
অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান,
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের পর আবারও আলোচনায় এসেছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোর নিরাপত্তা ইস্যু। ঢাকার অতি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থাপনাও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় থাকলেও, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু ঢাকা মেডিকেলই নয়, দেশের আরও বহু সরকারি ভবন, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও নিষ্ক্রিয় প্রশাসন: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ঢাকার ৬ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে, এর মধ্যে ৩২১টি ভবন অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
রাজউক এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে নিজেদের মধ্যে দায় চাপিয়ে সময় পার করছে, ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে।ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়ছে।ত্রুটিপূর্ণ নকশা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও বহু বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে এসব ভবন আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
উচ্চ আদালতের ক্ষোভ,রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ইস্যুতে নিষ্ক্রিয়তার জন্য হাইকোর্ট সম্প্রতি রাজউকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আদালত এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভবনের দুর্বলতা ও ঝুঁকির কারণ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ভবনগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা বাড়ছে এবং ভূমিকম্প সহনশীলতা কমে যাচ্ছে।অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপ্রশস্ত রাস্তা ও প্রয়োজনীয় উন্মুক্ত জায়গার অভাব উদ্ধার তৎপরতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে অনেক এলাকার মাটি নরম হয়ে যাচ্ছে, যা ভূমিকম্পের সময় ভবনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
সরকারের করণীয়:ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অবিলম্বে চিহ্নিত করে সংস্কার বা ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিতে হবে।বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে এবং তদারকি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
জনসাধারণকে দুর্যোগ: মোকাবিলায় সচেতন ও প্রস্তুত করার জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত: নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না”। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনসারী বলেছেন,”ভূমিকম্পে মানুষ মারা যায় না, দুর্নীতি, অবহেলা ও দুর্বল ভবনের কারণেই মানুষ মারা যায়”।
জনমনে উদ্বেগ: ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে বসবাসকারী এবং সেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রোগীর সেবা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
দৈনিক মানবজীবন
Reporter Name 






















