হয়।
প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রস্তুত করা খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি রসুন, ১ কেজি চিনি, ৫০০ গ্রাম গুঁড়ো দুধ, ঘামাচি পাউডারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ত্রাণ কার্যক্রমের পরিধি প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত থাকলেও দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দিতে সক্ষম হওয়ায় আয়োজকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। বন্যার এই কঠিন সময়ে সামান্য হলেও অসহায় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বন্যা ত্রাণ প্রকল্প ২০২৬-এর আওতায় পরিচালিত এ মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতায় ছিল রওদা মসজিদ, অর্থায়নে শেখ তারিক ও ভাই হামজা এবং তত্ত্বাবধানে ছিলেন শেখ আবদুল মতিন আজহারী। আর পুরো ত্রাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে বয়ান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।
এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগীতার জন্য মুফতি নিজাম বিন মুহিব ও মুফতি মুহাম্মদ আলীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাজানানো হয়।

Reporter Name 




























